এম এ বাবর :
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কতিপয়
কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রতারক চক্রের যোগসাজশে জাল আমমোক্তারনামা (Power of
Attorney)দাখিল করে অর্ধশতাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট ভুয়া ব্যক্তিদের নামে
বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে প্লট ও ফ্ল্যাটের রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মালিকরা
সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহিত করেও কোনো সুফল না পাওয়ার
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর হাউজিং স্টেটের সরকারি হুকুম দখলকৃত সম্পত্তির ক্ষতিগ্রস্তদের প্রায় অর্ধশত প্লট প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের অজান্তে তার নামের ওয়ার্ড ব্যবহার করে অন্যের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মিরপুর সেকশন-২ এ সরকারি হুকুম দখলকৃত সম্পত্তির ব্লক-আই, সড়ক-৪-এর ৩১ নম্বর প্লট জালিয়াতির মাধ্যমে এসএম জাহাঙ্গীর, জেসমিন আক্তার ও কাজী বদরুল আলম বরাদ্দ নিয়েছেন।
সংস্থার দুর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা প্লটটি বরাদ্দপ্রাপ্ত ভুয়া ব্যক্তিদের নামে ইস্যু করিয়ে আমমোক্তারনামা দলিল গ্রহণ করে একে অপরের কাছে বিক্রি করেছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে মিরপুরের সেনপাড়া মৌজার সিএস খতিয়ান নম্বর-২৬৩, সিএস দাগ নম্বর- ৬৫৮, ৬৫৭, ৬৫৫, ৬৫৮ ও ৬৮৭সহ অন্যান্য দাগের এসএ খতিয়ান নম্বর-২৯০, ২৯১-এর ২ দশমিক ৫৫২৫ একর অংশ জমি। এসব জমি সরকার ইতিপূর্বে হুকুম দখল করে পরবর্তীতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করে। কিন্তু হুকুম দখলীয় সম্পত্তির ১১টি প্লট প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বুঝে পাননি। এছাড়া সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ছফুর উদ্দিন কাজী, রিয়াজুল হাসান ও নুরুল হকের অজান্তে ভুয়া ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বরাদ্দে অনিয়ম এখানের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরো অর্ধশতাধিক প্লট বরাদ্দে এ ধরেনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সূক্ষ্ম কৌশলে এ কাজ করা হয়েছে বলেই সমস্যা সমাধানে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে।’
এদিকে
মিরপুর হাউজিং স্টেটের সেকশন ১২, ব্লক-ডি, লেইন-১১ প্লট ৩৯-এ ১৩১ বর্গগজের
একটি ফ্ল্যাট লিজ দলিল করেন মরহুম আব্দুল ছাত্তার। কিন্তু জনৈক
হারুন-অর-রশিদ জাল আমমোক্তারনামা, নোটারি পাবলিক ও জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে
ওই ফ্লাটটি তিনি দখলে নিয়েছেন। আব্দুস ছাত্তারের পুত্র রহমত আলী বলেন, আমার
মরহুম পিতা সব সময় স্বাক্ষরে ইংরেজিতে ‘আব্দুল ছাত্তার’ লিখতেন। প্লট
বরাদ্দ পেতে রেজিস্ট্রেশন কার্ডে তিনি একই স্বাক্ষর দিয়েছিলেন। কিন্তু
জালিয়াত চক্র তা না জানায় স্বাক্ষরে ‘এ সাত্তার’ লিখেছেন।
জাতীয় গৃহায়ন
কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ল্যান্ড) বাসুদেব গাঙ্গুলী জানান, অনেক যাচাই-বাছাই
করেই কমিটি বরাদ্দ প্রক্রিয়ার সম্পন্ন করে। তাবে এতে কোনোভাবে সমস্যা হলে
উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তা সমাধান করা হয়। আর উল্লিখিত বিষয়টি
দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে। তাই বিষয়টি সমাধান তাদের তদন্তের ভিত্তিতেই
হবে।
http://manobkantha.com/2013/03/11/111443.html
No comments:
Post a Comment