হলিউডের কল্যাণে স্পেশাল ফোর্স এখন বেশ জনপ্রিয় শব্দ। স্পেশাল ফোর্স শুনতেই বেশ রোমাঞ্চ অনুভব হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এখন স্পেশাল ফোর্স আছে। গোয়েন্দাগিরি এবং গোপন অভিযানের উদ্দেশ্যেই এই ফোর্স তৈরি করা হয়। জার্মানদের হাত ধরেই এই স্পেশাল ফোর্সের উৎপত্তি ।
বিংশ শতাব্দীতে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল, সেই সময়কার কথা। জার্মানি গোপনে লড়াই চালানো এবং অন্যান্য দেশের সামরিক খবর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে ব্র্যান্ডেরবুর্গ নামে একটি ফোর্স গঠন করে। ওখান থেকেই স্পেশাল ফোর্সের উৎপত্তি। আর এখানকার কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় মূলত সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী থেকে। স্পেশাল ফোর্সে প্রবেশের আগেই অনেক কঠিন প্রশিক্ষণের কাঠ খর পোরাতে হয়। পরিশ্রম ওখানেই শেষ নয়। ফোর্স জয়েন করার পরই শুরু হয় আসল খেল। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্ব সেরা ১০ স্পেশাল ফোর্স সম্পর্কে।
১। ইউনাইটেড স্টেটস নেভি সিলস (United States Navy Seals)
ইউনাইটেড স্টেটস নেভি সিলস বিশ্বের সেরা স্পেশাল ফোর্সগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি পরিচিত। নেভি সিলস ১৯৬২ সালে গঠিত হয়। এই স্পেশাল ফোর্স মার্কিন নৌবাহিনীর অন্তর্গত। তবে তাদের সেনাদের স্থল, জল ও আকাশে যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। টুইন টাওয়ারে হামলার পর থেকে সিলস যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ও পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লাদেনকে হত্যার অভিযানে সিলস এবং সিআইএ একসঙ্গে কাজ করছে।
২। স্পেশাল বোট সার্ভিসেস (Special Boat Services)
যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি দুর্ধর্ষ বাহিনী স্পেশাল বোট সার্ভিসেস । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই এই স্পেশাল ফোর্স কাজ করছে। নৌযুদ্ধেই এই বিশেষ ফোর্সকে কাজে লাগানো হয়। তবে, সামুদ্রিক পথে গিয়ে স্থলে নেমেও যুদ্ধ করতে সিদ্ধহস্ত এই বাহিনীর সেনারা। এসবিএস যোগ দেওয়ার আগে অত্যন্ত কঠোর প্রশিক্ষণ পাশ করতে হয়। পাহাড়ি এলাকা এবং জঙ্গলের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, কিভাবে বেঁচে থেকে লড়াই করতে হয়।
৩। ব্রিটিশ স্পেশাল এয়ার সার্ভিসেস (Special Air Services)
ব্রিটিশ স্পেশাল এয়ার সার্ভিসেসকে সংক্ষেপে বলা হয় এসএএস। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে এই শাখা গঠন করেছিল। ১৯৪৭ সালে এসএএসকে স্থল সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পুনর্গঠিত করা হয়েছিল। ১৯৮০ সালে লন্ডনে ইরানের দূতাবাস সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য এসএএস অভিযান চালিয়েছিল।
৪। সায়েরেত মতকল (Sayeret Matkal)
সায়েরেত মতকল ইসরাইলের স্পেশাল ফোর্স। এই স্পেশাল ফোর্সের অন্যতম কাজ গোয়েন্দাগিরি এবং গোপন খবর সংগ্রহ করা। শত্রু দেশের সীমা পার করে খবর আনতেও তারা বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদলেই এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
৫। জিআইজিএন (GIGN)
ফ্রান্সের ন্যাশনাল গেন্ডারমেরি ইন্টারভেনশন গ্রুপের সঙ্গে পেরে উঠতে পারে এমন এলিট ফোর্স খুব কমই রয়েছে। জিআইজিএন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কাজকর্ম চালায় । ২০০জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অফিসারের এই ফোর্স যে কোনও পরিস্থিতিতে বন্দি উদ্ধারে সিদ্ধহস্ত। ১৯৭৩ সাল থেকে জিআইজিএন কাজ করে আসছে। মিউনিখ অলিম্পিক গেমসের সময় ইসরায়েলি অ্যাথলেটদের অপহরণের ঘটনার পরই এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করে ফ্রান্সের সেনাবাহিনী।
৬। আলফা গ্রুপ (Alpha Group)
গোপন সামরিক অভিযানের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পেশাল ফোর্স হিসেবে স্বীকৃত রাশিয়ার আলফা গ্রুপ। ১৯৭৪ সালে রাশিয়েতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কেজিবি এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করেছিল। বর্তমানে তাদের সঙ্গে এফএসবি নামে আরও একটি শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে কেজিবি।
৭। ইউনিদাদ দে অপারেসিওনেস এসস্পেশিয়ানেস (Unidad de Operaciones Especiales)
‘ইউনিদাদ দে অপারেসিওনেস এসস্পেশিয়ানেস’ স্পেনের স্পেশাল ফোর্স। ২০০৯ সাল থেকেই মূলত তারা গোটা বিশ্বের সঙ্গে পরিচিত হয় । তার আগে এরা গোপনই কাজ পরিচালনা করতো। স্পেনীয় নৌসেনার বিশেষ এই শাখা ইউরোপে অন্যতম
৮। মার্কোস (MARCOS)
মেরিন কমান্ডো ফোর্স (মার্কোস) ভারতীয় নৌসেনার একটি বিশেষ শাখা। জল ও স্থলে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সম্মুখসমর, বিশেষ ধরনের হামলা চালানো, যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা, বন্দি উদ্ধার, এবং যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আটকানোর মতো বিভিন্ন কাজে দক্ষ ভারতীয় নৌসেনার এই স্পেশাল ফোর্স। মার্কোসের প্রতিটি সদস্য যুদ্ধের সময় যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম।
৯। ডেল্টা ফোর্স (Delta Force)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স ফাস্ট স্পেশাল ফোর্সেস অপারেশনাল ডিটাচমেন্ট-ডেল্টা (ফাস্ট এসএফওডিডি)। ডেল্টা ফোর্স নামেই এই বাহিনী বহুল পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদের মুখে বারবার পড়ায়, ১৯৯৭ সালে ডেল্টা ফোর্স গঠন করে। সন্ত্রাস দমন, গোপনে আক্রমণ চালানো, বন্দি উদ্ধারের মতো নানান গোপন মিশনে ডেল্টা ফোর্সকে ব্যবহার করা হয়।
১০। জিএসজি ৯ (GSG 9)
জার্মান ফেডারেল পুলিশের সন্ত্রাস দমন এবং বিশেষ কার্যসম্পাদন শাখা জিএসজি ৯ । ১৯৭৩ সালে এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করা হয়। বন্দি উদ্ধার, অপহরণের ঘটনা, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার মতো পরিস্থিতিতে জিএসজি ৯কে ব্যবহার করে জার্মান পুলিশ। তাদের সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত, দেড় হাজারেরও বেশি স্পেশাল অপারেশন সামলেছে এই স্পেশাল ফোর্স।
বিংশ শতাব্দীতে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল, সেই সময়কার কথা। জার্মানি গোপনে লড়াই চালানো এবং অন্যান্য দেশের সামরিক খবর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে ব্র্যান্ডেরবুর্গ নামে একটি ফোর্স গঠন করে। ওখান থেকেই স্পেশাল ফোর্সের উৎপত্তি। আর এখানকার কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় মূলত সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী থেকে। স্পেশাল ফোর্সে প্রবেশের আগেই অনেক কঠিন প্রশিক্ষণের কাঠ খর পোরাতে হয়। পরিশ্রম ওখানেই শেষ নয়। ফোর্স জয়েন করার পরই শুরু হয় আসল খেল। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্ব সেরা ১০ স্পেশাল ফোর্স সম্পর্কে।
১। ইউনাইটেড স্টেটস নেভি সিলস (United States Navy Seals)
ইউনাইটেড স্টেটস নেভি সিলস বিশ্বের সেরা স্পেশাল ফোর্সগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি পরিচিত। নেভি সিলস ১৯৬২ সালে গঠিত হয়। এই স্পেশাল ফোর্স মার্কিন নৌবাহিনীর অন্তর্গত। তবে তাদের সেনাদের স্থল, জল ও আকাশে যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। টুইন টাওয়ারে হামলার পর থেকে সিলস যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ও পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লাদেনকে হত্যার অভিযানে সিলস এবং সিআইএ একসঙ্গে কাজ করছে।
২। স্পেশাল বোট সার্ভিসেস (Special Boat Services)
যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি দুর্ধর্ষ বাহিনী স্পেশাল বোট সার্ভিসেস । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই এই স্পেশাল ফোর্স কাজ করছে। নৌযুদ্ধেই এই বিশেষ ফোর্সকে কাজে লাগানো হয়। তবে, সামুদ্রিক পথে গিয়ে স্থলে নেমেও যুদ্ধ করতে সিদ্ধহস্ত এই বাহিনীর সেনারা। এসবিএস যোগ দেওয়ার আগে অত্যন্ত কঠোর প্রশিক্ষণ পাশ করতে হয়। পাহাড়ি এলাকা এবং জঙ্গলের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, কিভাবে বেঁচে থেকে লড়াই করতে হয়।
৩। ব্রিটিশ স্পেশাল এয়ার সার্ভিসেস (Special Air Services)
ব্রিটিশ স্পেশাল এয়ার সার্ভিসেসকে সংক্ষেপে বলা হয় এসএএস। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে এই শাখা গঠন করেছিল। ১৯৪৭ সালে এসএএসকে স্থল সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পুনর্গঠিত করা হয়েছিল। ১৯৮০ সালে লন্ডনে ইরানের দূতাবাস সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য এসএএস অভিযান চালিয়েছিল।
৪। সায়েরেত মতকল (Sayeret Matkal)
সায়েরেত মতকল ইসরাইলের স্পেশাল ফোর্স। এই স্পেশাল ফোর্সের অন্যতম কাজ গোয়েন্দাগিরি এবং গোপন খবর সংগ্রহ করা। শত্রু দেশের সীমা পার করে খবর আনতেও তারা বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদলেই এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
৫। জিআইজিএন (GIGN)
ফ্রান্সের ন্যাশনাল গেন্ডারমেরি ইন্টারভেনশন গ্রুপের সঙ্গে পেরে উঠতে পারে এমন এলিট ফোর্স খুব কমই রয়েছে। জিআইজিএন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কাজকর্ম চালায় । ২০০জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অফিসারের এই ফোর্স যে কোনও পরিস্থিতিতে বন্দি উদ্ধারে সিদ্ধহস্ত। ১৯৭৩ সাল থেকে জিআইজিএন কাজ করে আসছে। মিউনিখ অলিম্পিক গেমসের সময় ইসরায়েলি অ্যাথলেটদের অপহরণের ঘটনার পরই এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করে ফ্রান্সের সেনাবাহিনী।
৬। আলফা গ্রুপ (Alpha Group)
গোপন সামরিক অভিযানের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পেশাল ফোর্স হিসেবে স্বীকৃত রাশিয়ার আলফা গ্রুপ। ১৯৭৪ সালে রাশিয়েতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কেজিবি এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করেছিল। বর্তমানে তাদের সঙ্গে এফএসবি নামে আরও একটি শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে কেজিবি।
৭। ইউনিদাদ দে অপারেসিওনেস এসস্পেশিয়ানেস (Unidad de Operaciones Especiales)
‘ইউনিদাদ দে অপারেসিওনেস এসস্পেশিয়ানেস’ স্পেনের স্পেশাল ফোর্স। ২০০৯ সাল থেকেই মূলত তারা গোটা বিশ্বের সঙ্গে পরিচিত হয় । তার আগে এরা গোপনই কাজ পরিচালনা করতো। স্পেনীয় নৌসেনার বিশেষ এই শাখা ইউরোপে অন্যতম
৮। মার্কোস (MARCOS)
মেরিন কমান্ডো ফোর্স (মার্কোস) ভারতীয় নৌসেনার একটি বিশেষ শাখা। জল ও স্থলে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সম্মুখসমর, বিশেষ ধরনের হামলা চালানো, যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা, বন্দি উদ্ধার, এবং যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আটকানোর মতো বিভিন্ন কাজে দক্ষ ভারতীয় নৌসেনার এই স্পেশাল ফোর্স। মার্কোসের প্রতিটি সদস্য যুদ্ধের সময় যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম।
৯। ডেল্টা ফোর্স (Delta Force)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স ফাস্ট স্পেশাল ফোর্সেস অপারেশনাল ডিটাচমেন্ট-ডেল্টা (ফাস্ট এসএফওডিডি)। ডেল্টা ফোর্স নামেই এই বাহিনী বহুল পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদের মুখে বারবার পড়ায়, ১৯৯৭ সালে ডেল্টা ফোর্স গঠন করে। সন্ত্রাস দমন, গোপনে আক্রমণ চালানো, বন্দি উদ্ধারের মতো নানান গোপন মিশনে ডেল্টা ফোর্সকে ব্যবহার করা হয়।
১০। জিএসজি ৯ (GSG 9)
জার্মান ফেডারেল পুলিশের সন্ত্রাস দমন এবং বিশেষ কার্যসম্পাদন শাখা জিএসজি ৯ । ১৯৭৩ সালে এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করা হয়। বন্দি উদ্ধার, অপহরণের ঘটনা, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার মতো পরিস্থিতিতে জিএসজি ৯কে ব্যবহার করে জার্মান পুলিশ। তাদের সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত, দেড় হাজারেরও বেশি স্পেশাল অপারেশন সামলেছে এই স্পেশাল ফোর্স।

No comments:
Post a Comment