১৯৮২ সালে ১৪৮ জন শিয়াকে গ্যাস হামলায় হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তার মৃত্যুদন্ড দেয় আদালত। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
এএফপিকে রুবাই বলেন, আমি যখন তাকে নিয়ে আসি তখন তার হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। হাতে ধরা ছিল পবিত্র কোরআন। আমি তাকে বিচারকের রুমে নিয়ে গেলাম, সেখানে বিচারক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং সাজা পড়ে শোনান। সব শুনে তিনি উচ্চারণ করলেন, ‘আমেরিকা নিপাত যাক। ইসরায়েলের পতন হোক, ফিলিস্তিন দীর্ঘজীবী হোক।’
এরপর আমি তাকে ফাঁসির কক্ষে নিয়ে যাই। রুমে ঢুকেই সাদ্দাম দাঁড়িয়ে পড়লেন। তিনি ফাঁসির দঁড়িটা উপর থেকে দেখতে দেখতে নিচের দিকে চোখ রাখলেন। এরপর তিনি আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখলেন।
যখন তার গলায় ফাঁসির রশি পরানো হয় তখনও তার দুই পা এবং দুই হাত বাধা ছিল। ফাঁসির লিভার টানার আগ মুহুর্তে কয়েকজন শ্লোগান দিয়ে ওঠে ‘ইমাম মোহাম্মদ বকর আল-সদর দীর্ঘজীবী হোন’ বলে। উল্লেখ্য, সাদ্দামের শাসনামলে তার প্রতিদ্বন্দ্বি এবং ক্ষমতাধর শিয়া ব্যক্তিত্ব ইমাম মোহাম্মদ বকর আল-সদরকে হত্যা করা হয়েছিল।
শ্লোগান শুনে সাদ্দাম বিরক্ত হলে বলেন, এটা কোন ধরনের বীরত্ব প্রদর্শন? এরপর রুবাই ফাঁসির লিভার ধরে টান দেন। কিন্তু সেটা কাজ করল না। এরপর রুবাইকে সরিয়ে আরেকজন সেটা ধরে টান দিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে দেখেন। এবার ঝুঁলে পড়েন সাদ্দাম।
মৃত্যু নিশ্চিত হবার পর রুবাই মৃতদেহটি তুলে আনেন। এরপর একটি সাদা ব্যাগে ভরে সেটি একটি স্ট্রেচারে রাখেন। এরপর মৃতদেহটি একটি মার্কিন হেলিকপ্টারে করে বাগদাদের উপর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকির বাড়িতে। সাদ্দামের লাশ দেখে তিনি সবার উদ্দেশে বললেন, আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। এই ঘটনা তার জীবনের অনন্য এক অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেছেন রুবাই।
http://www.hello-today.com/57004#.UsAOz_s7vFw
No comments:
Post a Comment