প্রস্তাবনা শুধু কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ :
এমএ বাবর
হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড ‘মহাপরিকল্পনা’র আওতায় ২৮ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে ১৭টি উন্নয়ন ক্ষেত্রে ১৫৪টি প্রকল্প চিহ্নিত করলেও এগুলোর বাস্তবায়ন নেই। আর এ উন্নয়নের আওতায় কোনো কোনো মন্ত্রণালয় বিভিন্ন মেয়াদি প্রকল্পের প্রস্তাবনা দিলেও তা সীমাবদ্ধ থাকছে কাগজ-কলমে। এদিকে জলাশয় ভরাট, নাব্য হ্রাস, দখল ও দূষণের ফলে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে মিঠা পানির মাছ। বিনষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ। হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে জনস্বাস্থ্য ও জীবিকা।
হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড ‘মহাপরিকল্পনা’র আওতায় ২৮ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে ১৭টি উন্নয়ন ক্ষেত্রে ১৫৪টি প্রকল্প চিহ্নিত করলেও এগুলোর বাস্তবায়ন নেই। আর এ উন্নয়নের আওতায় কোনো কোনো মন্ত্রণালয় বিভিন্ন মেয়াদি প্রকল্পের প্রস্তাবনা দিলেও তা সীমাবদ্ধ থাকছে কাগজ-কলমে। এদিকে জলাশয় ভরাট, নাব্য হ্রাস, দখল ও দূষণের ফলে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে মিঠা পানির মাছ। বিনষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ। হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে জনস্বাস্থ্য ও জীবিকা।

দেশের এক-পঞ্চমাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হাওর, জলাশয়, জলাভূমি এবং এ অঞ্চলের মানুষকে ঘিরে নেই সমন্বিত কোনো উদ্যোগ। সরকারের ১৬টি মন্ত্রণালয় কম-বেশি হাওর, জলাশয় ও জলাভূমির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও কার্যক্রমে তাদের নির্ভরতা বেশি এনজিওর ওপর। কার্যকর উন্নয়নের চেয়ে কখনো কখনো সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রকল্প গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। জোরপূর্বক দখল, অবৈধ ইজারা দেয়ার মাধ্যমে প্রভাবশালীদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া, জলাশয় বেআইনিভাবে ভরাট, জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট, পরিবেশ ও পানি দূষণের মাধ্যমে জলাভূমি ধ্বংসের বিরুদ্ধে নেই কোনো উদ্যোগ।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে ছোট-বড় ৪১৪টি হাওর, জলাশয় ও জলাভূমি রয়েছে। জলমহাল রয়েছে ২৮ হাজার। বিল রয়েছে ছয় হাজার ৩০০। এর মধ্যে হাওরের আয়তন ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর। সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় এসব হাওর, জলাভূমি ও জলাশয়ের অবস্থান। এর বাইরেও সব জেলায়ই ছোট- বড় জলাশয়, জলাভূমি ও বিল রয়েছে। আয়তনের দিক থেকে যা দেশের এক-পঞ্চমাংশ। প্রায় দুই কোটি মানুষ হাওর, জলাভূমি ও জলাশয় সন্নিহিত এলাকার অধিবাসী। সারাদেশের মৎস্য চাহিদার ২০ ভাগ এ সাত জেলায় উৎপাদিত হয়। ধান ফলে ১৮ শতাংশ। এখানকার কৃষি উৎপাদন ও মৎস্যের পরিমাণ জনসংখ্যা অনুপাতে উদ্বৃত্ত। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হয় দেশের অন্য জেলাগুলোতেও।
হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, হাওর অধ্যুষিত সাত জেলার দুই কোটি মানুষের উন্নয়ন চাহিদার ভিত্তিতে একটি সমন্বিত টেকসই মহাপরিকল্পনায় ১৫৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে। এক থেকে পাঁচ বছর, ছয় থেকে ১০ বছর ও ১১ থেকে ২০ বছর মেয়াদি এসব প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৪৩ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। উন্নয়ন ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে পানিসম্পদ, কৃষি, মৎস্য, মুক্তা চাষ, প্রাণিসম্পদ, বনসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও জলাভূমি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন, গৃহায়ন ও বসতি স্থাপন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, সামাজিক সেবা, শিল্প, বিদ্যুৎশক্তি ও খনিজসম্পদ।
এ বিষয়ে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক সাইয়েদুর রহমান জানান, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বোর্ডের হাতে কোনো তহবিল দেয়া হয় না। এছাড়া বোর্ড কোনো প্রকল্পও পরিচালনা করতে পারে না। আমরা পরিকল্পনা দেই বাস্তবায়ন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয় ইচ্ছে করলে নিজেরাও প্রকল্প হাতে নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করলেই হয়। এছাড়া হাওর বা জলাভূমি নিয়ে আমাদের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের। উন্নয়ন কার্যক্রম চালাচ্ছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, ভূমি, কৃষি, বন ও পরিবেশ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো ১৬টি দফতর।
http://manobkantha.com/2013/10/23/143853.html
No comments:
Post a Comment