Monday, August 13, 2012

টিকিট চাই, টিকিট নাই


টিকিট চাই, টিকিট নাই !!!!!!!!!!!
 
দীপংকর গৌতম:

   ছবি : রুপম ভট্টাচার্য্য


বাড়ি ফেরা মানে রীতিমতো যুদ্ধ । মানুষ বাড়ছে প্রতিদিন । ওই হারে বাড়ছেনা পরিবহন । ফলে বাড় ফেরা মানুষের দুর্গতি প্রতিবছর একই রকম থেকে যায় । এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি ।
ঈদকে সামনে রেখে এবার একটু আগেভাগেই শুরু হয়েছে বাড়ি ফেরা। ইতিমধ্যে টিকিট হাওয়া । কিছু মানুষ হয়তো আগে ভাগে টিকিট কেটে রেখেছে । কিন্তু দেখা যাবে লক্ষ মানুষ টিকিট কাটেনি । তারা কি করবে?

রাজধানী থেকে ঘরমুখো মানুষের মূল স্রোত শুর“ হবে আরো কয়েকদিন পর থেকে। কিন্তু বাড়ি ফেরা নিয়ে দুশ্চিš—ার অš— নেই। রাজধানী থেকে বের হওয়ার পথ যাত্রাবাড়ী, গাবতলীসহ বিভিন্ন পয়েন্ট এখনো ¯^াভাবিক ও যানজটমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে এখনো যাত্রীরা টিকিট পাওয়ার প্রাণাš— চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরও বড় একটি অংশের মানুষ টিকিট পাবে না ।                                 

সার্বিক পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবহন সংকট, টিকিট সংকট আর তীব্র যানজটে ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ এবারও ফিকে হয়ে যাবে। 

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন,  ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য যাত্রীরা টিকিট বেশি কিনেছেন ১৪ থেকে ১৮আগস্টের। এই তিন দিন তাই যাত্রীর চাপ থাকবে বেশি। যানজট দীর্ঘ হলে বাস ও মিনিবাসের ট্রিপ সংখ্যা কমে যায়। বেড়ে যায় যাত্রীদের দুর্ভোগ।
ঈগল পরিবহনের চেয়ারম্যান অশোক রঞ্জন কাপুড়িয়া বলেন, এবার ছুটি বেশি। তাই কেবল একনাগাড়ে কয়েক দিন বাসে যাত্রীর চাপ থাকবে না। ধীরে ধীরে যাত্রীরা যাবে বিভিন্ন দিনে। তবে ১৪, ১৫ ,১৬ ,১৭ ও১৮আগস্টের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে গত বৃহস্পতিবারই । বাকি যাত্রিরা কীভাবে বাড়ি যাবে? এ প্রশ্ন নীলফামারীর যাত্রি নীলুফার বেগমের ।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক খায়র“ল বশীর জানান, ঈদে এবার ৪৩ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে। কিন্তু চাহিদা আরো বেশি। এ কারণেই বহু যাত্রী টিকিট না পেয়ে ফিরে গেছে। এসব যাত্রীরা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঈদ করবে না? এ চিত্র প্রতি বছরের । এবারও সে ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটবে ।
সায়েদাবাদ, গাবতলী বাস টার্মিনাল ও নগরীর বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে টিকিট প্রার্থীদের ভিড় লেগেই আছে। থাকবে ঈদের পরের দিন অবধি । বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন ফিটনেসবিহীন গাড়ি প্রায় ৮০ হাজার। এর বাইরেও র“ট পারমিটহীন গাড়ি রয়েছে অসংখ্য। রাজধানীতে চলাচল নিষিদ্ধ ৮০ হাজার ফিটনেসবিহীন গাড়ি রা¯—ায় নামানোর প্র¯—ুতি সম্পন্ন। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপ¶ (বিআরটিএ) নির্বিকার রয়েছে। এ ব্যাপারে বিআরটিএর প¶ থেকে দেখভালের কোনো ব্যবস্থাই নেই। বিআরটিএ চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান খান বলেন, আমরা ফিটনেসবিহীন গাড়ির তালিকা পুলিশের কাছে দিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবে। এসব গাড়িতেও চড়ামূল্য দিয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে মৃত্তিকা ও ¯^জনের মায়ায় গ্রামের উদ্দেশে ছুটবে মানুষ । ফিটনেসহীন গাড়ি লোক ভর্তি করার পরেও সব মানুষ গ্রামে যেতে পারবে না । পারবে না ¯^জনের সঙ্গে ঈদ করতে । আমাদের পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে বড় উৎসবে বিশেষ পরিবহন রা¯—ায় নামে ।উৎসবে অপূর্ণতা থাকে না । অতটুকু পথ যেতে আমদের কতকাল অপে¶া করতে হবে?

No comments: