তিস্তা ট্রানজিটের শর্ত নয়, তবে জরুরি: দীপু মনি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ভারতকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি কোনোভাবেই ‘শর্ত’ নয়। তবে তিস্তা চুক্তির বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য খুবই জর“রি।
সম্প্রতি ভারতের এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত বছর সেপ্টেম্বরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় তিস্তাচুক্তি না হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ হতাশ হয়েছে।
‘আমরা চাই, বিষয়টি দ্র“ত হয়ে যাক। আমরা অপেক্ষায় আছি। আর আমরা চাই, দেরি না করে তাড়াতাড়িই এটা হোক।’
বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, দু’পক্ষই এ ব্যাপারে কাজ করছে। সড়ক, নৌ ও রেল ট্রানজিটের বিষয়গুলো জড়িত থাকায় এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণগুলো মিলিয়ে দেখে অবকাঠামো ও আইনগত বিষয়গুলো ঠিক করা হচ্ছে। এ জন্যই এ কাজে কিছুটা সময় লাগছে। খবর বিডিনিউজের।
তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণে ট্রানজিট আটকে আছে কি নাÑএনডিটিভির এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ট্রানজিটের বিষয়টি কোথাও কোনো কারণে আটকে নেই। নিজ¯^ গতিতেই এর কাজ চলছে।
‘আমি মনে করি না যে এটা (ট্রানজিট) তিস্তার ওপর নির্ভর করছে। তবে তিস্তা চুক্তি হলে অবশ্যই তা সহায়ক হবে।’
গত বছর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে একেবারে শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। মনমোহন সিং বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেন।
দীপু মনি এনডিটিভিকে বলেন, গত বছর নভেম্বরে ব্যাঙ্গালুর“তে আইওআরসির বৈঠক শেষে ফেরার পথে তিনি কলকাতায় মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তদের মধ্যে তি¯—া নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
আসামের দাঙ্গা দ্বিপক্ষীয় বিরোধের বিষয় নয়:
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে আদিবাসী বোড়ো সম্প্রদায় ও মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে চলমান দাঙ্গার জন্য বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের দায়ী করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যে অভিবাসন হয়েছে তার একটি ইতিহাস আছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এটা বড় আকারে হয়েছে। একাত্তরে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি ভারতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু স্বাধীনতার পরে তাদের বেশিরভাগই ফিরে আসে।
ভারতের এসব অভিবাসীদের নিয়ে যে রাজনৈতিক ও আইনি প্রশ্ন উঠেছে তার যৌক্তিক সমাধান হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আসামে গত মাসে শুর“ হওয়া এ জাতিগত দাঙ্গায় এ পর্যš— ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। দেশটির প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এ দাঙ্গার জন্য বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের দায়ী করে আসছে।
ভারত সরকার এ অভিযোগ নিয়ে এখনো বাংলাদেশকে কিছু জানায়নি উলেখ করে দীপু মনি বলেন, এটি কোনোভাবেই বাংলাদেশ ও ভারতের ‘দ্বিপাক্ষীয় বিরোধের’ বিষয় নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আসামের ঘটনার সঙ্গে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়টি মেলানোর কোনো সুযোগ নেই।
‘অর্থনৈতিক কারণে বা কোনো আÍীয়ের জন্য কোনো একজন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে বা এখান থেকে মিয়ানমারে যাচ্ছেÑবিষয়টি এমন নয়। এটা গণহারে সীমাš— পাড়ি দেয়ার মতো ব্যাপার।
গত মাসে দাঙ্গার মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘অবৈধভাবে প্রবেশকারীরা শরণার্থী নয়। তাহলে আপনি কিভাবে তাদের বিষয়টির সুরাহা করবেন। তাদের ফেরত পাঠাতে হবে এবং তাদের ফিরে যাওয়াটাই একমাত্র সমাধান।’
বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের খাবার, পানি, ওষুধ ও অর্থসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমতো করেছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্তে বিএসএফের হত্যা বন্ধের দাবিটি একটি গুর“ত্বপূর্ণ বিষয়।
সীমানায়— ভারতীয় সীমান্ত—রক্ষীদের হাতে নিরীহ বাংলাদেশি হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা দ্বিপাক্ষীয় অনেক অর্জনকেই ম্লান করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সৌজন্যে: দৈনিক মানবকণ্ঠ, ৯ আগস্ট ২০১২
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ভারতকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি কোনোভাবেই ‘শর্ত’ নয়। তবে তিস্তা চুক্তির বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য খুবই জর“রি।
সম্প্রতি ভারতের এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত বছর সেপ্টেম্বরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় তিস্তাচুক্তি না হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ হতাশ হয়েছে।
‘আমরা চাই, বিষয়টি দ্র“ত হয়ে যাক। আমরা অপেক্ষায় আছি। আর আমরা চাই, দেরি না করে তাড়াতাড়িই এটা হোক।’
বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, দু’পক্ষই এ ব্যাপারে কাজ করছে। সড়ক, নৌ ও রেল ট্রানজিটের বিষয়গুলো জড়িত থাকায় এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণগুলো মিলিয়ে দেখে অবকাঠামো ও আইনগত বিষয়গুলো ঠিক করা হচ্ছে। এ জন্যই এ কাজে কিছুটা সময় লাগছে। খবর বিডিনিউজের।
তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণে ট্রানজিট আটকে আছে কি নাÑএনডিটিভির এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ট্রানজিটের বিষয়টি কোথাও কোনো কারণে আটকে নেই। নিজ¯^ গতিতেই এর কাজ চলছে।
‘আমি মনে করি না যে এটা (ট্রানজিট) তিস্তার ওপর নির্ভর করছে। তবে তিস্তা চুক্তি হলে অবশ্যই তা সহায়ক হবে।’
গত বছর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে একেবারে শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। মনমোহন সিং বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেন।
দীপু মনি এনডিটিভিকে বলেন, গত বছর নভেম্বরে ব্যাঙ্গালুর“তে আইওআরসির বৈঠক শেষে ফেরার পথে তিনি কলকাতায় মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তদের মধ্যে তি¯—া নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
আসামের দাঙ্গা দ্বিপক্ষীয় বিরোধের বিষয় নয়:
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে আদিবাসী বোড়ো সম্প্রদায় ও মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে চলমান দাঙ্গার জন্য বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের দায়ী করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যে অভিবাসন হয়েছে তার একটি ইতিহাস আছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এটা বড় আকারে হয়েছে। একাত্তরে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি ভারতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু স্বাধীনতার পরে তাদের বেশিরভাগই ফিরে আসে।
ভারতের এসব অভিবাসীদের নিয়ে যে রাজনৈতিক ও আইনি প্রশ্ন উঠেছে তার যৌক্তিক সমাধান হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আসামে গত মাসে শুর“ হওয়া এ জাতিগত দাঙ্গায় এ পর্যš— ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। দেশটির প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এ দাঙ্গার জন্য বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের দায়ী করে আসছে।
ভারত সরকার এ অভিযোগ নিয়ে এখনো বাংলাদেশকে কিছু জানায়নি উলেখ করে দীপু মনি বলেন, এটি কোনোভাবেই বাংলাদেশ ও ভারতের ‘দ্বিপাক্ষীয় বিরোধের’ বিষয় নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আসামের ঘটনার সঙ্গে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়টি মেলানোর কোনো সুযোগ নেই।
‘অর্থনৈতিক কারণে বা কোনো আÍীয়ের জন্য কোনো একজন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে বা এখান থেকে মিয়ানমারে যাচ্ছেÑবিষয়টি এমন নয়। এটা গণহারে সীমাš— পাড়ি দেয়ার মতো ব্যাপার।
গত মাসে দাঙ্গার মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘অবৈধভাবে প্রবেশকারীরা শরণার্থী নয়। তাহলে আপনি কিভাবে তাদের বিষয়টির সুরাহা করবেন। তাদের ফেরত পাঠাতে হবে এবং তাদের ফিরে যাওয়াটাই একমাত্র সমাধান।’
বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের খাবার, পানি, ওষুধ ও অর্থসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমতো করেছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্তে বিএসএফের হত্যা বন্ধের দাবিটি একটি গুর“ত্বপূর্ণ বিষয়।
সীমানায়— ভারতীয় সীমান্ত—রক্ষীদের হাতে নিরীহ বাংলাদেশি হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা দ্বিপাক্ষীয় অনেক অর্জনকেই ম্লান করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সৌজন্যে: দৈনিক মানবকণ্ঠ, ৯ আগস্ট ২০১২
No comments:
Post a Comment