Thursday, April 3, 2025

মো: বাবুল আক্তার বাবর ( এম এ বাবর) MA Babar

মো: বাবুল আক্তার বাবর ( এম এ বাবর) একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক ও চিকিৎসক। জন্ম ২৯ জুন ১৯৭৬। তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত আছেন এবং ঢাকায় বসবাস করেণ। শিক্ষা সনদে তার নাম মোঃ বাবুল আক্তার বাবর। শিক্ষাজীবন থেকে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত থাকায়, সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে তার নাম লেখা হয় ‘এম এ বাবর’। তাই এম এ বাবর নামেই সর্ব মহলে তিনি পরিচিত। 

মো: বাবুল আক্তার বাবর ( এম এ বাবর) MA Babar

পিতার দীর্ঘ কর্মস্থল খুলনায় থাকায় এম এ বাবর-এর জন্ম ও শিশু কিশোর বয়স খালিশপুর, খুলনায় কেটেছে। খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটীতে অবস্থিত সেনহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সেনহাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোন করেন। ১৮৮৭ সালে স্থাপিত স্কুলটি পরবর্তীতে সরকারি হয়। পরবর্তীতে ক্রিসেন্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় (খালিশপুর) নবম শ্রেণীতে ভর্তি হন। এখানে একবছর পড়াশোনা করে পরিবারের সঙ্গে তিনি গ্রামে চলে আসেন। পরবর্তীতে তিনি ঝালকাঠি ও বরিশাল এবং ঢাকার কবি নজরুল কলেজে পড়াশোনা করেন। মাস্টার্স শেষ করে পরবর্তীতে তিনি চারবছর  মেয়াদী ডিপ্লোম ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি (ডিএইচএমএস) কোর্স  সম্পন্ন করেন। চিকিৎসা নিয়ে লেখালেখির কারণে সাংবাদিতার পাশাপাশি হোমিপ্যাথিক চিকিৎসক হিসাবেও তার সুনাম রয়েছে। 


কর্মজীবনে তিনি ফুল টাইম সাংবাদিক। কাজ করেছেন, ইংরেজি সাপ্তাহিক সিটিজেন, দৈনিক লালসবুজ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক মানবকণ্ঠ-এর প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সাড়ে পাঁচ বছর। তিনি দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ‘মাগুরা গ্রুপের’ প্রতিষ্ঠান দৈনিক বাংলাদেশের খবর ও দৈনিক দিনপরিবর্তন পত্রিকার প্রতিষ্ঠা লগ্ন ২০১৭ থেকে কর্মরত। এখানে তিনি জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও প্রধান প্রতিবেদক হিসাবে দীর্ঘ বছর কাজ করেন। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি তিনি দৈনিক দিপরিবর্তনের সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান, একই সঙ্গে তিনি দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকারও যুগ্ন সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। 


Wednesday, June 6, 2018

বিনামূল্যে ইন্টারনেট সিকিউরিটি পাবেন যেভাবে

কম্পিউটারকে ভাইরাস-এর আক্রমণ থেকে বাঁচাতে কত চেষ্টাই না আমরা করি। টাকা খরচ করে অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার করি। অ্যান্টি-ভাইরাস কিনে ইনস্টল করি।

অনেকে আবার অনলাইন থেকেই বিভিন্ন নামী অ্যান্টি-ভাইরাসের ‘ট্রায়াল ভার্সান’ বদলে বদলে ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু জানেন কি গুগল ক্রোম (Google Chrome) ব্যবহার করেই বিনামূল্যে পেয়ে যেতে পারেন ‘ইন্টারনেট সিকিউরিটি’বা ব্রাউজার সুরক্ষা? আসুন জেনে নিই কীভাবে গুগল ক্রোমে চালু করবেন ম্যালওয়ার (Malware)স্ক্যানিং ফিচার।

গুগল ক্রোম ব্রাউজার খুলুন। ক্রোমের ডানদিকে উপরে মেনুতে (তিনটি বিন্দু) ক্লিক করুন। এবার ‘সেটিংস’-এ ক্লিক করে ‘অ্যাডভান্সড’ সিলেক্ট করুন। এবার স্ক্রিনে একদম নিচে ‘ক্লিন আপ কম্পিউটার’ অপশন দেখতে পাবেন। এবার এর মধ্যে থেকে ‘Find and remove harmful software’ অপশানে (ম্যালওয়ার ডিটেক্টিং টুল) ক্লিক করুন।

তারপর ‘Find’-এ ক্লিক করলে ক্রোম আপনার কম্পিউটারে ম্যালওয়ার স্ক্যান শুরু করে দেবে। স্ক্যান শেষ হয়ে গেলে যদি কিছু খুঁজে পাওয়া যায় তবে সেটিকে ‘রিমুভ’-এর অপশন দেবে ক্রোম। যদি কিছু না পাওয়া যায় তো জানিয়ে দেবে ‘No harmful software found’।

এবার থেকে কম্পিউটার বা ল্যাপটপে স্ক্যানের জন্য ক্রোমের অ্যাড্রেস বারে chrome://settings/cleanup লিখে এন্টার প্রেস করলেই এই স্ক্যান শুরু হয়ে যাবে। তবে এই অপশানটি যদি কাজ না করে, তবে আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ক্রোম আপডেট করে নিন।

Tuesday, April 10, 2018

ফেসবুকের প্রোফাইল ফটোতে ফ্রেম যোগ করবে

যেভাবে ফেসবুকের প্রোফাইল ফটোতে ফ্রেম যোগ করবেন এবং অন্যের প্রোফাইল ফটোতেও পরিবর্তন ঘটাবেন।

ফ্রেম তৈরী করার পর প্রথমে যাবেন www.facebook.com/fbcameraeffects/home
তার পর Create Frame- এ ক্লিক করে আপনার ফ্রেমের নাম, Owaner Name, সার্চ কিওয়ার্ড ইত্যাদি দিয়ে ফ্রেম টি সাবমিট করে দিন। ( বিস্তারিত ভিডিও তে আছে)


https://www.youtube.com/watch?v=yTNIap0N1Uk&feature=youtu.be




সাবমিট করার পর তারা আপনার ফ্রেম রিভিউ করে ২-৩ দিনের ভিতরে (Upto 1 week) আপনাকে নোটিফিেশনের মাধ্যম জানিয়ে দিবে । (নিচের ছবির মত)



সাবমিট করা হয়ে গেলে চেক করার জন্য প্রবেশ করবেন www. facebook .com/facameraeffects/manage – এ যাবেন, যাওয়ার পর তারা আপনার ফ্রেম টি সাবমিট করেছে কি না তা দেখতে পারবেন।
অতঃপর যদি তারা আপনার ফ্রেম Approve করে নেয়, তাহলে আপনি তা ব্যবহার করার জন্য প্রবেশ করবেন www. facebook. com/profilepicframes -এ, তার পর আপনি আপনার ফ্রেমের নাম লিখে সার্চ করবেন। তারপর আপনি আপনার ফ্রেম ব্যবহার করতে পারবেন।
ব্যাস!!! কাজ শেষ।

বিঃদ্রঃ মোবাইল ব্যবহার কারীরা Purfin Browser ব্যবহার করে দেখতে পারেন। )

 https://youtu.be/gH28HjcTMVM

 

নিজেই বানান ফেসবুক প্রোফাইল ফটো ফ্রেম।

দেখে নিন কিভাবে ফেসবুক ফটো ফ্রেম বানাবেন এবং ব্যবহার করবেনঃ

এই কাজটি করার জন্য প্রথমে ফটোশপ ওপেন করুন। আপনি ফটোশপের যেকোন ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন। আমি এখানে Adobe Photoshop CS6 ব্যবহার করব। ফটোশপ ওপেন হয়ে গেলে ফাইল থেকে একটি নতুন পেজ নিব। নিচের ছবি লক্ষ করুণ।
পেজটির Width=400Px এবং Height=400Px এবং ব্যাকগ্রাউন্ড দিবেন Transparent ঠিক নিচের ছবিতে যা দেওয়া আছে তাই দিবেন আর যেভাবে দেয়া আছে সেভাবেই দিবেন। তারপর OK দিন।

আপনারা আপনাদের ইচ্ছামত ডিজাইন করে নিবেন। আপনারা সবাই দেখেছেন ফেসবুক ফটো ফ্রেম কেমন থাকে। আমি নিচের মত সিম্পল ডিজাইন করে আপনাদের দেখালাম। এই ডিজাইন পেন টুল ব্যবহার করে করেছি। মূলত আমি শুধু আপনাদের ফ্রেম সম্পর্কে ধারণা দিব। কারণ এই টিউন ফ্রেম তৈরির ডিজাইনের না। যদি আপনাদের মনে হয় ডিজাইনটি কিভাবে করা হয়েছে দেখার তাহলে ভিডিও দেখুন। সেখানে করে দেখানো আছে।

এবার নিচের ছবি লক্ষ করুণ আর ছবিটি সে করার জন্য File>Save As এ জান।

নিচের ছবি লক্ষ করুন আপনার তৈরিকৃত ফ্রেমটি PNG ফরমেটে সেভ করুণ।

সেভ হয়ে গেলে এবার http://www.isupportcause.com  এই সাইটে গিয়ে লগিন করুন। অবশ্যই ফেসবুক একাউন্ট দিয়ে লগইন করবেন। লগইন হয়ে গেলে নিচের ছবি লক্ষ করুণ আর Create Campaign এ জান।

তারপর নিচের মত পেজ আসবে সেখানে আপনি আপনার তথ্য দিন। নাম,বর্নণা ইত্যাদি দিন। তারপর প্লাস চিহ্নে ক্লিক করে আপনার ডিজাইন করা ছবিটি নিয়ে আশুন। তারপর Create Campaign এ ক্লিক করলে Campaign তৈরি হয়ে যাবে। 

নিচের ছবিতে দেখুন আমাদের ফ্রেম। ফ্রেমে প্রবেশ করুণ।

তারপর নিচের ছবি অনুসরণ করুণ।


উপরের ছবিতে যা যা দেয়া আছে আশা করি কারও বুঝতে সমস্যা হবে না। সমস্যা হলে ভিডিওটি একবার হলেও দেখুন সমাধান পাবেন নিশ্চয়। আমাদের কাজ শেষ। নিচে থেকে ভিডিওটি দেখতে পারেন।

https://youtu.be/1pBUiSOSk2o

Wednesday, March 21, 2018

স্মার্টফোন চুরি হলেও নিরাপত্তা দেবে ‘থামাও’


বাংলাদেশ ডিজিটাল হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে স্মার্টফোনের ব্যবহার। স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে আধুনকি জীবন এখন এই স্মার্টফোন ছাড়া চিন্তাই করা যায় না।
স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে স্মার্টফোনের চুরি। একটি স্মার্টফোন চুরি হলে ব্যবহারকারীর সব ডাটা, ফেইসবুক/গুগল/ ই-মেইল সবকিছুর Access চলে যায় চোরের হাতে এবং সাধারণ মানুষজন চরম বিড়ম্বনায় পড়ে ।
নারীরা আরো বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়। নারীদের স্মার্টফোন চুরি হওয়ার পর তারা প্রায়ই ব্লেকমেইলের শিকার হন। এসব বন্ধ করতে সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘থামাও’। আর অ্যাপটি তৈরি করেছেন কয়েকজন তরুণ। তারা হলেন : নাসিফ সিদ্দিকী (একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), আহসান আসিম (কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এআইইউবি), রাতুল রহমান (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ও ফায়াজ বিন সালাম (কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এআইইউবি)

অ্যাপ তৈরির মূল উদ্যোক্তা নাসিফ সিদ্দিকী অ্যাপটি সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা চাচ্ছিলাম এমন কিছু একটা করতে যাতে ব্লেকমেইল থামানো যায়। এখান থেকেই ‘থামাও’ এর শুরু । আন্তর্জাতিকভাবে অনেক অ্যাপ আছে যেগুলো ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের ব্যবহারকারীদের কথা চিন্তা করে বানানো । থামাও একমাত্র অ্যাপ যেটি শুধু বাংলাদেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখেই ডেভেলপ করা হয়েছে। আমরা শতাধিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সাথে কথা বলে থামাও-এর ফিচারের কাজ করেছি যাদের স্মার্টফোনটি বাংলাদেশে ২০১৭-১৮ সালে চুরি হয়েছে।’

নাসিফ আরো বলেন, ‘আমরা নিজেদের উদ্যোগেই একটি টিম বিল্ট করে থামাও-এর কাজ শুরু করে দেই। কোনো প্রোফিট মোটিভ থেকে না, শুধু- এভাবে এগুলো চলতে দেওয়া যায় না- এই চিন্তা থেকেই এর কাজ করেছি।’
Google Play Store এ অ্যাপটি দেওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন শত শত মানুষের থেকে ই-মেইল- মেসেজ আসতে থাকে বলে জানান নাসিম। অ্যাপটি ব্যবহার করে নিরাপদ বোধ করার কথাই জানিয়েছেন স্মার্টফোন ইউজাররা।

অ্যাপটি যা করবে
ফোন চুরি করে চোর আর ফোনটি বন্ধ করতে পারবে না। এর কারণ মাত্র একটি ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমেই কোন ইন্টারনেট ছাড়া হারিয়ে যাওয়া ফোন রিসেট দিয়ে ফোন মেমোরি মুছে দেয়া যাবে। এতে চোর মোবাইল ফোনের কোন ডাটা, ফেইসবুক/গুগল/ ই-মেইল ইত্যাদির কোনো এক্সেস পাবে না। একটি খুদে বার্তার দিয়েই ইন্টারনেট ছাড়া হারিয়ে যাওয়া ফোনে উচ্চস্বরের সাইরেন বাজানো যা মিউট মোডেও কাজ করবে। এই অ্যাপ মোবাইল চার্য দেওয়া অবস্থায়/ হেডফোন লাগানো অবস্থায় চুরি থামাতে সক্ষম।
অ্যাপটি মোবাইল ফোনে ইন্সটল করতে হলে যেতে হবে গুগলের প্লে স্টোরে। সেখানে গিয়ে Thamao লিখে সার্চ দিয়ে অ্যাপটি বের করে ইন্সটল করতে হবে।

অ্যাপটির ফিচার নিচে দেওয়া হলো
Sms security
ইন্টারনেট ছাড়াই অন্য যেকোনো ফোন থেকে চুরি হয়ে যাওয়া ফোনে পুর্ব-নির্ধারিত sms দিয়ে ফোনকে control করা যাবে। এখানে রয়েছে -
1) "Thamao Reset" এর মাধ্যমে মেসেজ দিয়ে phone কে Reset factory করা যাবে, এর ফলে চোর ফোন নিয়ে গেলেও ইউজার তার নিরাপদ তথ্য মাত্র একটি Sms দিয়েই মুছে ফেলতে পারবে যাতে চোরের হাতে ব্যক্তিগত তথ্য যেন না যায়। মেয়েদেরকে এই ফিচারটি চোরদের দ্বারা ব্লেকমেইল হওয়া থেকে রক্ষা করবে।
3) "Thamao Siren" এর মাধ্যমে মেসেজের মাধ্যমে হারানো ফোনে siren বাজবে, এই siren উচ্চ শব্দ সাইলেন্ট মোডেও বাজবে। এমন কি কোনো ভাবে আনলক না করে সাউন্ড কমানো যাবে না, Volume down buttonও কাজ করবে না।
3)" Thamao Lock" এর মাধ্যমে মেসেজ দিয়েই ফোনটিকে লক করে দেয়া যাবে, তখন Power Button Disabled হয়ে যাবে. যার ফলে কোনোভাবেই আনলক না করে ফোনটি সাধারণভাবে বন্ধ করা যাবে না।
Smart Security
স্মার্ট সিকিউরিটিতে রয়েছে বেশ কিহু আধুনিক ফিচার। এই ফিচারগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে চোরকে হাতেনাতে ধরা। Headphone, Charger এর সুবিধা নিয়েই এখানে চুরি হতে গেলে নির্দিষ্ট সময় ফোনে উচ্চ শব্দের সাইরেন বাজবে। এখানে রয়েছে -

1) Headphone Security
সার্ভেতে দেখা গিয়েছে হেডফোন লাগানো অবস্থায় চোর সেটা খুলে অগোচরে ফোনটি নিয়ে যায়। এই ফিচারটি চালু থাকলে ফোন লক অবস্থায় হেডফোন খুলে ফেললে বেজে উঠবে উচ্চস্বরের সাইরেন। বাস থেকে চুরি রক্ষায় এটি অত্যন্ত কার্যকরী।

2) Charging Security
একইভাবে সার্ভেতে দেখা গিয়েছে চার্যার  লাগানো অবস্থায় চোর সেটা খুলে অগোচরে ফোনটি নিয়ে যায়। এই ফিচারটি চালু থাকলে ফোন লক অবস্থায় চার্যার খুলে ফেললে বেজে উঠবে উচ্চস্বরের সাইরেন। বাসা বা মেস থেকে ফোন চুরি রক্ষায় এটি অত্যন্ত কার্যকরী।

3) Power button disable
ফোন চুরি হবার পর চোর প্রথম সুযোগেই ফোনটির পাওয়ার অফ করে দেয়। এই ফিচারটি চালু থাকলে ফোন লকড থাকা অবস্থায় পাওয়ার বাটন চেপে ফোন বন্ধ করা যাবে না।

IMEI Security
আপনার ফোনটির মালিক যে আপনিই তার রেকর্ড রাখা যাবে থামাও-এ সয়ংক্রিয়ভাবে। এমনকি ব্যবহৃত ফোন কেনার আগে সার্চ করে দেখেও নিতে পারবেন ফোনটির মালিক আসল কি না।

Sunday, March 18, 2018

শাকিব-অপু : যেভাবে সম্পর্ক প্রেম থেকে বিয়েতে গড়ায়

২০০৬ সাল। শাকিব খান তখন ঢালিউডের একজন অতিসাধারণ হিরো। আজকের মতো তারকাখ্যাতি ছিল না তার। অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল বড় বাজেটের একটি সিনেমা নির্মাণ করবেন। 

সিনেমার নাম ‘কোটি টাকার কাবিন’। যেখানে সিনেমার নায়ক হিসেবে তিনি পছন্দ করলেন শাকিব খানকে।
শাকিবের বিপরীতে ডিপজল চাইলেন নতুন কোনো নায়িকা। যেমন চাওয়া, তেমন পাওয়া। ডাক পড়ল অপু বিশ্বাসের। 

যতটুকু মনে পড়ে আমজাদ হোসেনের ‘কাল সকালে’ ও সুভাষ দত্তের ‘ও আমার ছেলে’তে অভিনয় করেছিলেন অপু। তবে সেটা বড় কোনো চরিত্র নয়। বগুড়াতেই থাকতেন তিনি। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার ইচ্ছে তখনও জাগেনি অপুর।

এরইমধ্যে মাধ্যমিকে পরীক্ষা দিলেন অপু। পরীক্ষা শেষে কিছুটা বিরতি। ঠিক সেই সময় সুযোগ আসে ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমার। কোনো চিন্তা না করেই অপু রাজি হয়ে যান। শাকিব খানকে পাচ্ছেন নিজের নায়ক হিসেবে। শাকিব তখন ঢালিউডের পরিচিত মুখ।
তার বেশ কিছু সিনেমা দেখেছেন অপু। এবার সামনা সামনি দেখার সুযোগ মিলে গেলো। 

এই সিনেমার সূত্র ধরেই শুটিং সেটে প্রথম দৃষ্টি বিনিময়। শাকিবকে ‘ভাইয়া’ বলে ডাকতেন অপু। ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করতেন তখন।

‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমার শুটিং শুরু করলেও খুব একটা জানাশোনা হয়নি দুজনার। তাই সেটে বসে একে অপরকে লুকিয়ে দেখেন দুজন। কিন্তু ওইভাবে কোনো কথা হয় না। এভাবেই অল্প অল্প পরিচয়ে কিছুটা কাছে আসা। শাকিব অপুর কাছ থেকে ফোন নম্বর নেন।


যদিও তখন শাকিব অনেকটা নার্ভাস ছিলন। এরপর অপুকেই প্রথম ফোন করেন শাকিব। তবে তার আগে এসএমএস দিয়ে জানান, আমি রানা (শাকিবের ডাক নাম), ফোন রিসিভ করো। অপু লজ্জা পেলেন। সবার সামনে ফোন রিসিভ না করে ওয়াশরুমে ঢুকে পানির কল ছেড়ে দিয়ে শাকিবের সঙ্গে প্রথম কথা বললেন অপু।

এভাবে দেড় মাস ফোনে প্রেম চলে। কোনো কোনো দিন ফোনে শাকিবের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মায়ের কাছে ধরাও পড়েছেন অপু। শাস্তিস্বরূপ অপুকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ভারতে, বোনের বাসায়। সেখানেই থাকতে হবে, সিনেমায় আর অভিনয় করা যাবে না। কিন্তু প্রেম যে মানে না কোনো বাধা।

ভারতে যাওয়ার পর অপুর প্রেম আরও গভীর হয়। রাস্তার পাশের ফোন বুথ থেকে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে শাকিবকে ফোন করতেন অপু। প্রেমিকার ফোন পেয়ে সিনেমার শিডিউল ফাঁসিয়ে শাকিব চলে যান ভারত। তাও বিমানে নয়, বাসে চড়ে। 

ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন শাকিব। দেখা করলেন প্রেমিকার সঙ্গে। ঘুরতে গেলেন দার্জিলিং।

যদিও দেশে ফিরে শিডিউল ফাঁসানোর দায়ে বিপদে পড়তে হয়েছিল শাকিবকে। এদিকে ‘কোটি টাকার কাবিন’ মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির পরেই সুপারহিট। 

নতুন এ জুটির সাফল্য দেখে ডিপজল আরও চারটি সিনেমার ঘোষণা দেন। সিনেমা করলেই শাকিবের কাছাকাছি থাকতে পারবেন অপু। তাই রাজি হয়ে গেলেন।
কিন্তু বাধা শুধু পরিবার। কে শোনে কার কথা! বিদ্রোহ করলেন অপু। 

দেশে ফিরে এসে বগুড়ার এক কলেজে ভর্তি হলেন তিনি। শাকিব তখন শুটিং ফেলে কলেজের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। অপুর মা শাকিবের সঙ্গে মেলামেশা পছন্দ করতেন না। একদিন শাকিবের মুখোমুখি হলেন তিনি।

শাকিব বললেন, ‘আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করব। অপুর মা বললেন, আর সেদিনই আমি তোমাকে ত্যাজ্য করব। ভালোবাসার বন্ধন আরও মজবুত করতে শাকিব বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। সেদিন ছিলো ১৮ এপ্রিল ২০০৮। এ দিনে বিয়ে করার কারণ হচ্ছে সেদিন শাকিবের বাবা-মা বাসায় ছিলেন না।

শাকিবের ফুপাতো ভাই তানভীরের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাবেন। নির্ধারিত সময়ে কাজী ডেকে আনা হলো। ভালোবাসার টানে ধর্ম ত্যাগ করে অপু বিশ্বাস হয়ে গেলেন অপু ইসলাম খান।

বিয়েতে ছিলেন অপুর মেজ বোন, শাকিবের কাজিন মুনির ও প্রযোজক মামুনুজ্জামান মামুন। বিয়ের পর অপু চলে গেলেন নিজের বাসায়। বিয়ের বিষয়টা শাকিবের বাবা-মা, অপুর মা জানতেন না। ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব ছাড়া চলচ্চিত্রেরও তেমন কেউ জানতেন না। বছরখানেক পর দুজন একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।

অপুর ভাষ্য, যেন কেউ সন্দেহ করতে না পারে, সেজন্য শুটিংয়ের সময় শাকিবের ধারেকাছেও থাকতাম না। শটের সময় চলে যেতাম ক্যামেরার সামনে। অনেকের সন্দেহ হয়েছে; কিন্তু কেউ নিশ্চিত হতে পারেনি।

Thursday, March 15, 2018

যেসব খাবারে দৈহিক শক্তি বাড়ে!

বিশ্বসেরা ১০ স্পেশাল ফোর্স

হলিউডের কল্যাণে স্পেশাল ফোর্স এখন বেশ জনপ্রিয় শব্দ। স্পেশাল ফোর্স শুনতেই বেশ রোমাঞ্চ অনুভব হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এখন স্পেশাল ফোর্স আছে। গোয়েন্দাগিরি এবং গোপন অভিযানের উদ্দেশ্যেই এই ফোর্স তৈরি করা হয়। জার্মানদের হাত ধরেই এই স্পেশাল ফোর্সের উৎপত্তি । 
বিংশ শতাব্দীতে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল, সেই সময়কার কথা। জার্মানি গোপনে লড়াই চালানো এবং অন্যান্য দেশের সামরিক খবর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে ব্র্যান্ডেরবুর্গ নামে একটি ফোর্স গঠন করে। ওখান থেকেই স্পেশাল ফোর্সের উৎপত্তি। আর এখানকার কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় মূলত সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী থেকে। স্পেশাল ফোর্সে প্রবেশের আগেই অনেক কঠিন প্রশিক্ষণের কাঠ খর পোরাতে হয়। পরিশ্রম ওখানেই শেষ নয়। ফোর্স জয়েন করার পরই শুরু হয় আসল খেল। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্ব সেরা ১০ স্পেশাল ফোর্স সম্পর্কে।

১। ইউনাইটেড স্টেটস নেভি সিলস (United States Navy Seals)

ইউনাইটেড স্টেটস নেভি সিলস বিশ্বের সেরা স্পেশাল ফোর্সগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি পরিচিত। নেভি সিলস ১৯৬২ সালে গঠিত হয়। এই স্পেশাল ফোর্স মার্কিন নৌবাহিনীর অন্তর্গত। তবে তাদের সেনাদের স্থল, জল ও আকাশে যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। টুইন টাওয়ারে হামলার পর থেকে সিলস যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ও পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লাদেনকে হত্যার অভিযানে সিলস এবং সিআইএ একসঙ্গে কাজ করছে।

২। স্পেশাল বোট সার্ভিসেস (Special Boat Services)

যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি দুর্ধর্ষ বাহিনী স্পেশাল বোট সার্ভিসেস । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই এই স্পেশাল ফোর্স কাজ করছে। নৌযুদ্ধেই এই বিশেষ ফোর্সকে কাজে লাগানো হয়। তবে, সামুদ্রিক পথে গিয়ে স্থলে নেমেও যুদ্ধ করতে সিদ্ধহস্ত এই বাহিনীর সেনারা। এসবিএস যোগ দেওয়ার আগে অত্যন্ত কঠোর প্রশিক্ষণ পাশ করতে হয়। পাহাড়ি এলাকা এবং জঙ্গলের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, কিভাবে বেঁচে থেকে লড়াই করতে হয়।

৩। ব্রিটিশ স্পেশাল এয়ার সার্ভিসেস (Special Air Services)

ব্রিটিশ স্পেশাল এয়ার সার্ভিসেসকে সংক্ষেপে বলা হয় এসএএস। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে এই শাখা গঠন করেছিল। ১৯৪৭ সালে এসএএসকে স্থল সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পুনর্গঠিত করা হয়েছিল। ১৯৮০ সালে লন্ডনে ইরানের দূতাবাস সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য এসএএস অভিযান চালিয়েছিল।

৪। সায়েরেত মতকল (Sayeret Matkal)

সায়েরেত মতকল ইসরাইলের স্পেশাল ফোর্স। এই স্পেশাল ফোর্সের অন্যতম কাজ গোয়েন্দাগিরি এবং গোপন খবর সংগ্রহ করা। শত্রু দেশের সীমা পার করে খবর আনতেও তারা বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদলেই এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করা হয়েছে।

৫। জিআইজিএন (GIGN)

ফ্রান্সের ন্যাশনাল গেন্ডারমেরি ইন্টারভেনশন গ্রুপের সঙ্গে পেরে উঠতে পারে এমন এলিট ফোর্স খুব কমই রয়েছে। জিআইজিএন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কাজকর্ম চালায় । ২০০জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অফিসারের এই ফোর্স যে কোনও পরিস্থিতিতে বন্দি উদ্ধারে সিদ্ধহস্ত। ১৯৭৩ সাল থেকে জিআইজিএন কাজ করে আসছে। মিউনিখ অলিম্পিক গেমসের সময় ইসরায়েলি অ্যাথলেটদের অপহরণের ঘটনার পরই এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করে ফ্রান্সের সেনাবাহিনী।

৬। আলফা গ্রুপ (Alpha Group)

গোপন সামরিক অভিযানের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পেশাল ফোর্স হিসেবে স্বীকৃত রাশিয়ার আলফা গ্রুপ। ১৯৭৪ সালে রাশিয়েতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কেজিবি এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করেছিল। বর্তমানে তাদের সঙ্গে এফএসবি নামে আরও একটি শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে কেজিবি।

৭। ইউনিদাদ দে অপারেসিওনেস এসস্পেশিয়ানেস (Unidad de Operaciones Especiales)

‘ইউনিদাদ দে অপারেসিওনেস এসস্পেশিয়ানেস’ স্পেনের স্পেশাল ফোর্স। ২০০৯ সাল থেকেই মূলত তারা গোটা বিশ্বের সঙ্গে পরিচিত হয় । তার আগে এরা গোপনই কাজ পরিচালনা করতো। স্পেনীয় নৌসেনার বিশেষ এই শাখা ইউরোপে অন্যতম

৮। মার্কোস (MARCOS)

মেরিন কমান্ডো ফোর্স (মার্কোস) ভারতীয় নৌসেনার একটি বিশেষ শাখা। জল ও স্থলে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সম্মুখসমর, বিশেষ ধরনের হামলা চালানো, যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা, বন্দি উদ্ধার, এবং যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আটকানোর মতো বিভিন্ন কাজে দক্ষ ভারতীয় নৌসেনার এই স্পেশাল ফোর্স। মার্কোসের প্রতিটি সদস্য যুদ্ধের সময় যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম।

৯। ডেল্টা ফোর্স (Delta Force)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স ফাস্ট স্পেশাল ফোর্সেস অপারেশনাল ডিটাচমেন্ট-ডেল্টা (ফাস্ট এসএফওডিডি)। ডেল্টা ফোর্স নামেই এই বাহিনী বহুল পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদের মুখে বারবার পড়ায়, ১৯৯৭ সালে ডেল্টা ফোর্স গঠন করে। সন্ত্রাস দমন, গোপনে আক্রমণ চালানো, বন্দি উদ্ধারের মতো নানান গোপন মিশনে ডেল্টা ফোর্সকে ব্যবহার করা হয়।

১০। জিএসজি ৯ (GSG 9)

জার্মান ফেডারেল পুলিশের সন্ত্রাস দমন এবং বিশেষ কার্যসম্পাদন শাখা জিএসজি ৯ । ১৯৭৩ সালে এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করা হয়। বন্দি উদ্ধার, অপহরণের ঘটনা, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার মতো পরিস্থিতিতে জিএসজি ৯কে ব্যবহার করে জার্মান পুলিশ। তাদের সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত, দেড় হাজারেরও বেশি স্পেশাল অপারেশন সামলেছে এই স্পেশাল ফোর্স।

Wednesday, March 7, 2018

কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসায় শিয়ালকাঁটা

আমাদের প্রকৃতিতে এমন কিছু উপাদান আছে যেগুলো গ্রহণ করলে বহু জটিল রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এমন একটি উপাদান হচ্ছে শিয়ালকাঁটা। এই গাছ কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। ড. তপন কুমারের ‘ বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় গাছ-গাছড়া’র বইয়ে এর আরও কিছু গুণাবলি তুলে ধরা হয়েছে। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো

১) ইহার রস ক্ষতরোগে উপকারী।

২) শিয়ালকাঁটা গাছের রস, চন্দন গাছের রসের সঙ্গে মিশ্রিত করে কুষ্ঠ রোগে প্রয়োগ করে।

৩) তৈল ৩০-৬০ ফোঁটা পরিমান রক্ত আমাশয়ে ব্যবহৃত হয়।

৪) আঠার ক্ষত নিবারণ করিবার শক্তি আছে।

৫) বোলতা ও ভীমরুল কামড়ালে মূল প্রলেপ স্বরূপ ব্যবহৃত হয়।

৬) বীজের তেল সরিষার তেলে পাক করে পাঁচড়া ও চুলকণায় ব্যবহৃত হয়।

৭) আঠা গণোরিয়া ও কুষ্ঠরোগে ব্যবহৃত হয়।
পরিচিতি

শিয়ালকাঁটা সাধারণত- শুকনা জায়গাতেই জন্মে, সরস জায়াগা পছন্দ করে না। শিয়ালকাঁটা বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ, এক মিটার আন্দাজ উঁচু এবং খাড়া কাণ্ড বিশিষ্ট উদ্ভিদ। এর পাতাগুলি ঢেউ খেলানো। পাতাগুলির কিনারা অল্পখণ্ডিত ও ধারালো কাঁটাযুক্ত। এ গাছের রস (তরুক্ষীর) গাঢ় এবং উজ্জল হলুদ রঙের। ফল পীতবর্ণ, ফল দেখতে কালো সরিষার ন্যয়। একটি ফলে বহু বীজ থাকে।

ভিটামিন ডি’র অভাবে যেসব রোগ হয়

ভিটামনিটিকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয় কেন। নিয়মিত রোদ পোয়ালে দেহের ভেতরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দূর হতে শুরু করে। ফলে হাড় এত শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে যে চোট-আঘাত লাগার আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে জয়েন্ট, ঘার এবং গোড়ালির কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

 
শুধু তাই নয়, মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন- ফাঙ্গাল ইনফেকশন দূরে থাকে, হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, ঘুম ভাল হয়, ত্বকের রোগ সারাতে সাহায্য করে, ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করে, মাল্টিপল স্কলোরোসিস মতো রোগের প্রকোপ কমে এবং শরীরে বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস পায়।
এখন প্রশ্ন হল যাদের নিয়মিত রোদ পোহানোর সময় নেই, তাদের শরীরে তো ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দেবে। সেক্ষেত্রে তাদের কী করণীয়? এক্ষেত্রে কতগুলি সহজ পদ্ধিতির সাহায্য নিলেই কেল্লাফতে! যেমন-

কর্ডলিভার অয়েল: কর্ড মাছের লিভার থেকে সংগ্রহ করা এই তেল সারা গায়ে লাগিয়ে যদি মাসাজ করতে পারেন। তাহলে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই থাকে না। কারণ এই তেলটির অন্দরে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ডি মজুত থাকে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে এবং জযেন্ট পেন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

মাশরুম: ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটাতে এই প্রকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় নেই। তাই হাড়ের পাশপাশি হার্ট এবং ব্রেনকে যদি চাঙ্গা রাখতে চান, তাহলে সপ্তাহে ২-৩ দিন মাশরুম খেতেই হবে। প্রসঙ্গত, ভিটামিন বি-এর চাহিদা পূরণেও মাশরুমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

সামদ্রিক মাছ: মাছের শরীরে, বিশেষত সামদ্রিক মাছে যে পরিমাণে ওমেগা ত্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, সেই পরিমাণে থাকে ভিটামিন ডি-ও। তাই তো প্রতিদিন মাছ খেলে শরীরে এই বিশেষ ধরনের ভিটামনিটির ঘাটতি হওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

সূর্যমুখী ফুলের বীজ: এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতি প্রচুর মাত্রায় মজুত রয়েছে ভিটামিন ডি এবং উপকারি প্রোটিন। তাই তো নিয়মিত যদি সূর্যমুখী ফুলের বীজ একটু ভেজে নিয়ে খেতে পারেন, তাহলে ভিটামিন ডি-এর যোগান নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না।

দুধ খাওয়া জরুরি: মাশরুমে যে মাত্রায় ভিটামিন ডি রেয়েছে, তার থেকে কিছু কম নেই দুধে। তাই তো শরীরে এই উপকারি ভিটামিনটির যোগান ঠিক রাখতে প্রতিদিন দুধ নয়তো কোনও না কোনও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া জরুরি।

ডিমের সঙ্গ ছাড়া চলবে না: শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটাতে যদি চান, তাহলে প্রতিদিনের ডায়েটে একটা করে ডিম থাকা মাস্ট। নিউট্রিশনিস্টদের মতে ডিমের ভেতরে যেমন প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন এবং উপকারি কোলেস্টেরল রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভিটামিন ডি-ও। তাই তো শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে এবং নানাবিধ হাড়ের রোগকে দূরে রাখতে নিয়মিত একটা বা দুটো করে ডিন খাওয়া উচিত।
সূত্র: বোল্ডস্কাই

পকেটে মোবাইল পুরুষের জন্য ডেকে আনে বিপদ: গবেষণা

পুরুষরা যখন বের হয় তখন নিজের ফোনটা তার প্যান্টের পকেটে রেখে বের হয়।

কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ফোন পকেটে ব্যবহার করে পুরুষরা তাদের জীবনে ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে। কেননা মোবাইল ফোন থেকে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নামে এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ নির্গত হয় তা শরীরে মারাত্মক ক্ষতি করে। এছাড়া ক্যান্সারের জন্য অন্যতম দায়ী।

ক্যালিফোর্নিয়ার ব্রেস্টলিঙ্ক নামক একটি সংস্থায় গবেষণা করে দেখা গেছে যে, পুরুষদের প্যান্টের পকেটে মোবাইল ফোন রাখাটা মোটেও ভাল নয়। এর কারণ, মোবাইল ফোন পুরুষদের ক্ষেত্রে বীর্যের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, কথা বলার সময় ফোন যদি পুরুষাঙ্গের কাছাকাছি থাকে, তবে তা বীর্য উৎপাদনকারী কোষের মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে। এতে পরিমাণ মতো বীর্য তৈরি হতে পারে না।

ফলে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত বীর্যের কারণে সন্তান দুর্বল এবং শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মাতে পারে। অনেক পুরুষ কানে হেডফোন ব্যবহার করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোন পকেটে রাখে, তাদের ক্ষেত্রে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা সব থেকে বেশি।

ক্লেভল্যান্ড-এ অবস্থিত সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিন-এ মোবাইল ফোনের ওপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়। তাতে ৩২ জন পুরুষের ওপর এই সমীক্ষা হয়। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে বীর্যের নমুনা নিয়ে, তা দিয়ে নানা ধরণের পরীক্ষা-নিরিক্ষা চালানো হয়। এক সময় নমুনাগুলির কাছাকাছি ফোন রেখে দিয়ে তার প্রভাব পরীক্ষা করা হয় এবং দেখা যায় যে, বীর্যগুলি যথারীতি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
তথ্যসূত্র : ডেইলি সান শাইন।

Monday, March 5, 2018

অর্শ বা পাইলস রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

তীব্র বেদনা দায়ক এবং জটিল রোগগুলোর মধ্যে  অর্শ বা পাইলস হলো একটি। এটি মানুষের মলদ্বারের রোগ। এ রোগে মলদ্বারের ভেতরে বা বাইরে, চারপাশে বা একপাশে, একটি বা একাধিক, গোলাকৃতি বা সুচাল গুটিকা দেখা দেয়। এ গুটিকাগুলোকে ‘বলি’বা ‘গেজ’ বলা হয়। পায়খানা করার সময় এ বলিগুলো থেকে অভ্যন্তরীণ সমস্যার অনুপাতে কারো অধিক পরিমাণে, কারো স্বল্প পরিমাণে রক্ত যায়। আবার অনেকের রক্ত যায়ই না।
 
সৃষ্টির ইতিবৃত্ত :-
প্রতিনিয়ত আবহাওয়া ও খাদ্যাদি থেকে নানা রকম বিষ ও রোগ জীবাণু আমাদের দেহের ভেতরে প্রবেশ করে। শক্তিশালী জীবনীশক্তি এ বিষসমূহের কিছু দেহাভ্যন্তরে ধ্বংস করে ও কিছু পায়খানা প্রস্রাব ও ঘর্ম ইত্যাদি স্বাভাবিক স্রাবের মাধ্যমে বাইরে বের করে দিয়ে দেহকে সুস্থ রাখে। এমন কিছু জীবাণু আছে যেগুলোকে জীবনীশক্তি ধ্বংস করতে পারে না এবং নিষ্কাশিত করাও জীবনীশক্তির সামর্থ্য হয় না। সে জীবাণুগুলো দেহের মধ্যকার ত্রিদোষ (সোরা, সিফিলিস, সাইকোসিস)-এর যে কোনো দোষ বা দোষসমূহের দ্বারা প্রবল শক্তি অর্জন করে এবং মারাত্মক ব্যধির সৃষ্টি করে জীবনীশক্তির পতন ঘটানোর চেষ্টা করে। এ অবস্থায় জীবনীশক্তি যে কোনো স্রাবকারী নতুন পথের সৃষ্টি করে ওই প্রবল বিষ বা বিষবাষ্প বের করে যন্ত্রটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।
 
অর্শের কারণ :-
  • পুরনো কোষ্ঠকাঠিন্য।
  • লিভার সিরোসিস, যকৃতে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চয় ও অত্যধিক মস্তিষ্কের কাজ।
  • মূত্রাশয়ের গোলযোগ, প্রোস্টেট ক্যান্সার, গর্ভাবস্থায় মহিলাদের জরায়ুতে চাপ পড়লে।
আকৃতি অনুযায়ী প্রকারভেদ :-
  • ছোলার মতো,
  • আঙুরের মতো,
  • খেজুর গাছের শিকড়ের মতো,
  • রেশন গাছের গোটার মতো,
  • খেজুরের মতো,
  • ডুমুরের মতো।
শিরা স্ফীতির ওপর প্রকারভেদ যথা :-
১. মলদ্বারের অভ্যন্তরে অর্শ : ১-২ ইঞ্চি ভেতরের দিকে শিরার স্ফীতি হয়ে বলির সৃষ্টি হয়। একে আবার ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
  • প্রথমতঃ মলদ্বারের ভেতর থেকে ব্যথাহীন রক্তপাত হয়। কিন্তু অর্শের বলি মলদ্বারের বাইরে বের হয়ে আসে না।
  • দ্বিতীয়তঃ বলি মলদ্বারের বাইরে বের হয়ে আসে, তবে মলত্যাগের পর নিজেই ভেতরে চলে যায়।
  • তৃতীয়তঃ বলিগুলো বাইরে বের হয়ে আসে এবং হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে না দিলে বাইরেই থেকে যায়।
২. মলদ্বারের বাইরে অর্শ : মলদ্বারের বাইরে বলির সৃষ্টি হয় এবং হাত দিয়ে তা অনুভব করা যায় এবং
৩. মিশ্র অর্শ : এক্ষেত্রে মলদ্বারের ভেতরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই অর্শের বলি পাওয়া যায়।
লক্ষণসমূহ :-
  • পায়খানা করার সময় অত্যধিক বা অল্প পরিমাণে রক্ত যেতে পারে।
  • গুহ্য দ্বারে জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যায়।
  • টাটানি ও যন্ত্রণা।
  • কাঁটাবিদ্ধ অনুভূতি।
  • মাথা ধরা ও মাথা ভার বোধ।
  • উরুদেশ, বক্ষ, নাভির চারপাশে ব্যথা ও মলদ্বারে ভার বোধ।
  • কোমর ধরা ও কোষ্ঠবদ্ধতা।
অর্শ রোগে আক্রান্তদের করণীয় :-
  • নিয়মিত পায়খানা করা।
  • পেটে হজম হতে চায় না এমন খাদ্য বর্জন করা।
  • চিকিৎসকের পরামর্শমতো বিশ্রাম নেয়া।
  • হাতুরে ডাক্তার বা কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা না করা।
প্রতিরোধের উপায় :-
  • কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সে দিকে খেয়াল রাখা।
  • নিয়মিত ঘুমানো।
  • পরিমাণ মতো পানি পান করা।
  • অতিরিক্ত পরিশ্রম না করা।
  • তরলও সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণ।
  • অধিক মশলা জাতীয় খাদ্য পরিহার করা।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা :-
হোমিওপ্যাথি রোগ নিরাময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র ও সদৃশ উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয়। এটি উপসর্গ ও জটিলতা মুছে ফেলে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য অবস্থায় রোগীর ফিরে যাবার একমাত্র উপায়। সদৃশবিধানের লক্ষ্য শুধু অর্শ চিকিত্সা নয়, তার অন্তর্নিহিত কারণ ও স্বতন্ত্র প্রবণতা মোকাবেলায়ও সহায়তা করে। স্বতন্ত্র ঔষধ নির্বাচন এবং চিকিত্সার জন্য, রোগীকে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ও রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত ।
যে সকল কারণে মলদ্বারের নিকটবর্তী শিরা সমূহে রক্ত চলা-চলের গতিরোধ হয়ে রক্ত সঞ্চিতির ফলে স্ফীতি এবং বড় হয় তাকে পাইলস বা অর্শ বলে। কখনও একটা কখনও বা একাদিক থোকা থোকা আঙ্গুরের ন্যায় দেখতে পাওয়া যায়। অর্শের বলি মলদ্বারের বাইরে থাকলে তাকে বর্হিবলি এবং অভ্যন্তরে থাকলে তাকে অন্তর্বলি বলে।
মানুষের রোগব্যাধির মধ্যে মলদ্বারের রোগই সবচেয়ে বেশি স্বচিকিৎসা এবং হাতুড়ে চিকিৎসা হয়। কিছুটা ভয় ও বিব্রতকর অনুভূতির জন্য এ জাতীয় রোগ হলে রোগীরা ডাক্তার দেখাতে চায় না। রোগীরা নিজে নিজে অথবা সস্তায় পাওয়া হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যান বেশি। বিভিন্ন কুসংস্কার এবং মলদ্বারের সব রোগই পাইলস এ ভ্রান্ত ধারনার কারনে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন,যা কখনো কখনো ভয়াবহ পরিনতি ডেকে আনে।
পাইলসের প্রকারভেদ :-
বলিভেদে পাইলস দুই প্রকার। যথা- বহির্বলি ও অন্তর্বলি। আবার স্রাব সম্বন্ধীয় পাইলস বা অর্শকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
  • যে অর্শ থেকে প্রবল রক্ত ধারা ছুটে তাকে রক্তস্রাবী পাইলস বলে।
  • যে অর্শে রক্ত স্রাব থাকে না কিন্তু জ্বালা যন্ত্রনা, সুঁচ ফোটান ব্যথা ইত্যাদি কষ্টদায়ক উপসংগ থাকে তাকে অস্রাবী পাইলস বলে।
  • যে অর্শে কেবল মাত্র আম নির্গত হয় তাকে আম শ্রাবী পাইলস বলে যা বর্ষাকালেও বসন্তকালে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
যে রোগীরা পাইলসে ভোগেন তাদের সাধারনত কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া জাতীয় সমস্যা থাকে। অনেক রোগী আছেন যাদের পেটে গ্যাস হয়। পায়খানার সঙ্গে মিউকাস বা আম যায়। পায়খানা করার পর মনে হয় ক্লিয়ার হয়নি। দুধ, পোলাও, ঝাল, গরু বা খাসির মাংস ইত্যাদি খেলে হজমে গোলমাল হয়। টয়লেটে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয়। অনেকে মলদ্বারের ভেতর আঙুল দিয়ে মলত্যাগ করেন। রোগীরা এ সমস্যাগুলোকে গ্যাস্ট্রিক বা ক্রনিক আমাশয় হিসেবে মনে করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে আমরা বলি ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ডোম বা আইবিএস। এ জাতীয় রোগীদের দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, পোলাও, ঝাল, বিরিয়ানি খাওয়া নিষেধ।
পাইলসের উৎপত্তি :-
কোষ্ঠবদ্ধতা, উৎকট উদরাময়, যকৃতের বিবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মদ্য কিংবা মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার, অলস জীবন যাপন, স্ত্রীলোকের জরায়ুর বিবৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে বস্তি গহ্বরের শিরা সকলে চাপা পড়ে। ফলে রক্তের গতিরুদ্ধ হওয়ার কারণে মলদ্বারে নিকটবর্তী শিরা সকল রক্ত সঞ্চিত হয়ে স্ফীত হয়। এভাবে অর্শের জন্ম হয়। মোট কথা বস্তি গহ্বরের শৈরিক রক্তস্রোত বাধা প্রাপ্ত হলেই পাইলস বা অর্শের উৎপত্তি ঘটে।
এই রোগের লক্ষনাদি :-

মলের সঙ্গে রক্তের ছিটে দেখা যায় অথবা সময় সময় এক বারকার পাইখানাতেই প্রায় এক ছটাক হতে আধ পোয়া পর্যন্ত রক্ত বাহির হয়। মল ত্যাগকালে রোগী বিষম কষ্ট পান এবং সরলাস্ত্র মধ্যে জ্বালা, দপ্‌দপানি ও চিড়িক মারা মতন যাতনা ভোগ করেন এবং সময় বিশেষে মল নির্গত হয়ে যাবার পরও অনেকক্ষন পর্যন্ত উক্ত যাতনাদি অবস্থান করে। যখন অর্শের বলীগুলো প্রদাহিত হয় অথবা গুহ্যদ্বারের পেশী বা স্ফিংটার দ্বারা নিষ্পেষিত হয়, তখন অতিশয় ক্লেশ বোধ হতে থাকে এবং উপর্যুপরি দুই তিন দিন পর্যন্ত রোগী বিছানা হতে উঠে কোন কাজকর্ম করতে পারেন না। প্রায় সকল সময়েই অর্শ্বরোগের সাথীরূপে কোষ্টবদ্ধতা প্রকাশ পায়। এই রোগ কতকটা পূর্বোক্ত “মেক্যানিক্যাল অবষ্ট্রাকসান” এবং কতকটা মলত্যাগকালীন যন্ত্রনা জন্য আনীত হয়। অর্শরোগ নিবন্ধন, আলস্য বোধ, রুক্ষ্ম মেজাজ, শিরপীড়া, মূর্চ্ছাভাব এবং পরবর্তী অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তস্রাবহেতু রক্তাল্পতা ও মাথা ঘোরা, উপসর্গ রূপ দেখা দেয়।
খাদ্যাভাসের পরিবর্তন :-
আমরা প্রচুর রোগী পাই। যাদের সঠিক খাদ্যাভাসের অভাবে পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ হয়। পায়খানার পরিমান বাড়ে এমন খাবার খাওয়া উচিত। যেমন- শাক, সবজি,সালাদ, ফল, ইসুপগুলের ভূষি, গমের ভূষি ইত্যাদি। দৈনিক পরিমিত পানীয় খেতে হবে। একজন পূর্ন বয়স্ক লোকের জন্য ৬-৮ গ্লাস পানি প্রতিদিন পান করতে হবে।
হোমিওপ্যাথিক প্রতিবিধান :-
পাইলস বা অর্শে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের কার্যকারিতা বহু প্রাচীনকাল থেকেই সন্দেহাতীতভাবে দৃঢ়তার সাথে প্রমানিত হয়ে আসছে। কেন্ট রেপার্টরীর প্রয়োগ-সংকেতও এ পীড়ায় প্রনিধানযোগ্য। অর্শে বহুল প্রচলিত ওষধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিশেু প্রদত্ত হল।
  • শ্রম বিমুখতা ও ভোগ বিলাসিতাজনিত অর্শে নাক্স ভমিকা, সালফার, পডোফাইলাম, পালসেটিলা বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে,
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হেতু অর্শে ইস্কিউলাস, নাক্স, সালফার,কলিনসোনিয়া ও কার্বোভেজ
  • গর্ভাবস্থায় অর্শে- কলিনসোনিয়া, ইস্কুলাস, নাক্স ভমিকা,হ্যামামেলিস, অ্যাসিড মিউর, অ্যালো,
  • রক্তস্রাবী অর্শে- কলিনসোনিয়া, ইগ্লোসিয়া, র‌্যাটানহিয়া,হ্যামামেলিস, পিওনিয়া, এব্রোটেনাম, সালফার, ক্যাপসিকাম, ইস্কুইলাস-গ্ল্যাবরা, এসিড নাইট্রিক,তমন কার্ব।
  • অস্রাবী অর্শে- আর্সেনিক এল্ব, একোনাইট ন্যাপ, ইস্কুইলাস হিপ, এসিড মিউর, এমন মিউর,প্লান্টেগো, ক্যালিকার্ব।
  • আমস্রাবী অর্শে- এন্টিম ক্রুড, হিসার সালফ, লাইকোপডিয়াম সফলতার সাথে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
 
 

Friday, March 2, 2018

রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল রোধ করবে খাবার




কিছু খাবার নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে রক্তে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যাবে। ফলে বাড়বে আয়ু, কমে রোগভোগের আশঙ্কা।  যেসব খাবারগুলি নিয়মিত খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে সেগুলির একটি তালিকা পাঠকদের জন্য দেওয়া হল-

১।মধু ও পেঁয়াজের রস-
এক চামচ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে দিনে একবার করে এই মিশ্রন খান। টানা কয়েক মাস খেলেই সুফল মিলতে শুরু করবে।

২। আমলকি-
এক গ্লাস গরম পানিতে এক চামচ আমলকি পাউডার মিশিয়ে প্রতিদিন খালি পেটে পান করা শুরু করুন। কয়েক সপ্তাহ এই ঘরোয়া টোটকাকে কাজে লাগালেই দেখবেন কোলেস্টেরল একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

৩।  কমলা লেবুর রস-
এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি এবং ফ্লেবোনয়েড, যা বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। তাই এই শীতে প্রতিদিন কম করে ২-৩ বার কমলা লেবুর রস খেতে ভুলবেন না যেন!

৪। মাছ-
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত মাছ খাওয়া শুরু করলে শরীরে উপকারি ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫। সয়াবিন-
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ২৫ গ্রাম করে সয়া প্রোটিন শরীরে প্রবেশ করলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ৫-৬ শতাংশ হারে কমতে শুরু করে। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে এল ডি এল কোলেস্টেরলের মাত্রা যত কমে, তত হার্টের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

যেভাবে বুঝবেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে চলেছে



বিভিন্ন কারনে নারী শরীরে হরমোনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অবশ্য কয়েকটা লক্ষনের দ্বারা ভাল ভাবে বোঝা সম্ভব। কারণ হরমোনের গণ্ডগোলের থেকেই উৎপত্তি হয় বিভিন্ন রোগের উপসর্গ। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য এভাবে ব্যহত হবার পেছনে থাকতে পারে গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যা। বিশেষ করে নিচের কয়েকটি লক্ষণ দেখতে পেলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটাই ভাল-

১।ত্বকের অবনতি- ত্বকে ব্রণ ওঠার ব্যাপারটাকে অনেকেই হেলাফেলার দৃষ্টিতে দেখেন। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মুখের নিচের অংশে ব্রণ ওঠার সাথে শরীরে উঁচুমাত্রার টেস্টোস্টেরনের সংযোগ থাকতে পারে। শরীরের গোপন অঙ্গে হঠাৎ করে পশম জন্মাতে শুরু করতে পারে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যাবার কারণে। আর টেস্টোস্টেরন এভাবে বেড়ে যেতে পারে যদি শরীরে এক ধরণের টিউমার থেকে থাকে।

২।অবসাদ- অবসাদের অনেক কারণ থাকতে পারে। শুধুমাত্র ক্লান্তি মনে করে একে উড়িয়ে দেন অনেকেই। সারা সপ্তাহ কাজ বা পড়াশোনার ধকলের পর ক্লান্ত থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু সারাক্ষণই ক্লান্ত থাকা এবং তার পাশাপাশি ওজন বেড়ে যাওয়া, রুচির পরিবর্তন এবং বদহজমের উপসর্গ থাকলে তা হলে পারে আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েডের লক্ষণ। কোনো কারণ ছাড়াই সবসময় ক্লান্ত লাগলে ডাক্তারকে জানান।

৩।ঘুমের মাঝে ঘেমে যাওয়া- অনেকেই এমন আছেন, যারা ঘুমের মধ্যেই ঘেমে যান। বেডরুমে ইলেক্ট্রিসিটি থাকা সত্ত্বেও ঘেমে যাওয়া মানে, হতে পারে ইস্ট্রোজেনের অভাব এবং অনিয়মিত ডিম্বপাত। এই জটিলতাকে বলা হয় প্রি মেনোপজ। মেনোপজ হবার মতো বয়স হবার আরও বছর দশেক আগেই দেখা দিতে পারে প্রি মেনোপজ। এসব উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন সমস্যাটি আরও গুরুতর কি না।

৪।অনিয়মিত পিরিয়ড- অবসাদের মতই অনিয়মিত পিরিয়ডের পেছনেও থাকতে পারে অনেক কারণ। যেমন স্ট্রেস, থাইরয়েডের সমস্যা, ইস্ট্রোজেনের অভাব অথবা পি সি ও এস (পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম)। পি সি ও এস এর লক্ষণ হলো অনিয়মিত পিরিয়ড, অনিয়ন্ত্রিত ওজন বাড়া অথবা শরীরে পশমের আধিক্য।
প্রসঙ্গত, প্রতি মাসেরই একটি নির্দিষ্ট সময়ে নারীদের শরীরে হরমোনের ক্রিয়াকলাপ বেড়ে যায়। এ সময়ে হরমোন তাদের শারীরিক এবং মানসিক অবস্থার ওপর বেশ বড় প্রভাব রাখে। পিরিয়ডের পর শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেও মাঝে মাঝে দেখা যায় অকারণেই অনেক দিন ধরে রয়ে যায় এসব উপসর্গ।

পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায় যেসব কারণে

শুক্রাণু সংখ্যা কমে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ আমাদের চারপাশে রয়েছে। দৈনন্দিন অভ্যাস এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার শরীরে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে।গবেষণায় দেখা গেছে খুব সাধারণ কিছু অভ্যাস থেকে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যেতে পারে।

এদিকে পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের জন্য দায়ী অন্যতম কারণ হচ্ছে শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান কমে যাওয়া। পুরুষদের কিছু অভ্যাস তাদের যৌন স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে যা গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রাণুর গুণমান না থাকায় অনেক দম্পতিরা সমস্যার সম্মুখীন হয়।

খুব সাধারণ কিছু অস্বাস্থ্যকর দৈনন্দিন অভ্যাস এখানে তুলে ধরা হল-
১.পকেটে ফোন রাখা
ফোনটি হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে হয়ত প্যান্টের সামনের পকেটে রাখা নিরাপদ মনে করছেন। কিন্তু এটিও শুক্রাণুর জন্য সম্ভাব্য ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে স্মার্ট ফোন থেকে যে বিকিরণ বের হয় তা পুরুষদের প্রজনন নষ্ট করতে শতকরা নয়ভাগ ভূমিকা রাখে।

২. কোমল পানীয় পানের অভ্যাস
কার্বনেটেড ড্রিঙ্ক বা কোমল পানীয় এবং খুব ঠাণ্ডা পানীয় পছন্দ করেন, তাহলে শুক্রাণুর গতিশীলতা প্রভাবিত হতে পারে। দিনে এক বোতল কার্বনেটেড পানীয় পান করলেও  শুক্রাণুর গতিশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। তেমনি অত্যধিক বিয়ার পান করলে শুক্রাণু দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কারন কার্বনেটেড পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি থাকে, যা শরীরে ইনসুলিন তৈরীতে ব্যাহত করে এবং শুক্রাণু গতিশীলতা কমিয়ে দেয়।

৩. কোলের উপর ল্যাপটপ রাখা
ল্যাপটপ কোলে রেখে ব্যবহার করতে হয়ত বেশি সুবিধাজনক লাগে। কিন্তু এই অভ্যাসের কারণে যে বাবা হয়ে একটি শিশু কোলে নেওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। হ্যাঁ, ল্যাপটপের মৌলিক কিছু উপাদান  শুক্রাণুও হত্যা করতে পারে। যন্ত্রটি ঠান্ডা থাকার প্রয়োজন, যা অবশ্যই শরীরের বাইরে রেখে। কারণ যখন ল্যাপটপটি কোলের উপর রাখা হয়, এর গরম শরীরের সংস্পর্শে আসে। ফলস্বরূপ, শুক্রাণু মরে যেতে পারে।

৪. তীব্র গরম পানি ব্যবহার
সারাদিনের কাজ শেষে একটি দীর্ঘ উষ্ণ গোছল অবশ্যই কাম্য । তবে বাষ্পীয় গরম গোছল যেন তীব্র তাপমাত্রায় না হয় তাহলে শুক্রাণু ক্ষতি হতে পারে।

৫. স্লিমফিট জিনস
স্লিমফিট জিনস হয়ত পুরুষদের আকর্ষণীয় লাগে দেখতে কিন্তু জিনসও শুক্রাণুর সংখ্যার পরিমাণ হ্রাস করতে পারে। বেশি চাপা জিনস বা প্যান্ট শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে, ফলে যে তাপ সৃষ্টি হয় তা শুক্রাণুর জন্য ভালো না।

৬. কম ঘুমানো
কম ঘুমালে শরীরে সব ধরনেরই সমস্যা হতে পারে। মন ও শরীরের সঠিকমাত্রায় বিশ্রাম হলেই শুক্রানু হবে স্বাস্থ্যবান। কার্যকরী ও সক্রিয় শুক্রাণুর জন্য পরিপূর্ণ ঘুমের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে একজন পুরুষের ন্যূনতম সাত-আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে।