এম এ বাবর
রাজধানীতে কত ভবন রয়েছে তার সঠিক তালিকা নেই কোনো সংস্থার কাছে। দীর্ঘ ৩২ বছরে গণনা করা হয়নি রাজধানীর সঠিক হোল্ডিং সংখ্যা। অথচ ৩২ বছর আগের তুলনায় নগর রক্ষণাবেক্ষণ ও নাগরিক সেবা সংক্রান্ত ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) উদাসীনতা ও এ সংস্থায় কর্মরত কিছুসংখ্যক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে সরকার প্রতি বছর হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ কয়েক কোটি টাকা হারাচ্ছে। এদিকে ১৯৮০ সালের পর আর রাজধানীর হোল্ডিং গণনা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে ঢাকা শহরে হোল্ডিং সংখ্যা বেড়েছে অনেক।
রাজধানীতে কত ভবন রয়েছে তার সঠিক তালিকা নেই কোনো সংস্থার কাছে। দীর্ঘ ৩২ বছরে গণনা করা হয়নি রাজধানীর সঠিক হোল্ডিং সংখ্যা। অথচ ৩২ বছর আগের তুলনায় নগর রক্ষণাবেক্ষণ ও নাগরিক সেবা সংক্রান্ত ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) উদাসীনতা ও এ সংস্থায় কর্মরত কিছুসংখ্যক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে সরকার প্রতি বছর হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ কয়েক কোটি টাকা হারাচ্ছে। এদিকে ১৯৮০ সালের পর আর রাজধানীর হোল্ডিং গণনা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে ঢাকা শহরে হোল্ডিং সংখ্যা বেড়েছে অনেক।
১৯৮০ সালের পর রাজধানীতে বহু ভবন নির্মিত হয়েছে। সেগুলোর হোল্ডিং নম্বর দেয়া হয়েছে। তারপরও কাগজে-কলমে মোট হোল্ডিং সংখ্যা দুই লাখ ৩১ হাজারই রয়ে গেছে। আর ডিসিসির একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বাণিজ্যিক ভবনের মালিকরাও দিচ্ছেন আবাসিক ভবনের কর। অন্যদিকে পুরনো হোল্ডিং তালিকার ওপরই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ফেব্রুয়ারি’১২ এ হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। এজন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি উভয় সিটি কর্পোরেশনের বাড়িঘর ও ভবনের ওপরে (বিদ্যমান ১২ ভাগ হোল্ডিং ট্যাক্সের ওপরে) আরো ১০ ভাগ হারে ট্যাক্স বাড়ানোর সুপারিশ করে। আর ওই সুপারিশ অনুযায়ী ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটে ডিএসসিসি বিদ্যমান হোল্ডিং ট্যাক্সের ওপর আরো ১০ ভাগ হারে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়। আর চলতি অর্থবছর (২০১৩-১৪) থেকেই ডিএনসিসি বিদ্যমান হোল্ডিং ট্যাক্সের ওপরে ১০ ভাগ বাড়িয়ে ২২ ভাগ হারে হোল্ডিং ট্যাক্স নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
অভিযোগ আছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পুঁজি করে ডিসিসি ও রাজউকের একশ্রেণীর কর্মকর্তা বিভিন্ন কৌশলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তারা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করার সুযোগ দিয়ে ভবন মালিকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। আবার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে দেয়ার হুমকি দিয়ে বাড়ির মালিককে জিম্মি করে মাঝেমধ্যে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদিকে ভুয়া হোল্ডিং নম্বর দিয়েও টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র।
রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের বড় বড় ভবন মালিক বছরের পর বছর ধরে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করেন না। গত ৩২ বছরে হোল্ডিং গণনা না হওয়ায় অগণিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালসহ বহুতল ভবনের হাজার কোটি টাকার বেশি হোল্ডিং ট্যাক্স অনাদায়ি রয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে হোল্ডিং ট্যাক্স অনাদায়ি থাকার মূলে রয়েছে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং একশ্রেণীর কর্মকর্তার অসাধুতা। বিভক্ত হওয়ার পরও এ অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। এ কারণে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় কতগুলো আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, মার্কেট, দোকান, হোটেল এবং শিল্প কারখানা রয়েছে তার সঠিক হিসাব নেই সংস্থার কাছে। অথচ প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে হোল্ডিং নম্বর।
রাজধানীর প্রকৃত হোল্ডিং সংখ্যা কত তা জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বেসরকারি হিসাবে রাজধানীতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ হোল্ডিং রয়েছে। ট্যাক্স আদায়ের কম্পিউটারাইজড পদ্ধতি (ট্যাক্স অটোমেশন) না থাকায় জানা যাচ্ছে না কত টাকা আদায় হচ্ছে আর কত টাকা কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে। তবে ১৯৮০ সালে যে ভবন ছিল দুই তলাবিশিষ্ট, এখন সেই ভবন হয়েছে ১৫ বা ২০ তলাবিশিষ্ট। কিন্তু ডিসিসি পাচ্ছে ওই দুই তলা ভবনের কর। ওই কর আদায় করতে গিয়ে কর্মকর্তারা ম্যানেজ হয়ে যাচ্ছেন।
ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিএসসিসির আওতায় কতটি হোল্ডিং রয়েছে সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে সম্প্রতি নগর পরিকল্পনা বিভাগ থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।’ তিনি জানান, ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কতগুলো প্রতিষ্ঠান করের আওতায় আসেনি বা কতদিন ধরে কর বকেয়া রয়েছে তা কর্তৃপক্ষের পক্ষে জানা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এ সংক্রান্ত কোনো ডেটাবেজ সিটি কর্পোরেশনের কাছে নেই। গত ৩২ বছরে অনেক বাড়ি ভেঙে একাধিক বাড়ি হয়েছে। বাড়ির মালিকও হয়েছেন একাধিক। কিন্তু হোল্ডিং নম্বর আগেরটাই রয়েছে। এক্ষেত্রে একটি বাড়ি ভেঙে ১০টি বাড়ি হলেও সরকার ট্যাক্স পাচ্ছে একটি বাড়ির।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক বলেন, ডিএনসিসির আওতায় বর্তমানে কতগুলো হোল্ডিং নম্বর আছে তা সঠিক করে বলা যাবে না। সব ভবন কর দিচ্ছে না। বিপুল পরিমাণ কর বকেয়া আছে। বকেয়া কর আদায়ের পাশাপাশি হালনাগাদ কর আদায়ের চেষ্টা চলছে।
No comments:
Post a Comment