মানবজমিন ডেস্ক:
বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট ও প্রাচীন পুণ্ড্রনগরী মহাস্থানগড় হুমকির মুখে পড়েছে। আশপাশে বসবাসকারী মানুষ পৃথিবীর অন্যতম পুরাতন খ্যাতিমান শহরটির ইট খুলে নিয়ে যাচ্ছে নিজেদের ঘর তৈরির জন্য। অনেকে আবার বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করে বিক্রি করে দিচ্ছে। এছাড়াও অবৈধ অনুপ্রবেশ ও স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করায় আড়াইহাজার বছরের পুরাতন শহরটি হারাতে বসেছে তার সৌন্দর্য ও পর্যটক আকর্ষণ। মহাস্থানগড় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দৈনিক আরব নিউজ। এতে বলা হয়, এক সময় চীন ও তিব্বতের সন্ন্যাসীদের কাছে আকর্ষণীয় শিক্ষাকেন্দ্র ছিল মহাস্থানগড়। মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা প্রাচীন এই প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটটি ১৮৭৯ সালে আবিষ্কার করেন বৃটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক আলেকজান্ডার কানিংহাম। এর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে বোঝা যায় খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দিতে গোড়াপত্তন হয় শহরটির। চতুর্থ থেকে সপ্তম শতাব্দি পর্যন্ত এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় শহর। সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে সোনালী সময় পার করেছে বর্তমানে মহাস্থানগড় হিসেবে পরিচিত প্রাচীন পুণ্ড্রনগরী। কিন্তু পঞ্চাশ বছর আগ থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় বগুড়া জেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটটিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও বসবাস শুরু হয়। আর বসবাস করতে আসা অনেকেই নিজেদের ঘর তৈরি করেন নগরীটির মূল্যবান ইট চীনামাটি খুঁড়ে নিয়ে। মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ থেকে ইট ও চীনা মাটি খুঁড়ে নিয়ে কমপক্ষে ১শ’ বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। এমন একজন বাসিন্দা আবদুস সাত্তার (৩৮)। তিনি তার তিন রুমের ঘরটি বানিয়েছেন সম্পূর্ণরূপে মহাস্থানগড়ের ইট ও বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে। আবদুস সাত্তার বলেছেন, আমি মাটি খনন করে ইট পেয়েছি। সেগুলো আমার ঘর তৈরিতে ব্যবহার করেছি। আরব নিউজ জানিয়েছে, তিন রুমের সব দেয়ালের ইটই পুরনো ও প্রাচীন দেখেছেন প্রতিবেদক। এছাড়াও কমপক্ষে ৫শ’ বসতি তৈরি করা হয়েছে মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ভেতরে। যার কারণে পর্যটক আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছে এককালের আকর্ষণীয় শহরটি।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট ও প্রাচীন পুণ্ড্রনগরী মহাস্থানগড় হুমকির মুখে পড়েছে। আশপাশে বসবাসকারী মানুষ পৃথিবীর অন্যতম পুরাতন খ্যাতিমান শহরটির ইট খুলে নিয়ে যাচ্ছে নিজেদের ঘর তৈরির জন্য। অনেকে আবার বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করে বিক্রি করে দিচ্ছে। এছাড়াও অবৈধ অনুপ্রবেশ ও স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করায় আড়াইহাজার বছরের পুরাতন শহরটি হারাতে বসেছে তার সৌন্দর্য ও পর্যটক আকর্ষণ। মহাস্থানগড় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দৈনিক আরব নিউজ। এতে বলা হয়, এক সময় চীন ও তিব্বতের সন্ন্যাসীদের কাছে আকর্ষণীয় শিক্ষাকেন্দ্র ছিল মহাস্থানগড়। মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা প্রাচীন এই প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটটি ১৮৭৯ সালে আবিষ্কার করেন বৃটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক আলেকজান্ডার কানিংহাম। এর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে বোঝা যায় খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দিতে গোড়াপত্তন হয় শহরটির। চতুর্থ থেকে সপ্তম শতাব্দি পর্যন্ত এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় শহর। সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে সোনালী সময় পার করেছে বর্তমানে মহাস্থানগড় হিসেবে পরিচিত প্রাচীন পুণ্ড্রনগরী। কিন্তু পঞ্চাশ বছর আগ থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় বগুড়া জেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটটিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও বসবাস শুরু হয়। আর বসবাস করতে আসা অনেকেই নিজেদের ঘর তৈরি করেন নগরীটির মূল্যবান ইট চীনামাটি খুঁড়ে নিয়ে। মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ থেকে ইট ও চীনা মাটি খুঁড়ে নিয়ে কমপক্ষে ১শ’ বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। এমন একজন বাসিন্দা আবদুস সাত্তার (৩৮)। তিনি তার তিন রুমের ঘরটি বানিয়েছেন সম্পূর্ণরূপে মহাস্থানগড়ের ইট ও বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে। আবদুস সাত্তার বলেছেন, আমি মাটি খনন করে ইট পেয়েছি। সেগুলো আমার ঘর তৈরিতে ব্যবহার করেছি। আরব নিউজ জানিয়েছে, তিন রুমের সব দেয়ালের ইটই পুরনো ও প্রাচীন দেখেছেন প্রতিবেদক। এছাড়াও কমপক্ষে ৫শ’ বসতি তৈরি করা হয়েছে মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ভেতরে। যার কারণে পর্যটক আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছে এককালের আকর্ষণীয় শহরটি।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, খুব
শিগগিরই সেখানে পর্যটকদের জন্য দেখার কিছুই থাকবে না। যেভাবে অবৈধভাবে
বসবাসকারীদের দ্বারা ধ্বংস ও লুট চলছে শৈল্পিক নিদর্শনগুলোর তাতে করে হাজার
বছর পুরনো প্রত্নতাত্ত্বিক নগরটি হয়তো বেশিদিন টিকবে না। এ বছরের মে মাসে
গ্লোবাল হেরিটেজ ফান্ড মহাস্থানগড়কে এশিয়ার সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়া
১০টি প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটের একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে। যা সংস্কার অযোগ্য ও
ধ্বংসের মুখোমুখি রয়েছে। এ বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশের আদালত সাত্তারের
মতো অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এক আদেশ দেন। এতে করে তাদেরকে উচ্ছেদ করা শুরু
হলেও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এখনও পর্যন্ত যে ক্ষতি হয়ে গেছে যা সংস্কারযোগ্য
নয়। গ্রামবাসী এমনভাবে কিছু ধ্বংসাবশেষ নষ্ট করে ফেলেছে যে, দেখে বোঝা যায়
না প্রকৃতপক্ষে এটা কি ছিল। কিছু ঢিবি ও নিদর্শন সেটা মানচিত্রের সূচিতেই
উল্লেখ আছে। বাস্তবে তার কোন কিছু পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সরকারি
প্রত্নতাত্ত্বিক কুকোর সাবেক প্রধান শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, আদালতের
নির্দেশ সত্ত্বেও গ্রামবাসী চীনা মাটি ও ইট চুরি অব্যাহত রেখেছে। সাইটটিকে
ধ্বংস করে বিক্রির জন্য দামি দামি নিদর্শনগুলো চুরি করছে। মহাস্থানগড়ের
বর্তমান প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক শফিকুজ্জামান বলেছেন, কর্তৃপক্ষ কঠোর
উদ্যোগ নেয়ার আগেই এখানে বসতি গড়ে উঠেছে। আরও আগে ব্যবস্থা নিতে পারলে অনেক
দামি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষা করা সম্ভব হতো। তবে মহাস্থানগড়ের
বর্তমান বাসিন্দারা মনে করছেন, তারা অবৈধ নয় এবং তাদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ
করা হচ্ছে। আবদুস সাত্তার বলেছেন, তার তিন সন্তান এখানে জন্মেছে। তাকে
নিজের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের মিথ্যা ভয় দেখানো হচ্ছে। তার দাবি, যদি অবৈধই
হবেন তবে কেন প্রথমে কর্তৃপক্ষ তাদেরকে এখানে বসতি করতে দিয়েছে। যারা বসবাস
করছে ও এখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী দিয়ে বাড়ি তৈরি করেছে তাদের দাবি
এটা চুরি নয়। সর্বত্রই এগুলো পড়ে থাকে। কেউই তাদেরকে নিষেধ করে না এগুলো
ব্যবহার করতে। এখানে বসবাসকারী পরিবারগুলো ভারি বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন ধরনের
পাথর, পুঁথি ও কয়েন কুড়িয়ে পায়। এটা অনেক অনিঃশেষ সম্পদের মতো। যা কখনোই
শেষ হবে না বলেছেন আবদুস সাত্তার।
http://www.mzamin.com/details.php?nid=MTkyODM=&ty=MA==&s=MjE=&c=MQ==
No comments:
Post a Comment