Monday, June 17, 2013

টঙ্গী-ভৈরববাজার রেলের ডবল লাইন প্রকল্পে অনিয়ম

এম এ বাবর
টঙ্গী-ভৈরববাজার রেলের ডবল লাইন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ও নিয়ম-বহির্ভূত গাড়ি ক্রয় এবং ব্যবহারের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মূল প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কানাডার ক্যানারেইল কোম্পানির বিরুদ্ধেও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে। 


এদিকে প্রকল্পের শুরুতেই এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সূত্র জানায়, টঙ্গী থেকে ভৈরববাজার পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার রেলপথ ডবল লেনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১১ সালের জুলাইয়ে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রকল্পটি ২০০৬ সালে অনুমোদন হলেও কাজ শুরুর আগেই অনিয়মের অভিযোগে দুইবার দরপত্র বাতিল হয়। অনুমোদনের ৫ বছর পর প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হলেও কাজের প্রথম ভাগেই নানামুখী স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে। দুদকে প্রাপ্ত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পভুক্ত দুটি কার (সেডন) ও তিনটি মাইক্রোবাস কেনা ছাড়াও নানা অজুহাতে দুটি পাজেরো স্পোর্টস কারসহ ৯টি গাড়ি ও দুই কেবিনবিশিষ্ট পাঁচটি পিকআপ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেয়া হয়। মূল প্রকল্পে এগুলোর সরবরাহ মূল্য নির্ধারণ না থাকায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কানাডার ক্যানারেইল কোম্পানি লিমিটেডের ইচ্ছামতো রেলওয়ের কাছ থেকে এগুলো বাবদ অর্থ আদায় করেছে। এদিকে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ব্রান্ড, মডেল ও এর বাজারমূল্য কত, তার কিছুই প্রকল্প ব্যয়ে দেখানো হয়নি। যদিও দুটি সেডন কার কেনায় ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। আর ৮ আসনবিশিষ্ট ৩টি মাইক্রোবাস কেনা হয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাল ১১ হাজার টাকায়। এ গাড়িগুলো ঠিক কোন কাজে ব্যবহার করা হবে, তারও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকল্পে উল্লেখ নেই। পাশাপাশি গাড়িগুলো মেরামত, অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে প্রকল্পের জন্য কেনা ও ভাড়া করা এসব গাড়ি নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, এ কারণে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে পাজেরো স্পোর্টস কার দুটি (ঢাকা-মেট্রো-ঘ-১৩-৫৯৩১ ও ঢাকা- মেট্রো-ঘ-১৩-৫৯৩২) ব্যবহার করতে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প থেকে এ গাড়ির জন্য প্রতি মাসে তাদের সরবরাহ করা হয়েছে ২০০ লিটার জ্বালানি। এমনকি প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য গাড়ি ও জ্বালানি সরবরাহ করা হলেও প্রকল্পের শুরুর প্রথম ৬ মাসে রেলপথ সচিব প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেননি। তবে রেলের মহাপরিচালক তিন-চারবার প্রকল্প এলাকা ঘুরে এসেছেন। এছাড়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) দুটি পাজেরো স্পোর্টস কারসহ ৯টি গাড়ি ও ৫টি মাইক্রোবাসের দাম অন্তর্ভুক্ত নেই।
এদিকে এ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণেও ব্যয় করা হয়েছে প্রাক্কলিত অর্থের প্রায় তিনগুণ। টঙ্গী-ভৈরববাজার প্রকল্পের পুনর্বাসন পরিকল্পনায় ৪৪ দশমিক ৮২ একর জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয় ৩৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। কিন্তু ৩৯ দশমিক ৩১ একর জমি অধিগ্রহণেই ব্যয় ধরা হয় ৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা মূল পুনর্বাসন ব্যয়ের চেয়েও বেশি। অথচ জমি অধিগ্রহণসহ পুনর্বাসনে প্রকল্পটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক সাগর কৃঞ্চ চক্রবর্তীর দুই কক্ষের শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিস ও এর সরঞ্জামের জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। তবে প্রকল্প পরিচালক ব্যবহার করেছেন রাজধানীর রেল ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি কক্ষ, যার সরঞ্জাম বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে সরবরাহ করা।
এ প্রসঙ্গে দুদক মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান) জিয়া উদ্দিন আহমেদ জানান, উল্লিখিত অভিযোগের অনুসন্ধান পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২-৪ দিনের মধ্যে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে।
http://manobkantha.com/2013/06/17/126052.html
http://www.emanobkantha.com/2013/06/17/

No comments: