এম এ বাবর: রমজানেও তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে রাজধানীবাসী। এদিকে যোগাযোগ মন্ত্রী নিজেই রাজধানীর যানজট পরিদর্শন করে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন।
![]() |
| ছবি: রূপম ভট্টাচার্য |
রমজান মাসে অফিস সময় পরিবর্তন ও রমজানের প্রথম সপ্তাহে রাজধানীর যানজট কম থাকায় নগর জীবনে কিছুটা সস্থি ছিল। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় সকাল থেকেই যানজট দেখা গেছে। ঈদের কেনাকাটায় অনেকেই বিভিন্ন মার্কেট মুখী হয়ে পরায় রোববার থেকে রাজধানীতে তীব্র যানজট লক্ষ করা গেছে। দুপুর পরবর্তী যানজটের কবলে পরে অনেকেই সঠিক সময় ইফতার করতে পারছেন না।
এদিকে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজেই রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তা যানজট পরিদর্শনে নেমেছেন। গতকাল সকালে তিনি পায়ে হেঁটে সায়েদাবাদ থেকে ডেমরা রোড হয়ে কুতুবখালি হয়ে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত পরিদর্শন করেন। এ সময় রাস্তায় যানজটে আটকে পরা জনসাধারণের নানা দুর্ভোগের কথা শুনে দুঃখ প্রকাশ করেন। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন যোগাযোগ মন্ত্রী।
অন্যদিকে নগরীর রাস্তায় সরেজমিন দেখা গেছে- কাকরাইল, শান্তিনগর, মৌচাক, রামপুরা, বাড্ডা, গুলিস্থান, পল্টন, যাত্রাবাড়ি, শাহাবাগ, মগবাজার, মহাখালি, গুলশান, ধানমন্ডী এলাকার রাস্তায় সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগে থাকে। রাস্তার যে দিকে তাকানো যায় সেদিকে শুধু গাড়ি আর গাড়ি। শত-শত প্রাইভেট কারের ভিড়ে চার-পাঁচটি পাবলিক বাস সার্ভিস যেন পর্বতের মত দাঁড়িয়ে আছে।

এম.ই.পি ক্যাবল কোম্পানির সেলস ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, গুলিস্থান অফিস থেকে ডেমরার বাসায় যেতে সময় লাগে দুই-আড়াই ঘণ্টা। ‘অফিস থেকে বেড় হয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে গাড়িতে উঠলেও রাস্তার জ্যামে পড়ে প্রায় দিনই ইফতার সারতে হয় রাস্তায়।’
যানজটের কারণে পল্টন অফিস থেকে বুধ, বৃহস্পতি ও রোববার পায়ে হেঁটে বাড্ডার বাসায় এসেছেন জেক্স টেক্সটাইলের হিসাব রক্ষক জাহাঙ্গির আলম।
গতকাল দুপুরে কাকরাইল মোড়ের তীব্র যানজট সামাল দিতে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে। একদিকের সিগন্যাল ছাড়লে অন্যদিকে মুহ‚র্তেই যানজট লেগে যায়।
মগবাজার মোড়েও একই অবস্থা দেখা গেছে। এখানের একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, ‘ভাই দাপটের যন্ত্রণায় আর চাকরি করতে মনে চায় না। সিগন্যাল ছাড়া নিয়েও জবাবদিহি করতে হয়। তেজগাঁও দিকের রাস্তা একটু বেশি সময় ছাড়লে মিন্ট রোডে জ্যাম লেগে যায়। মিন্ট রোডে যদি জ্যাম লাগে, আর ক্ষমতাবান কেউ যদি ওই জ্যামে পরে তাইলে পরদিন আমি সাসপেন্ড! তাই মিন্ট রোড ক্লিয়ার করতে গিয়ে মগবাজার থেকে মৌচাকে দীর্ঘক্ষণ জ্যাম লেগে যায়। এদিকে কম জনবল দিয়ে যানবাহন চেক করতেও হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমরা হ-য-ব-র-ল অবস্থায় আছি।’
কাকরাইল মোড়ে সার্জেন্ট মামুন বলেন, ‘কার পার্কিং করে রাস্তাগুলোর বেশির ভাগ দখল হয়ে আছে। বড়-বড় মার্কেট ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত কার পার্কিয়ের জায়গা নেই। অনেক কার পার্কিং-এর জায়গাও ভাড়া দিয়ে দিয়েছে। যার ফলে এসব মার্কেটে আসা প্রাইভেট কারগুলো এলোপাতারি ভাবে রাস্তায় রাখা হয়। এতে মূল রাস্তার আয়তন কমে যায়। সিগন্যাল ছাড়া হলে দ্রুত চলমান গাড়িগুলো বেড় হতে না পাড়ায় যানজট দীর্ঘ হয়।’ ঈদের আগের দিন পর্যন্ত মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। যার কারণে যানজট আরো বাড়বে বলে তিনি জানান।

No comments:
Post a Comment