Friday, August 10, 2012

রমজানেও রাজধানীতে তীব্র পানি সংকট

  
রমজানেও রাজধানীতে তীব্র পানি সংকট

 
এম এ বাবর
রমজানের শুর“ থেকেই রাজধানীর অনেক এলাকায় তীব্র পানি সংকট। আর বিশুদ্ধ পানির অভাবে নামাজ, রোজা, ইফতারি ও সেহরী ঠিকমত করতে পারছেন না অনেকে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ওয়াসার কিছু সংখ্যক কর্মচারী পানি বিক্রির করে ফায়দা লুটছেন।

সরেজমিন খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ চার মাস ধরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোড, জহুরি মহল­া, সলীমুল­াহ রোড, বিজলী মহল­ায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। রোজার শুর“তেই এ সংকট আরো তীব্র হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ওয়াসার মড্স অফিস ও প্রধান কার্যালয়ে বারবার অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। সলীমুল­াহ রোডের নজর“ল ইসলাম বলেন, ‘সমস্যার কারণে বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে ওয়াসার গাড়ী থেকে পানি কিনতে হচ্ছে।’


প্রায় তিন মাস ধরে নগরীর ইস্কাটন গার্ডেন এলাকায় পানি সংকট। গত ১৮-২০ দিন ধরে এ সংকট আরো তীব্র হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আলমগির হোসেন জানান, ‘ওয়াসার অফিসে অনেক অভিযোগ-অনুরোধের পর লাইন থেকে যে পানি আসছে তা দিয়ে গোসল ও রান্নার কাজই হয় না। খাবার জন্য বাজার থেকে বোতলজাত পানি কিনতে হয়।

তীব্র পানি সংকট  দেখা দিয়েছে, পুরাণ ঢাকার আগা মাছি লেন, কয়েদটুলি, আব্দুল হাদী লেনসহ আশে পাশের এলাকায়। অনেক বাড়িতে ওয়াসার গাড়ি দিয়ে পানি কিনে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাচ্ছেন। কয়েদটুলির বাসিন্দা ওয়াহাব আলী জানান, ‘অনেক টেলিফোন করে একটি পানির গাড়ি আনা হলেও পানির তার দাম নেয়া হচ্ছে বেশি। ৫০০ টাকার পানি নেয়া হচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা।’

এদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি আবু নাসের খান অভিযোগ করে বলেছেন, ‘সেবার মান বাড়াতে বরাবরই উদাসীন ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপ¶। এভাবে চলতে থাকলে কখনই ওয়াসা রাজধানীর পানি সংকট দূর করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, রাজধানীর পানি সংকট সমাধানে বিকল্প ব্যবস্থাগুলোর কাজ দ্র“ত বা¯—বায়নে উদাসীন ওয়াসা। প্রতিষ্ঠানটির কাগজ-কলমে অনেক প্রকল্পের কথা বলা হলেও সেগুলো বা¯—বায়ন হয় না।

দুস্থ ¯^াস্থ্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. ডিবালক সিং অভিযোগ করে বলেন, বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে পানি বিক্রির করেও ওয়াসা। কিন্তু ন্যূনতম গ্রাহক সেবাটুকুও তার দিতে চায়না। বরং পানি উৎপাদন, সংর¶ণ, সরবরাহ, পরিচালনা ও র¶ণাবে¶ণে গ্রাহকদের জিম্মি করে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অন্যদিকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান দাবি করেন, চাহিদা অনুযায়ী তারা সেবার মান বাড়িয়েছেন।

তিনি বলেন, পানি ঘাটতি মেটাতে বিকল্প ব্যবস্থাগুলোর কাজ চালছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজগুলো দ্র“ত সম্পন্ন করা চেষ্টা চলছে। বিকল্প ব্যবস্থাগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে পানি ঘাটতি কমে কমে যাবে।
পানি উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ হিসাবে তাকসিম এ খান জানান, প্রতি বছর পানির ¯—র নীচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে পুরাতন পাম্পগুলোর পানি উৎপাদনও কমে গেছে। 

No comments: