এমএ বাবর
শেষ মুহূর্তে রাজধানীর পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে হাটগুলোতে ক্রেতার ভিড় বাড়ছে, বেড়েছে বেচাকেনাও। দেশি ও ক্রস প্রজাতির গরুর পাশাপাশি হাটগুলোতে ভারতীয় ও নেপালি গরু এসেছে অনেক। ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এবার অনেকটা কম দামেই বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশু। আর বিদেশি গরুর আমদানি বেশি থাকায় দেশি গরুর দাম উঠছে না। ফলে চালান হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন দেশি গরু পালনকারী ও ব্যবসায়ীরা।
শেষ মুহূর্তে রাজধানীর পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে হাটগুলোতে ক্রেতার ভিড় বাড়ছে, বেড়েছে বেচাকেনাও। দেশি ও ক্রস প্রজাতির গরুর পাশাপাশি হাটগুলোতে ভারতীয় ও নেপালি গরু এসেছে অনেক। ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এবার অনেকটা কম দামেই বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশু। আর বিদেশি গরুর আমদানি বেশি থাকায় দেশি গরুর দাম উঠছে না। ফলে চালান হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন দেশি গরু পালনকারী ও ব্যবসায়ীরা।
গত কয়েকদিনের তুলনায় গতকাল সকাল থেকেই হাটগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি বেড়েছে। দুপুর দিকে ক্রেতা সমাগম একটু কম থাকলেও বিকেল থেকে আবার বাড়তে শুরু করে। এবার মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি থাকায় বড় গরু বিক্রেতারা রয়েছেন বিপাকে। কোরবানির পশুর দাম সাধ্যের মধ্যে থাকায় পছন্দের গরুটি কিনে স্বস্তিতে ফিরেছেন অনেকে। এদিকে হাটগুলোতে পশুর আমদানি বেশি হওয়ায় অনেক পশুই অবিক্রীত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা।
রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও স্থায়ী গরুর হাট গাবতলীতে এবার গরুর সরবরাহ তুলনামূলক বেশি। ফলে দামও কিছুটা কম। এ হাটে ছোট গরু পাওয়া যাচ্ছে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। আর ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকায় অনায়াসে কেনা যাচ্ছে মাঝারি আকারের গরু। বড় আকারের ষাঁড় ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। ফলে বিক্রেতারা অনেকটা হতাশ।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বেপারি আবুল হাশেম বলেন, আমি মোট ৩০টি গরু নিয়ে এসেছি। আট থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ রেখে আটটি গরু বিক্রি করেছি। কারণ বেশি লাভের আশায় গতবারের মতো লোকসান গুনতে চাই না।
আফতাব নগর পশুর হাটের ক্রেতা তানভিরুল ইসলাম বলেন, হাটগুলোতে গরুর আমদানি অনেক বেশি থাকায় পছন্দের গরুটি তুলনামূলক অনেক কম দামে কিনতে পেরেছি। এবার গরু বিক্রি হচ্ছে পানির দামে উল্লেখ করে বারিধারা পশুর হাটের ক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, বাজেট ছিল ৫০ হাজার টাকার মধ্যে একটি গরু কোরবানি দেব। কিন্তু দেখলাম গরু অনেক সস্তায় বিক্রি হচ্ছে। তাই এ হাটে এসে ৫০ হাজার টাকায় যে গরু কিনলাম দুই-তিন বছর আগে এ গরুর দাম ছিল কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকা। আফতাবনগর হাটে গরু বেপারি আতাহার আলী বলেন, এবার চালান থাকব না। হাটে যে হারে ইন্ডিয়ান আর নেপালি গরু উঠছে তাতে ক্রেতারা দেশি গরুর দাম বলছে না। নেপালি গরু দেখতে দেশি গরুর মতো। তাই কম টাকায় বেশির ভাগ ক্রেতাই ওই গরুই কিনছেন। হাটে যে গরু রয়েছে সেগুলো কেনার ক্রেতা নেই। আর এ গরু যদি থাইকা যায় তাহলে সব যাইব। তাই ক্রেতারা যে দাম বলছে সেই দামে বিক্রি করছি। এ হাটে জামালপুর থেকে আসা ছাগল বেপারি সেকান্দার মিয়া বলেন, এবার একবারে সব শেষ! আমি যে ছাগল ৭ হাজার টাকায় কিনছি কাস্টমার তার দাম কচ্ছে সাড়ে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা। চাঁন রাইতে ভালো টাকায় বেচার আশায় আছি।
গাবতলী হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সোহেল বলেন, গরুর সরবরাহ ভালো। এতদিন বিক্রি কম হলেও রোববার থেকে কিছুটা বেশি। তবে আজ (সোমবার) রাত থেকে বিক্রি পুরোদমে শুরু হবে। আর হাটে পর্যাপ্ত গরু, মহিষ ও ছাগলের আমদানি হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারো গাবতলী হাটের নির্ধারিত স্থান পেরিয়ে বেড়িবাঁধের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় হাট বসেছে।
পশুর হাটে টয়লেট ও পানি সমস্যা: রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে টয়লেট ও পানি সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। যার ফলে হাটে পশু নিয়ে আসা বেপারিদের নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বেপারিদের অভিযোগ, হাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য টয়লেট ও পানির ব্যবস্থা পর্যাপ্ত করেনি। দীর্ঘক্ষণ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। টয়লেট ব্যবস্থা আরো খারাপ। তাও অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সিরিয়াল পেতে হয়। সমস্যা বেশি হলে কেউ কেউ আশপাশের আড়ালেই তা সেরে নেন। এসব কারণে বেপারিদের অনেকের ডায়রিয়া ও আমাশা হয়ে গেছে।
রাস্তায় পশুর হাটের কারণে যানজট: রাজধানীর অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট রাস্তা দখল করে গড়ে উঠেছে। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। পুরনো ঢাকার অধিকাংশ কোরবানির পশুর হাটের মূল সীমানা পেরিয়ে অলিগলিসহ প্রধান সড়ক দখল করেছে। বারিধারা, আরমানিটোলার নয়াবাজার ও চানখাঁরপুলের পশুর হাট সড়ক কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে। গুলিস্তানের নর্থসাউথ রোড, বাবুবাজার ঘাট থেকে রায় সাহেব বাজার মোড়, মেরাদিয়া, শাহজাহানপুর, কমলাপুর ও তেজগাঁও হাট সম্প্রসারিত হয়ে আশপাশের রাস্তা দখল হয়ে গেছে। ফলে এসব রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
বেড়েছে গোখাদ্য বিক্রি: কোরবানির পশুর খাদ্যের বিক্রিও বেড়েছে ব্যাপক। খড়-কুটা বিক্রেতা সেলিম মিয়া বলেন, বিক্রি খুব ভালো। চার ট্রাক মাল আনছি তার দুই ট্রাক বিক্রি হয়ে গেছে। আজকে আসল উঠে যাবে। ভুসি বিক্রেতা আলম জানান, কেজি প্রতি ১৫-২০ টাকা লাভ হচ্ছে। বেচাও ভালো হলে হাজার দশেক লাভ থাকব।
ব্যস্ত কামারপল্লী ও খাটিয়া বিক্রেতারা: কোরবানির পশুর চামড়া আর গোশত কাটাকাটি করতে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো জিনিস তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কামার শ্রমিকরা। নগরীর বেশ কয়েকটি বাজার ও কামারের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে তৈরি হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি, চাকু, চাপাতিসহ নানা সামগ্রী। এসব যন্ত্রপাতি তৈরিতে কামাররাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে লোহার টুং টাং আওয়াজে মুখরিত কামার পল্লী। বাড্ডার কামার কৃষ্ণা বলেন, বেচাকেনা কয়েকদিন আগেই থেকেই ভালো হচ্ছে। লোহার দাম বেশি হওয়ায় এবার সবকিছু একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। খাটিয়া ও পাটি বিক্রেতা মকবুল গাজি বলেন, ‘এবার ব্যবসা অনেক ভালো। গতবার চালান থেকে ৪১ হাজার টাকা লোকসান হইছে। ৬০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে খাটিয়া ও ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাটি বিক্রি করছি। লাভ ভালোই হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment