এম এ বাবর:
বিপদের আশঙ্কা জেনেও গণপরিবহনে ঝুঁকি নিয়েও বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ। আর এদের সবারই একই কথা, আপনজনের সঙ্গে ঈদের সময় কাটাতে হবে।
বিপদের আশঙ্কা জেনেও গণপরিবহনে ঝুঁকি নিয়েও বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ। আর এদের সবারই একই কথা, আপনজনের সঙ্গে ঈদের সময় কাটাতে হবে।
এবার ২৯টি রোজা হলে রোববার মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সব চেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর হবে। আর প্রিয় মানুষের সঙ্গে ঈদের দিনের আনন্দময় মুহূর্তটা কাটানোর জন্য শহর থেকে চলছে লাখ লাখ মানুষের বাড়ি ফেরার যুদ্ধ।
একদিকে সড়ক-মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট আর গণপরিবহন সংকট, অন্যদিকে সরকারের কঠোর নির্দেশ, পরামর্শ ও তদারকি। তবুও সবকিছু উপে¶া করে ঘরমুখী মানুষরা বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েও বাড়ি ফিরছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, গতকাল রাজধানীর লঞ্চ, ট্রেন ও বাসস্ট্যান্ডে ঘরফেরা মানুষের ভিড়। আইনশৃক্সখলা বাহিনীর কোনো অনুরোধই রাখছেন না যাত্রীরা। ঈদ বলেই কথা, যেভাবেই হোক বাড়ি যেতেই হবে।
রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখ যায়, নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে তিন-চার ঘণ্টা পর গš—ব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে বাস। অনেকে বাসের ভেতরে সিট না পেয়ে ছাদে উঠছেন। কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়েও একই অবস্থা দেখা গেছে। ট্রেনের বগির বিভিন্ন ফাঁকা জায়গাসহ ছাদেও উঠছেন যাত্রীরা।
সদরঘাট গিয়ে দেখা যায়, নদীতে নোঙর করা লঞ্চগুলো দুপুর ১২টার মধ্যেই কানায় কানায় ভর্তি হয়ে গেছে। এসব লঞ্চে পা ফেলার জায়গাটুকুও নেই। বাস টার্মিনাল আর রেল স্টেশনের মতো ঈদে বাড়ি ফেরার যুদ্ধ চলছে এখানেও। কারণ দ¶িণাঞ্চলের মানুষের ঈদে বাড়ি ফেরার প্রধান বাহনই হলো লঞ্চ।
এত কষ্টের পরেও বাড়ি ফেরার আনন্দে উš§ুখ মানুষ। সবার এক কথা, দীর্ঘ যাত্রা শেষে বাড়ি ফিরে প্রিয়জনের মুখ দেখলেই সব কষ্ট নিমেষেই দূর হয়ে যায়। আর তাই প্রতি বছর ঈদের সময় রাজধানী থেকে গ্রামের দিকে কষ্ট ¯^ীকার করে এই ছুটে চলা।
রেলের যাত্রী আবদুল মালেক জানান, বাড়ি ফেরার যুদ্ধের শুর“ হয়েছে অগ্রিম টিকিট কাটার মধ্য দিয়ে। ল¶্য, ঈদে বাড়িতে যেতেই হবে।
লঞ্চ যাত্রী কামাল হোসেন জানান, জীবনের তাগিদে র“জির জন্য প্রিয়জনদের ফেলে ঢাকায় এসেছি। তাই যখনই প্রিয় মানুষগুলোর কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ আসে তখন আর কোনো বাধাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
গাবতলী বাস টার্মিনালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রোখসান আক্তার বলেন, ‘বাস ছাড়ার সময় আড়াই ঘণ্টা পার হলেও এখনো বাস আসেনি। অপে¶া কিছুটা কষ্টের হলেও গ্রামের বাড়ি খুলনায় ফেরার আনন্দে সব কষ্ট মাথা পেতে নিতে রাজি আছি।’
কয়েকদিন আগে থেকেই অনেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলেও প্রকৃত ভিড়টা শুর“ হয়েছে গতকালই। বাস, ট্রেন আর লঞ্চ স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের অ¯^াভাবিক ভিড়। এ ভিড়েই যেন তাদের আনন্দ। কিন্তু সময়মতো বাস-ট্রেন না ছাড়ায় অনেকে ¶োভ প্রকাশ করেছেন।
সংশিষ্ট বাস কর্মীরা বলেছেন, ‘রা¯—ায় যানজটের কারণে সময়মতো বাস এসে পৌঁছাতে পারছে না।’
প্রতিবেদনটি দৈনিক মানবকষেণ্ঠ ১৬ জুলাই ২০১২ তারিখে প্রকাশিত




No comments:
Post a Comment