একটি মোটরবাইক কতটা মাইলেজ দেবে তা বেশ খানিকটা নির্ভর করে বাইকের
যত্ন-আত্তির উপর। কীভাবে বাড়ানো যায় বাইকের মাইলেজ?
নতুন বাইক কেনার পরে বেশ কিছুদিন
অপেক্ষাকৃত কম মাইলেজ পাওয়া যায়। নতুন বাইক অন্তত ১০০০ কিলোমিটার বা ১৫০০
কিলোমিটার পর্যন্ত চালানোর পরে যতক্ষণ না দুই থেকে তিনবার সার্ভিস করানো
হয়, ততক্ষণ সচরাচর মাইলেজ বাড়ে না।
তবে বাইকের পারফরম্যান্স আর মাইলেজের
মধ্যে সম্পর্ক সব সময়েই ব্যস্তানুপাতিক। ৩৫০ সিসি বা ৪০০ সিসি বাইকের
মাইলেজ কখনওই ১৫০ সিসি বাইকের মতো হবে না। তবে কয়েকটি সহজ এবং সাধারণ
পদ্ধতি রয়েছে যেগুলি অনুসরণ করলে বাড়ানো যায় মাইলেজ-
১. কার্বোরেটর নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
কার্বোরেটরে ধুলোবালি জমে জেট এবং ফ্লোট বোল নিডল জ্যাম হয়ে যায়। এর ফলে
জ্বালানি বেশি খরচ হয়।
২. এয়ার ফিল্টার বুজে গেলেও ইঞ্জিন তুলনামূলকভাবে বেশি জ্বালানি খরচ করে। তাই ভালভ পরিষ্কার রাখাটা জরুরি।
৩. ক্লাচ প্লেট যেন ঠিকঠাক থাকে। নাহলে ইঞ্জিনের উপর চাপ পড়ে এবং জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়।
৪. বাইকের দুটি টায়ারেই যেন কোম্পানি
নির্দিষ্ট এয়ার প্রেশার থাকে। নাহলে বাইক চালানোর সময়ে অতিরিক্ত চাপ পড়বে
ইঞ্জিনে এবং জ্বালানি বেশি খরচ হবে।
৫. বাইকের ম্যানুয়ালে যে গিয়ার চেঞ্জ স্পিড নির্দিষ্ট করা আছে, সেই স্পিডই বজায় রাখলে ঠিকঠাক মাইলেজ পাওয়া যায়।
৬. বাইকটি স্টার্ট দেওয়ার পরে প্রথম ৪০০ মিটার যতটা সম্ভব আস্তে যাবেন। প্রথমেই স্পিড তুললে জ্বালানি বেশি পোড়ে।
৭. ক্লাচ এবং ব্রেক যতটা কম ব্যবহার করবেন
ততই ভাল। স্পিড কমানোর সময় ক্লাচ পুল না করে পরিবর্তী গিয়ার ব্যবহার করুন।
এতে ব্রেক এবং ক্লাচের ব্যবহার অনেকটা কমানো যায়। এর ফলে অনেকটা জ্বালানি
সাশ্রয় হয়।
**: চেক করুন মোটরসাইকেলের চাকা freely
ঘুরছে কিনা। অনেক সময় ব্রেক অতিরিক্ত টাইট থাকার কারনে চাকা জ্যাম হয়ে
থাকে। আবার চাকার বেয়ারিং ভেংগে গেলেও চাকা জ্যাম হয়ে থাকে। আর চাকা জ্যাম
থাকলে একই গতিতে ইঞ্জিনে বেশি চাপ বহন করতে হবে। আর ফলাফল স্বরুপ মাইলেজ
কমে আসবে।
যদি চাকা জ্যাম থাকে তাহলে অবশ্যই তার
সমাধান করুন। অনেক সময় চাকার মেইন নাট মাত্রাতিরিক্ত টাইট করার কারনেও চাকা
জ্যাম হতে পারে। সাবধান থাকুন কারন অতিরিক্ত টাইট নাট যেকোন সময় গোড়া থেকে
ভেঙ্গে আসতে পারে। যার ফলাফল শুভ হবেনা
**: চেইন অতিরিক্ত টাইট থাকাও চাকা জ্যামের
কারন। সেই সাথে চেইন নিয়মিত পরিস্কার না করা বা লুব্রিকেন্ট না দেয়া হলেও
মাইলেজে কিছু কমতি দেখা যায়। ম্যানুয়ালে উল্লেখিত মাত্রায় চেইন টাইট রাখুন।
নোটঃ অতিরিক্ত টাইট চেইন থাকলে স্প্রোকেট খুব তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে যায় আর চলন্ত অবস্থায় ছিড়ে যাবার সম্ভাবনাও থাকে।
**: দূর্বল পিস্টন-রিং কম মাইলেজের আরেকটি
কারন। এ সমস্যা থাকলে ইঞ্জিন অয়েল পিস্টন চেম্বারে (combustion chamber) এ
চলে আসে আর পেট্রলের দাহ্যগুন কমিয়ে দেয়। ফলাফলঃ কম মাইলেজ + কম শক্তি।
**: ভালভ ক্লিয়ারেন্স মাইলেজ ও শক্তি কম
দেয়ার সবচেয়ে বড় কারন বলে আমি মনে করি। (সাধারনত মেকানিকরা একে টেপিট
মিলানো বলে।) অতিরিক্ত টাইট ভালভ ইঞ্জিনের শব্দ কমিয়ে দেয় ঠিকই, কিন্তু
টাইমিং চেইনের উপর এর প্রভাব পড়ে। এতে করে ইঞ্জিনের মধ্যকার ফ্রিকশন বেড়ে
যায়। সহজভাবে বললে ইঞ্জিন সহজভাবে ঘুরতে বাধা পায়। এতে অতিরিক্ত জ্বালানী
খরচ হয়। সেই সাথে টাইমিং চেইনটাও বেশিদিন টিকেনা।
একইভাবে বেশি ভালভ ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে
early অথবা late combustion হয় যা কাম্য নয়। সোজা কথা ভালব ক্লিয়ারেন্স
যতটা নিখুঁত হবে, মোটরসাইকের পারফর্মেন্স এবং মাইলেজ ততটা বৃদ্ধি পাবে।
**: কার্বুরেটর। এইবার আসা যাক এখানে। হ্যা এটা দিয়ে তেল বাড়ানো কমানো যায়।
কিন্তু এখানে যত কম হাত দিবেন ততই মঙ্গল। কার্বুরেটর এবং এর adjustment
স্ক্রু গুলি অত্যন্ত sensitive হয়ে থাকে। অনভিজ্ঞ মেকানিক দ্বারা কখনও
কার্বুরেটর টিউন করাবেন না। এতে এটি নষ্ট হবার সম্ভাবনা বাড়ে আর তখন
উচ্চমূল্যে আরেকটি কেনা ছাড়া উপায় থাকেনা।
**: কোম্পানি নির্ধারিত গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যাবহার করুন। এতে আপনার মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের স্থায়ীত্বও বৃদ্ধি পাবে।
**: টায়ার প্রেশার প্রস্তুতকারকের পরামর্শ অনুযায়ী রাখুন এবং প্রতি দুই সপ্তাহে একবার চেক করুন
**: উন্নতমানের স্পার্ক প্লাগ ব্যাবহার করুন। বাজারে ngk irridium plug পাওয়া যাচ্ছে এখন।
** : এয়ার ফিল্টারের কথা একেবারেই ভুলে
গেছিলাম। অবশ্যই মনে করে প্রতি সার্ভিসিং এ এয়ার ফিল্টার পরিস্কার করুন এবং
নির্ধারিত সময় পর পর বদলে ফেলুন। একটি ময়লা হয়ে যাওয়া এয়ার ফিল্টার কম
মাইলেজের অন্যতম প্রধান কারন।
এসব কারন ছাড়াও RPM অতিরিক্ত বাড়িয়ে রাখা,
বার বার ব্রেক করে আবার গতি বাড়িয়ে চালানো, সিগনালে স্টার্ট বন্ধ না করা,
নিম্নমানের পেট্রল/অকটেন ব্যাবহার প্রভৃতি কারনেও মাইলেজ কমে আসে। ভবিষ্যতে
আরও কোন কারন মনে হলে জানানোর চেষ্টা করা হবে।
No comments:
Post a Comment