Thursday, August 23, 2012

আনন্দমুখর পরিবেশে সারাদেশে ঈদ উদযাপন


এম এ বাবর:
এক মাস সিয়াম সাধনার পর সোমবার সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। আর ঈদ আনন্দে মেতে ছিল দেশ। 

     
মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এদিনে প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ঘরে পৌঁছে দিয়েছে আনন্দের বারতা। সকালে ছোট-বড়, ধনী- গরিব, আপন-পর সব ভেদাভেদ ভুলে ঈদগাহে ঈদের নামাজ পরতে যায়। নামাজশেষে ধীরে ধীরে শুরু হয় পারিবারিক ও সামাজিক দেখা-সা¶াৎ ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় পর্ব।

রাজধানীতে ঈদের প্রধান ও বৃহত জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায় সুপ্রিমকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এ জামাতের ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ। আর প্রতিবারের মত এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। প্রায় চার লাখ মুসলিম এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
রাজধানীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জামাত অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায়। এ জামাতর ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। এছাড়া এখানে সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১১টায় আরও চারটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের দিন রাজধানীতে ভোররাত থেকে বৃষ্টি হয়েছে। তবুও ঈদের নামাজে অংশ নিতে ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে মুসল্লিরা জাতীয় ঈদগাহে আসতে থাকেন। একপর্যায়ে নামাজ শুরুর আগে আগে বৃষ্টি  বেড়ে যায়। বৃষ্টিতে ভিঁজেও হাজার হাজার মুসল্লি পাশের হাইকোর্ট এলাকা ছাড়িয়ে পাশের রাস্তায় নামাজ আদায় করেন। 

এবারও জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ও বায়তুল মোকাররম মসজিদে মহিলাদের নামাজ আদায় করার জন্য পৃথক ও বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে মূল জামাতের পাশেই পর্দা দিয়ে মহিলাদের জন্য ঈদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা করা হয়।

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে নামাজ আদায় রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ ও শি¶ামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়া এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ বিচারপতি, ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন মুসলিম দেশের ক‚টনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।

নামাজ শেষে বিশ্বের মানুষের সুখ, শান্তি, ¯^স্তি আর আখেরাতের মুক্তি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সেই সঙ্গে বিশ্ব শান্তিসহ দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও সংহতি কামনা করা হয়। 

এছাড়া একই সময়ে জাতীয় সংসদের দ¶িণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। সেখানকার জামাতে স্পিকার মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট, ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, প্রধানমন্ত্রীর শি¶া, সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, সংসদের হুইপবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। পরে স্পিকার আগত মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

বাংলাদেশ জমিয়তে আহলে হাদিসের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠেও একটি বিশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সব মিলিয়ে রাজধানীতে এবার ৩৬১টি ঈদের জামাতে মুসল্লিরা নির্বিঘেœ নামাজ আদায় করেন।

ঈদ উপল¶ে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা দেশের সার্বিক কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করেছেন।

এছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, বিকল্পধারার সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ চেয়ারম্যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি অলি আহমেদ, সাবেক এমপি আ. স. ম. আবদুর রবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। সেই সঙ্গে তারা মুসলিম উম্মাহর প্রতি সংহতিও প্রকাশ করেন।

এছাড়া ঈদুল ফিতর উপল¶ে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান বঙ্গভবনে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ইস্কাটন লেডিস ক্লাবে রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের ক‚টনীতিক ও বিভিন্ন  শ্রেণীর-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ঈদুল ফিতর উপল¶ে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট সংবাদপত্রগুলোতে ছিল ঈদের ছুটি। এ কারণে ১৯ আগস্ট থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত কোন সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়নি। 
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপল¶ে ঈদের আগেই সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ‘ঈদ সংখ্যা’ প্রকাশ করে। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতার কেন্দ্রগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। 

ঈদ উপল¶ে বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয় ও হাইকোর্টসহ নগরীর প্রধান প্রধান ভবন ও রাজপথ আলোকসজ্জিত করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বাংলা ও আরবিতে ‘ঈদ মোবারক’ ও ‘কলেমা তাইয়্যেবা’ খচিত ব্যানারে সাজানো হয় রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক। হাসপাতাল, এতিমখানা ও কারাগারে পরিবেশন করা হয় উন্নত মানের খাবার। কেন্দ্রীয় কারাগারসহ সব কারাগারে কয়েদিদের জন্য আলাদা জামাতেরও ব্যবস্থা করা হয়।

No comments: