এম এ বাবর:
ঈদের ছুটি সবচেয়ে বেশি আনন্দ উপভোগ করেছে যেন শিশু-কিশোররা। এ সময় রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্র গুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
ঈদের দিন নামাজ আদায়ের পর নতুন জামা-কাপড় পরে পরিবার-পরিজন বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার মজা ছিল যথারীতি। মেঘলা আকাশ আর মাঝে মধ্যেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি রাজধানীবাসীকে ঘুরে বেড়ানো থেকে বিরত রাখতে পারেনি।
ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই নগরীর পার্কগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা । শিশু, কিশোর, তরুণ, মধ্যবয়সী, বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষই বেরিয়ে পড়েন নগর ও আশপাশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোর উদ্দেশে।
ঈদের দিন বিকালে শিশুপার্কে ভিড় মোটামুটি থাকলেও সন্ধ্যার মধ্যেই অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। তবে পরের দিন এবং গতকাল বিকালেও বিনোদন স্থানগুলোতে নামে মানুষের ঢল। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঢুকতে হয়েছে সব শ্রেণীর মানুষকে। এর আগে টিকিট কাটতেও দিতে হয়েছে আরেক দফা লম্বা লাইন। অনেক কষ্ট করে ভিড় ঠেলে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পার্কের ভেতরে ঢোকার পর দেখা যায়, সেখানে বলতে গেলে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
বরাবরের মতো এবারও ঈদের পরের দিন ঢাকার রাজপথে বের হয় ঢাকাবাসী আয়োজিত পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঈদ আনন্দ মিছিল। রঙ বেরঙের পোস্টার, ফেস্টুন, বেলুন, ব্যানার, ঘুড়ি হাতে, শিশু-কিশোররা বর-কনে, সাপুড়েসহ বহুরূপী সাজে সজ্জিত হয়ে ও আবদুুল কাদেরের বীণ, জুম্মন মিয়া ও সামাদ মিয়ার কাশিদা, কালাচাঁনের ব্যান্ড বাজানোর মধ্য দিয়ে বের হয় পুরান ঢাকার অধিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী এই ঈদ আনন্দ মিছিল। এছাড়া ঈদের পরের দিন বিকাল সাড়ে ৩টায় দেবীদাসঘাট সমাজকল্যাণ সংসদ চকবাজারে ও নগরবাসী সংগঠন কায়েতটুলীতে পৃথক দুটি ঈদ আনন্দ মিছিল বের করে।
শিশুপার্কের পাশে রমনা পার্ক, জাতীয় জাদুঘরেও দুপুরের পর থেকে ছিল বিপুল মানুষের সমাগম। বেইলি রোডের দুই ধারের ফুটপাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি ও চারুকলার সামনের রাস্তালোতেও ঘুওে বেড়িয়েছেন অসংখ্য মানুষ।
চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন, শিশুমেলা, নন্দনপার্ক, ফ্যান্টাসি কিংডম, ধানমন্ডি ও সায়েদাবাদের ওয়ান্ডারল্যান্ড, সংসদ ভবন চত্বর, শেরেবাংলা নগরের ক্রিসেন্ট লেক, ধানমন্ডির লেক, চন্দ্রিমা উদ্যান, আশুলিয়া, সাভার স্মৃতিসৌধ, ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, বুড়িগঙ্গা ব্রিজ, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারসহ রাজধানীর সব বিনোদন স্থান ও স্থাপনাতেই লোক সমাগম ছিল অনেক। ঢাকার বাইরে সাভার স্মৃতিসৌধ ও আশুলিয়ায়ও গিয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ ঘণ্টা হিসেবে ঘুরেছেন রিকশা ও ঘোড়ার গাড়ি চড়ে।

No comments:
Post a Comment