Friday, August 10, 2012

 ছবি: রুপম ভট্ট্যাচার্য্য
আমরা কি খাচ্ছি.....
দুধ ও কাঁচা মরিচেও ফরমালিন

এম এ বাবর
এবার দুধ ও কাঁচা মরিচেও ফরমালিন মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে ভেজালমুক্ত খাবার খুঁজে পেতে আরও বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েতে হচ্ছে ভোক্তাদের। 

সবজিতে কীটনাশক, ফলে কার্বাইড, তেলে বিষাক্ত কেমিক্যাল, চাল ও মুড়িতে ইউরিয়া, মসলায় ইট ও গাছের গুড়া এবং টেক্সটাইলের রং (অক্সাইড) মেশানোর অভিযোগ রয়েছে।

¯^াস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মেশান খাবার খেলে মানব দেহে লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও চ¶ুসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে ¶তিগ্র¯— হতে পারে। একই সঙ্গে ক্যান্সারসহ প্রাণঘাতী রোগ দেখা দিতে পারে।

সরেজমিন দেখা যায়, রমজানের শুর“ থেকেই সারাদেশে আপেল, আঙ্গুর, আনারস, কমলা, মালটা, কলা, খেজুরসহ দেশি-বিদেশি বিপুল পরিমাণ ফল বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে সবজি দিয়ে তৈরি তেলে ভাজা বেগুনি, সমুচা, পিয়াজ, আলুর চপ, সবজির চপসহ বিভিন্ন ধরনের মুখ রোচক ইফতারি খাদ্য সামগ্রী তৈরি ও বিক্রি হয়। জিলাপি, নিমকী ও চানাচুর মচমচে রাখতে তেলের সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে পোড়া মবিল। 


২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশ খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (আইএফএসটি), জন¯^াস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ পুষ্টি ইনস্টিটিউট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও বাংলাদেশ স্টান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) উলে­খিত খাদ্যদ্রব্যে পরী¶া চালিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের অ¯ি—ত্ব খুঁজে পায়।

এসব প্রতিষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা সরকারকে এসব বিষাক্ত পদার্থ আমদানি ও বিপণনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বারবার সুপারিশ করা হলেও বা¯—বে তা কার্যকর হয়নি। যার ফলে খাদ্য দ্রব্যে এসব বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের বি¯—ার ব্যাপক আকারে ধারণ করেছে।

সায়েন্স ল্যাবরেটরি, বিএসটিআই, আইএফএসটি ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, ছানার পানির সঙ্গে নিæ মানের পাউডার দুধ, এক প্রকার বিদেশি গাছের পাউডার, এরারোট ও সেন্ট (ঘ্রাণ) দিয়ে দুধ তৈরি করা হচ্ছে। আবার আসল দুধের সঙ্গে ভেজাল দুধ মিলিয়েও বিক্রি করা হয়। এছাড়া দুধে ফরমালিন মিলিয়ে ৪৮ ঘণ্টা পর্যš— সতেজ রাখছেন দুধ বিক্রেতারা। এসব দুধই চলে যাচ্ছে বিভিন্ন প্যাকেটজাত দুগ্ধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে।

¯^াভাবিক তাপমাত্রায় আনারস থাকে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ। আনারস বেশি দিন সংর¶ণ করতে রাসায়নিক পদার্থ ৫০০ পিপিএম-এনএনএ বা ১০০ পিপিএম জিএ-৩ দ্বারা আনারস শোধন করা হয়। এভাবে আনারস ৪১ দিন পর্যš— সতেজ থাকে।



নিæ মানের তেল অথবা মানুষের আহারের অযোগ্য তেলে কস্টিক সোডা ও রাসায়নিক  পদার্থ দিয়ে শোধন করে সয়াবিন তেল বলে বিক্রি করা হয়। আবার এক ব্যারেল সয়াবিন তেলের মধ্যে ২৫০ গ্রামের এক কৌটা এলিল আইসেথিয়াসায়ানাইড মেশালে ঝাঁজ ও গন্ধ সরিষার তেলের মত হয়ে যায়। এ তেলের সঙ্গে টেক্সটাইল রং মিলিয়ে সরিষার তেল বলে বিক্রি করা হচ্ছে। 

আম, কলা, পেঁপে, আনারস, কুলসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলে ক্যালশিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিনের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে। এছাড়া আপেল, আঙ্গুর, মালটা, বেদানা ও খেজুরে ফরমালিনের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে।

কাঁচা মরিচসহ দেশীয় বিভিন্ন সবজিতে ব্যবহার হচ্ছে ফরমালিন ও রাসায়নিক কীটনাশক। কীটনাশকের মধ্যে রিনকর্ড, সিমবুন, ডিডিটি মানব দেহের জন্য খুব ¶তিকর।  

বাংলাদেশ খাদ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কে এম ফরমুজুল হক বলেন, বিভিন্ন ফল ও সবজিতে ব্যবহƒত বেনজোয়িক এসিড ও সোডিয়াম বেনজয়েট মানুষের দেহে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে যায়। যার ফলে এলার্জী ও অ্যাজমা দেখা দিতে পারে। সালফার ডাই-অক্সাইড, মেটাবাই-সালফাইড খাদ্যের ভিটামিন বি-১ ধ্বংস করে পাকস্থলীর ¶তসহ জটিল রোগ হতে পারে।

ফরমালিন সম্পর্কে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টর ফর ডায়েরিয়া ডিজেস রিচার্স, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানী ড. এস কে রায় বলেন, ‘ফরমালিন উগ্র গন্ধযুক্ত উত্তেজক বর্ণহীন তরল পদার্থ। এটি সাধারণত জীববিজ্ঞানের নানা জাতীয় স্পেসিম্যান সংর¶ণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এর প্রধান কাজ পচন রোধ করা। সাধারণত ৩৭%-৫০% ফরমালডিহাইডের সঙ্গে ১৫% মিথাইল অ্যালকোহল মেশালে ফরমালিন তৈরি হয়। এটি মারাত্মক রোগ জীবাণুনাশক হিসাবে আদিকালে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হতো।’ 

ড. এস কে রায় জানান, ফরমালিন, আইসেথিয়াসায়ানাইড, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ক্যালসিয়াম প্রোপইওনেট, ইথাইনিলসহ বিভিন্ন কীটনাশক খাদ্য দ্রব্যের মাধ্যমে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে।’

তিনি জানান, ইউরিয়া মেশানো মুড়ি খেলে যকৃতের কোষ ধ্বংস এবং কিডনিতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া এসব বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত খাদ্য খেলে নেফ্রাইটিস নামক জটিল কিডনি রোগ, হাতে-পায়ে পানি জমে ফুলে যাওয়া, জন্ডিস ও লিভার সিরোসিস হতে পারে। এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘ভেজাল খাদ্য নির্মূল করা না গেলে দেশে কিডনি ও ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বাড়বে।’ তাই ভেজাল প্রতিরোধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ¶মতা আইনানুযায়ী খাদ্যে ভেজাল দেয়া এবং ভেজাল খাদ্য বিষক্রিয়ার জন্য সর্বোচ্চ শা¯ি— মৃত্যুদÊের বিধান কার্যকর করা আহŸান জানান তিনি।

No comments: