গণপরিবহনে সিডিউল বিপর্যয় : যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে
![]() |
| ছবি: রাশেদুজ্জামান |
| ছবি: বিপ্লব দিক্ষিত |
এম এ বাবর:
বাস, ট্রেন ও লঞ্চ নির্ধারিত সময় না ছাড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে রাজধানী থেকে ঘরমুখী মানুষেরা।
গণপরিবহনে সিডিউল বিপর্যয়ের ব্যাপারে সংশিষ্ট কর্তৃপ¶ দাবী করছেন পরিবহণ সংকট আর বিভিন্ন গš—ব্য থেকে পরিবহণ ফিরতে দেরি হওয়ায় এমনটি হচ্ছে। আর যাত্রীরা বলছেন, পরিবহণ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা লোকজন ইচ্ছে করেই সিডিউল মানছেন না।
সড়ক মহাসড়কের কিছুটা উন্নতি, গণপরিবহন ব্যবস্থায় যোগাযোগমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি আর ঈদসহ টানা ১১দিনের লম্বা ছুটিতে রাজধানী ছাড়ছেন লাখ লাখ মানুষ। যার ফলে গত বুধবার থেকেই রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রীর ভিড় পরে গেছে। পরিবহণ সংশিষ্টরা বলছেন, বিগত দশ বছরে কোন উৎসব উপল¶ে একসাথে এত যাত্রীর সমাগম হয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর গাবতলী, মহাখালি ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ভোর থেকেই যাত্রী আসছে। কিন্তু টিকেট না পাওয়া এবং নির্ধারিত সময় গাড়ি না ছাড়ায় এসব যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপে¶া করতে হচ্ছে। আর এ অপে¶ায় সব চেয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের।
| ছবি: বিপ্লব দিক্ষিত |
| ছবি: বিপ্লব দিক্ষিত |
গাবতলী বাস টার্মিনালে অপে¶ায় থাকা যাত্রী কবির হোসেন বলেন, গাড়ির লোকজন ইচ্ছে করে গাড়ি দেরিতে ছাড়ছেন। সকাল ৭ টায় যে গাড়ি ছাড়ার কথা। ৯ টা বাজে, এখনো সে গাড়ির খবর নেই। কখন গাড়ি আসবে তাও বলতে পারছে না কাউন্টারের লোকজন। সঙ্গে থাকা স্ত্রী ও আড়াই বছরের শিশু নিয়ে এ অপে¶া অনেক কষ্টের বলে তিনি জানান।
মহাখালি বাস টার্মিনালে অপে¶ায় থাকা যাত্রী গণি মিয়া বাবুল জানান, সকাল ৯ টায় বাস ছাড়া কথা। পৌনে ১১ টা বেজে গেছে, কিন্তু গাড়ির খবর নেই।
![]() |
| ছবি: রাশেদুজ্জামান |
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও একই অবস্থা। এখানে মেঘনা পরিবহণের ম্যানেজার আব্দুস সামাদ জানান, সিডিউল পরিবর্তন অনিচ্ছাকৃত। রা¯—ায় যানজট এবং দুর পালার র“টে কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল করায় যানজট বাড়ছে। যার ফলে গš—ব্য থেকে বাস ঢাকায় ফিরতে দেরি হয়। এছাড়া আমাদের পরিবহণ সংকট রয়েছে। তাই বাসের যাত্রী নামিয়ে ফিরলে ওই বাসেই আবার ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে যাওয়া হয়।
কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ ট্রেনের অপে¶ায় রয়েছে। যথা সময় ট্রেন ফিরতে না পারায় এ সিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। যাত্রীরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে কোন ট্রেন ছাড়ছে না। এ ব্যাপারে ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) সর্দার শাহাদাত আলী জানান, ঈদ মৌসুমে শত চেষ্টা করেও সিডিউল ঠিক রাখা যায় না।
কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ ট্রেনের অপে¶ায় রয়েছে। যথা সময় ট্রেন ফিরতে না পারায় এ সিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। যাত্রীরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে কোন ট্রেন ছাড়ছে না। এ ব্যাপারে ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) সর্দার শাহাদাত আলী জানান, ঈদ মৌসুমে শত চেষ্টা করেও সিডিউল ঠিক রাখা যায় না।
![]() |
| ছবি: রাশেদুজ্জামান |
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে খুলনায় ১২টি স্টপেস। এসব স্টপেসে ৩ মিনিট করে ট্রেন থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু ঈদ মৌসুমে ট্রেনের প্রতিটি বগির সিটের তুলনায় তিনগুন যাত্রী উঠে। তাই এসব যাত্রী ওঠা-নামায় কমপ¶ে ১০ মিনিট সময় লাগে। এভাবেই ট্রেন গš—ব্যে পৌঁছাতে-পৌঁছাতে দেড় দুই ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লেগে যায়।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। যেসব লঞ্চ সন্ধ্যা ৬টা ৭টায় ছাড়ার কথা সে লঞ্চ ছাড়ছে দুপুর ২-৩টায়। যার ফলে অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগে গিয়ে লঞ্চ পাচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে সুরভি লঞ্চের সুপারভাইজার মনির হোসেন জানান, ঈদের সময় লঞ্চে জায়গা পাওয়ার জন্য সকাল থেকেই যাত্রী আসতে শুর“ করে। লঞ্চ নাদীর ওপারে অথবা নদীর মাঝখানে নোঙর করে রাখলেও নৌকায় করে এসে যাত্রী উঠে যায়। যার ফলে দুপুর ১ টার মধ্যে লঞ্চ ভড়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ভয়ে আমরা অনেক সময় এক-দুই ঘণ্টা আগে লঞ্চ ছাড়ি। সে ¶েত্রে কেবিনের যাত্রীদের আমরা ফোন দিয়ে আগে নিয়ে আসি।



No comments:
Post a Comment