Sunday, July 31, 2016

৫০ দেশে যেতে বাংলাদেশিদের ভিসা লাগবে না

৫০ দেশে যেতে বাংলাদেশিদের ভিসা লাগবে না
একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনি গর্ব করতেই পারেন। কারণ ভিসা ছাড়াই শুধু বাংলাদেশের পাসপোর্টের জোরে আপনি ৫০টি দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন। আর্থিক খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আরটন ক্যাপিটাল প্রভাবশালী পাসপোর্টের তালিকা তৈরি করেছে, যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৭তম।

অরটন ক্যাপিটালের নিয়ন্ত্রিত পাসপোর্ট ইনডেস্ক ডটঅর্গ ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ৫০টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। এ দেশগুলোর কয়েকটিতে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের কোনো ভিসার প্রয়োজনই হয় না। বাকি দেশগুলোর প্রায় সবগুলোর ক্ষেত্রেই সেখানে পৌঁছে ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ করে নিতে হবে। আর, দু-একটি দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যবস্থা প্রযোজ্য।

পাসপোর্ট ইনডেক্স ডটঅর্গে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের প্রভাব নিয়ে ৮০ পর্যন্ত তালিকা করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৭। কোনো দেশের পাসপোর্টধারী ভিসা ছাড়াই অন্য দেশের যাওয়ার সংখ্যার ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও মাইক্রোনেশিয়া ও টোগোর পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই ৫০টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। পাসপোর্টের প্রভাবের তালিকায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর অবস্থান হলো, আফগানিস্তান ৭৯ (পূর্বে ভিসা লাগবে না ৩৮ দেশে), ভারত ৫৯ (ভিসাহীন ৫৯), পাকিস্তান ৭১ (ভিসাহীন ৪৬), মালদ্বীপ ৫৩ (ভিসাহীন ৬৫), নেপাল ৭৯ (ভিসাহীন ৩৮), ভুটান ৭৯ (ভিসাহীন ৪০), শ্রীলংকা ৭০ (ভিসাহীন ৪৭)। 

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী পাসপোর্ট হলো যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের। তালিকায় এক নম্বরে থাকা দেশ দুটির পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা ছাড়াই ১৪৭ টি দেশে যাওয়া যায়। আর তালিকার একদম তলানিতে ৮০তম অবস্থানে আছে সাওটম ও প্রিন্সিপে, ফিলিস্তিন, সলোমন আইল্যান্ড, মিয়ানমার ও দক্ষিণ সুদান। এই দেশগুলোর পাসপোর্টে মাত্র ২৮টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশাধিকার আছে।
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ৫০টি দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশের অনুমতির কথা বলা হলেও পার্সপোর্ট ইনডেস্ক ডট অর্গ দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করেনি। আর উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস সূত্রে নিন্মোক্ত ৪৫ টি দেশের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের 

পাসপোর্টধারীদের কোনো ভিসাই লাগবে না এমন দেশগুলো হলো :
১. বাহামাস (চার সপ্তাহ পর্যন্ত)
২. বার্বাডোস (ছয় মাস)
৩. ডোমিনিকা (ছয় মাস)
৪. ফিজি (চার মাস)
৫. গাম্বিয়া (তিন মাস)
৬. গ্রানাডা (তিন মাস)
৭. হাইতি (তিন মাস)
৮. জ্যামাইকা
৯. লেসোথো (তিন মাস)
১০. মালাওয়ি (তিন মাস)
১১. মাইক্রোনেশিয়া (এক মাস)
১২. সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস
১৩. সেইন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রানাডিনস (এক মাস)
১৪. ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো
১৫. ভানুয়াতু (এক মাস)
১৬. মন্টসেরাত (তিন মাস)
১৭. টার্ক অ্যান্ড সিসেরো আইল্যান্ড (এক মাস)
১৮. ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ড (এক মাস)
১৯. মাক্রোনেশিয়া (এক মাস)
২০. নিউয়ি (এক মাস)
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন, তবে সেখানে পৌঁছে ভিসা করতে হবে এমন দেশগুলো হলো:
১. ভুটান
২. বলিভিয়া (তিন মাসের ভিসা)
৩. কেপ ভার্দে
৪. কমোরোস
৫. গিনি বিসাউ (তিন মাস)
৬. মাদাগাস্কার (তিন মাস)
৭. মালদ্বীপ (এক মাস)
৮. মাওরিতানিয়া
৯. মোজাম্বিক (এক মাস)
১০. নেপাল (এক মাস)
১১. নিকারাগুয়া (তিন মাস)
১২. তিমরলেস্টে (এক মাস)
১৩. টোগো (সাত দিন)
১৪. তুভালু (এক মাস)
১৫. উগান্ডা
১৬. বুরুন্ডি
১৭. জিবুতি (এক মাস)
১৮. আজারবাইজান (এক মাস)
১৯. ম্যাকাউ (এক মাস)
বাংলাদেশের পাসপোর্ট থাকলে ভিসা লাগবে না তবে বিশেষ অনুমোদন লাগবে এমন দেশগুলো হলো :
১. কিউবা (টুরিস্ট কার্ড জোগাড় করতে হবে, মেয়াদ তিন মাস)
২. সামোয়া (ঢোকার অনুমতিপত্র থাকলেই হলো, মেয়াদ দুই মাস)
৩. সেচেলেস (ভ্রমণের অনুমতিপত্র থাকতে হবে, মেয়াদ এক মাস)
৪. সোমালিয়া (ওই দেশে থাকা কেউ স্পন্সর করলে ভিসা পৌঁছেও করা যাবে, যার মেয়াদ হবে এক মাস। তবে সোমালিয়া পৌঁছানোর দুদিন আগে সেখানকার বিমানবন্দরে বিষয়টি জানিয়ে রাখতে হবে)
৫. শ্রীলংকা (ভ্রমণের জন্য ইলেকট্রনিক অনুমোদনপত্র, মেয়াদ এক মাস)
৬. লাওস (সরকারি কোনো সফরের নথিপত্র থাকলে ভিসা প্রয়োজন হবে না)

Saturday, July 2, 2016

মোটরযান আইনের ধারা & অপরাধগুলোঃ


ধারা : ১৩৮। লাইসেন্স ব্যতীত মোটরযান চালাইলে সর্বোচ্চ চার মাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়বিধ শাস্তি পাইতে হইবে।
মোটরযান আইনের ধারা
ধারা : ১৩৯। নিষিদ্ধ হর্ণ কিংবা শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্র লাগান ও ব্যবহারঃ
# যদি মোটরযানে এমন ধরণের হর্ণ বা শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্র সংযোজন বা ব্যবহার করে যাহা সংশ্লিষ্ট এলাকায় যথাযোগ্য কর্র্তৃপক্ষ এই আইন অথবা তদধীনে প্রণীত কোন বিধি বা প্রবিধান মোতাবেক নিষিদ্ধ করিয়াছেন তাহা হইলে নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ একশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা হইবে।
(ইদানীং এই কারণে মামলা বেশি হচ্ছে। অনেকেই বেআইনী হুটার লাগাচ্ছেন গাড়িতে)

ধারা : ১৪১। লাইসেন্স সংক্রান্ত অপরাধসমূহঃ
(৩) যেকোন সময় মোটরযান চালনাকালে এই আইন অনুযায়ী কর্মরত যেকোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চাহিবামাত্র বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদর্শন করিতে ব্যর্থ হইলে দণ্ডস্বরূপ পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করা হইবে।
ধারা : ১৪২। নির্ধারিত গতির চেয়ে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাইলেঃ
# প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক তিনশত টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং
# তৎপরবর্তী অনুরূপ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং তাহার ড্রাইভিং লাইসেন্স অনধিক এক মাস মেয়াদের জন্য সাসপেণ্ড করা হইবে।

ধারা : ১৪৩। বেপরোয়াভাবে কিংবা বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালনাঃ
# প্রথমবার এই অপরাধ করিলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড কিংবা পাঁচশত টাকা জরিমানা হইবে এবং তাহার ড্রাইভিং লাইসেন্স একটা নির্ধারিত মেয়াদের জন্য সাসপেন্ড থাকিবে।

ধারা : ১৪৪। মদ্যপান কিংবা মাদকদ্রব্য সেবনের পর মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোঃ
# তিনি গাড়ির উপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করিতে অক্ষম, এমতাবস্থায় যদি তিনি গাড়ি চালান কিংবা চালানোর চেষ্টা করেন, তবে অনুরূপ অপরাধ প্রথমবার সংঘটনের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয়বিধ শাস্তি হইবে।

ধারা : ১৪৫। শারীরিক কিংবা দৈহিকভাবে অনুপযুক্ত অবস্থায় গাড়ি চালনাঃ
# প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ শত টাকা জরিমানা হইবে এবং তাহার ড্রাইভিং লাইসেন্স নিদিষ্ট মেয়াদে বাতিল করা হইবে।

ধারা : ১৪৭। কতিপয় অপরাধ করিতে সহায়তার জন্য শাস্তিঃ
>> কোন ব্যক্তি ১৪৩ কিংবা ১৪৫ ধারা অনুযায়ী কোন একটি অপরাধ সংঘটনের সহায়তা করিলে তিনি সেই অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হইবেন।

ধারা : ১৪৮। মোটরগাড়ির দৌড়বাজি কিংবা গতি পরীক্ষাঃ
# সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড অথবা পাঁচশত টাকা জরিমানা কিংবা উভয়বিধ শাস্তি পাইবার যোগ্য হইবেন এবং তাহার ড্রাইভিং লাইসেন্স সর্বোচ্চ এক বৎসরের জন্য সাসপেন্ড করা যাইতে পারে।

ধারা : ১৪৯। নিরাপত্তাবিহীন অবস্থায় গাড়ি ব্যবহারঃ
# সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক দুইশত পঞ্চাশ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন। সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়বিধ দণ্ড হইবে।

ধারা : ১৫০। ধোঁয়া বাহির হওয়া মোটরযান ব্যবহারঃ
# এমনভাবে ধোঁয়া বাহির হয় যাহার ফলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হইতে পারে, অনুরূপ মোটরগাড়ি কেহ প্রকাশ্য স্থানে চালাইলে, সর্বোচ্চ দুইশত টাকা জরিমানা হইবে।

ধারা : ১৫১। এই অধ্যাদেশের সাথে সঙ্গতিবিহীন অবস্থায় গাড়ি বিক্রয় অথবা গাড়ির পরিবর্তন সাধনঃ
# সর্বোচ্চ দুই বৎসর মেয়াদী কারাদণ্ড কিংবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়বিধ দণ্ড দেওয়া হইতে পারে।

ধারা : ১৫৪। অননুমোদিত ওজন অতিক্রমপূর্বক গাড়ি চালনাঃ
# কোন ব্যক্তি ৮৬ অথবা ৮৮ ধারার অধীনে আরোপিত কোন নিষেধাজ্ঞা লংঘন করে গাড়ি চালাইলে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা।

ধারা : ১৫৬। অনুমতি ব্যতীত গাড়ি চালনাঃ
# কোন ব্যক্তি কোন মোটরযানের কিংবা অন্য কোন আইনানুগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত সংশ্লিষ্ট মোটরগাড়ি চালাইয়া বাহিরে লইয়া গেলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড অথবা সর্বাধিক দুই হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়বিধ শাস্তি পাইবার যোগ্য হইবেন।

ধারা : ১৫৭। প্রকাশ্য সড়কে অথবা প্রকাশ্য স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিঃ
# সর্বোচ্চ পাঁচশত টাকা জরিমানা হইবে এবং অনুরূপ মোটরযান কিংবা খুচরা যন্ত্র বা জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হইতে পারে।

ধারা : ১৬০। ওয়ারেন্ট ব্যতীত গ্রেফতারের ক্ষমতাঃ
# এক ইউনিফরমধারী পুলিশ অফিসারের সামনে কেহ ৩২, ৫১, ১৪৩, ১৪৪, ১৪৫, ১৪৬, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ১৫৪ কিংবা ১৫৬ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ করিলে তিনি উক্ত অপরাধীকে ওয়ারেন্ট ব্যতীতই গ্রেফতার করিতে পারেন।
কালেক্টঃ ট্রাফিক ডিভিশন গাজীপুর
Sakhawat Hossain
Senior ASP

মোটরসাইকেলের মাইলেজ বাড়ান

একটি মোটরবাইক কতটা মাইলেজ দেবে তা বেশ খানিকটা নির্ভর করে বাইকের যত্ন-আত্তির উপর। কীভাবে বাড়ানো যায় বাইকের মাইলেজ?

নতুন বাইক কেনার পরে বেশ কিছুদিন অপেক্ষাকৃত কম মাইলেজ পাওয়া যায়। নতুন বাইক অন্তত ১০০০ কিলোমিটার বা ১৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চালানোর পরে যতক্ষণ না দুই থেকে তিনবার সার্ভিস করানো হয়, ততক্ষণ সচরাচর মাইলেজ বাড়ে না।

তবে বাইকের পারফরম্যান্স আর মাইলেজের মধ্যে সম্পর্ক সব সময়েই ব্যস্তানুপাতিক। ৩৫০ সিসি বা ৪০০ সিসি বাইকের মাইলেজ কখনওই ১৫০ সিসি বাইকের মতো হবে না। তবে কয়েকটি সহজ এবং সাধারণ পদ্ধতি রয়েছে যেগুলি অনুসরণ করলে বাড়ানো যায় মাইলেজ-


১. কার্বোরেটর নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কার্বোরেটরে ধুলোবালি জমে জেট এবং ফ্লোট বোল নিডল জ্যাম হয়ে যায়। এর ফলে জ্বালানি বেশি খরচ হয়।

২. এয়ার ফিল্টার বুজে গেলেও ইঞ্জিন তুলনামূলকভাবে বেশি জ্বালানি খরচ করে। তাই ভালভ পরিষ্কার রাখাটা জরুরি।

৩. ক্লাচ প্লেট যেন ঠিকঠাক থাকে। নাহলে ইঞ্জিনের উপর চাপ পড়ে এবং জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়।

৪. বাইকের দুটি টায়ারেই যেন কোম্পানি নির্দিষ্ট এয়ার প্রেশার থাকে। নাহলে বাইক চালানোর সময়ে অতিরিক্ত চাপ পড়বে ইঞ্জিনে এবং জ্বালানি বেশি খরচ হবে।

৫. বাইকের ম্যানুয়ালে যে গিয়ার চেঞ্জ স্পিড নির্দিষ্ট করা আছে, সেই স্পিডই বজায় রাখলে ঠিকঠাক মাইলেজ পাওয়া যায়।

৬. বাইকটি স্টার্ট দেওয়ার পরে প্রথম ৪০০ মিটার যতটা সম্ভব আস্তে যাবেন। প্রথমেই স্পিড তুললে জ্বালানি বেশি পোড়ে।

৭. ক্লাচ এবং ব্রেক যতটা কম ব্যবহার করবেন ততই ভাল। স্পিড কমানোর সময় ক্লাচ পুল না করে পরিবর্তী গিয়ার ব্যবহার করুন। এতে ব্রেক এবং ক্লাচের ব্যবহার অনেকটা কমানো যায়। এর ফলে অনেকটা জ্বালানি সাশ্রয় হয়।

**: চেক করুন মোটরসাইকেলের চাকা freely ঘুরছে কিনা। অনেক সময় ব্রেক অতিরিক্ত টাইট থাকার কারনে চাকা জ্যাম হয়ে থাকে। আবার চাকার বেয়ারিং ভেংগে গেলেও চাকা জ্যাম হয়ে থাকে। আর চাকা জ্যাম থাকলে একই গতিতে ইঞ্জিনে বেশি চাপ বহন করতে হবে। আর ফলাফল স্বরুপ মাইলেজ কমে আসবে।

যদি চাকা জ্যাম থাকে তাহলে অবশ্যই তার সমাধান করুন। অনেক সময় চাকার মেইন নাট মাত্রাতিরিক্ত টাইট করার কারনেও চাকা জ্যাম হতে পারে। সাবধান থাকুন কারন অতিরিক্ত টাইট নাট যেকোন সময় গোড়া থেকে ভেঙ্গে আসতে পারে। যার ফলাফল শুভ হবেনা

**: চেইন অতিরিক্ত টাইট থাকাও চাকা জ্যামের কারন। সেই সাথে চেইন নিয়মিত পরিস্কার না করা বা লুব্রিকেন্ট না দেয়া হলেও মাইলেজে কিছু কমতি দেখা যায়। ম্যানুয়ালে উল্লেখিত মাত্রায় চেইন টাইট রাখুন।
নোটঃ অতিরিক্ত টাইট চেইন থাকলে স্প্রোকেট খুব তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে যায় আর চলন্ত অবস্থায় ছিড়ে যাবার সম্ভাবনাও থাকে।

**: দূর্বল পিস্টন-রিং কম মাইলেজের আরেকটি কারন। এ সমস্যা থাকলে ইঞ্জিন অয়েল পিস্টন চেম্বারে (combustion chamber) এ চলে আসে আর পেট্রলের দাহ্যগুন কমিয়ে দেয়। ফলাফলঃ কম মাইলেজ + কম শক্তি।

**: ভালভ ক্লিয়ারেন্স মাইলেজ ও শক্তি কম দেয়ার সবচেয়ে বড় কারন বলে আমি মনে করি। (সাধারনত মেকানিকরা একে টেপিট মিলানো বলে।) অতিরিক্ত টাইট ভালভ ইঞ্জিনের শব্দ কমিয়ে দেয় ঠিকই, কিন্তু টাইমিং চেইনের উপর এর প্রভাব পড়ে। এতে করে ইঞ্জিনের মধ্যকার ফ্রিকশন বেড়ে যায়। সহজভাবে বললে ইঞ্জিন সহজভাবে ঘুরতে বাধা পায়। এতে অতিরিক্ত জ্বালানী খরচ হয়। সেই সাথে টাইমিং চেইনটাও বেশিদিন টিকেনা।

একইভাবে বেশি ভালভ ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে early অথবা late combustion হয় যা কাম্য নয়। সোজা কথা ভালব ক্লিয়ারেন্স যতটা নিখুঁত হবে, মোটরসাইকের পারফর্মেন্স এবং মাইলেজ ততটা বৃদ্ধি পাবে।

**: কার্বুরেটর। এইবার আসা যাক এখানে। হ্যা এটা দিয়ে তেল বাড়ানো কমানো যায়। কিন্তু এখানে যত কম হাত দিবেন ততই মঙ্গল। কার্বুরেটর এবং এর adjustment স্ক্রু গুলি অত্যন্ত sensitive হয়ে থাকে। অনভিজ্ঞ মেকানিক দ্বারা কখনও কার্বুরেটর টিউন করাবেন না। এতে এটি নষ্ট হবার সম্ভাবনা বাড়ে আর তখন উচ্চমূল্যে আরেকটি কেনা ছাড়া উপায় থাকেনা।

**: কোম্পানি নির্ধারিত গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যাবহার করুন। এতে আপনার মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের স্থায়ীত্বও বৃদ্ধি পাবে।

**:  টায়ার প্রেশার প্রস্তুতকারকের পরামর্শ অনুযায়ী রাখুন এবং প্রতি দুই সপ্তাহে একবার চেক করুন

**: উন্নতমানের স্পার্ক প্লাগ ব্যাবহার করুন। বাজারে ngk irridium plug পাওয়া যাচ্ছে এখন।

** : এয়ার ফিল্টারের কথা একেবারেই ভুলে গেছিলাম। অবশ্যই মনে করে প্রতি সার্ভিসিং এ এয়ার ফিল্টার পরিস্কার করুন এবং নির্ধারিত সময় পর পর বদলে ফেলুন। একটি ময়লা হয়ে যাওয়া এয়ার ফিল্টার কম মাইলেজের অন্যতম প্রধান কারন।

এসব কারন ছাড়াও RPM অতিরিক্ত বাড়িয়ে রাখা, বার বার ব্রেক করে আবার গতি বাড়িয়ে চালানো, সিগনালে স্টার্ট বন্ধ না করা, নিম্নমানের পেট্রল/অকটেন ব্যাবহার প্রভৃতি কারনেও মাইলেজ কমে আসে। ভবিষ্যতে আরও কোন কারন মনে হলে জানানোর চেষ্টা করা হবে।