মুখে উত্কট গন্ধ হওয়ার পরিচিত নানা কারণ আছে। যেমন— রসুন ও পেঁয়াজ খাওয়া, দাঁত না মাজা ইত্যাদি। তবে আরো কিছু কারণে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়, যেমন—
যারা নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের এমন সমস্যা হতে পারে। যদিও ওষুধ নিজেই মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি নাও করতে পারে। তবে ওষুধ সেবনের ফলে মুখের ভেতরটা শুকিয়ে যায় অনেক সময়ই, যা দুর্গন্ধ উত্পাদনের কারণ। এজন্য পানি পানের দিকে নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে।
ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, সাইনাস ইত্যাদি যাদের আছে তাদের মুখে দুর্গন্ধ হওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ এর ফলে নাক বন্ধ হয়ে থাকে। সরাসরি মুখ ও গলা বেয়ে নিঃশ্বাসের যাওয়া-আসা চলে। ২০০৬ সালের এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এমন ফলাফল, যা মুখে উত্কট গন্ধ তৈরি করে।
মুখে লালার উপস্থিতি কটু গন্ধ তৈরি করতে দেয় না। যদি মুখ শুকিয়ে আসে, তবে তা দুর্গন্ধ উত্পাদন করে এবং সহজেই অন্যকে বিরক্ত করে। যারা রাতে মুখে শ্বাস টানেন তাদের মুখ শুকিয়ে যায়, ফলে গন্ধ জমা হয়। যারা এমনকি দিনের বেলায়ও মুখে শ্বাস টানেন, তাদের এমন সমস্যা হতে দেখা যায়।
মোটা ব্যক্তিদের মুখেও দুর্গন্ধ থাকতে পারে বলে গবেষণায় জানানো হয়েছে। ২০০৬ সালে এই তথ্য প্রকাশিত হলেও ২০১৩ সালে কিছুটা সংশোধিত হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অন্তত ৩০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে মোটা ব্যক্তিদের মুখে কটু গন্ধ উত্পাদনের। মুখে এক প্রকার গ্যাস উত্পাদন তাদের এমন অবস্থার কারণ বলে জানা গেছে।
অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের পর তা শরীরে শক্তি হিসেবে সঞ্চারিত হয়, যে প্রক্রিয়ায় তখন এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয় পুরো শরীরে। এ পদার্থ গন্ধও ছড়ায়, যা নিঃশ্বাসের সঙ্গে নির্গত হয়। এর নাম কিটোন। শরীরে যখন চর্বি পুড়তে থাকে, তখন এমন রাসায়নিক উত্পাদিত হয়। ফলে স্বাভাবিক অবস্থাতেও মুখে অস্বস্তিকর দুর্গন্ধ উত্পাদিত হয়। এ থেকে কিছুটা নিস্তার পেতে কম চর্বিযুক্ত খাবর খাওয়াই ভালো।
শরীরের নানা প্রকার রোগ, ক্ষয় ইত্যাদির কারণেও মুখের এমন দুরবস্থা হতে পারে। মুখেই যদি কোনো ঘা তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে এমন কটু গন্ধ বের হওয়া বিচিত্র নয়। কিডনির সমস্যা থেকেও এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফলে সাবধান থাকাই ভালো।
No comments:
Post a Comment