কখন ডায়বেটিস পরীক্ষা করাবেন?
ডায়াবেটিস
রোগটি বিশ্বব্যাপীই দেখা যায়। কিন্তু এই রোগ নিয়ে এখনো মানুষের মধ্যে
সচেতনতার যথেষ্ট ঘাটতি আছে। রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক
বেশি হয়ে বেশিদিন ধরে থাকলেই ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়। সাধারণত ডায়াবেটিস
বংশগত কারণে হলেও জীবযাপন ও পরিবেশের প্রভাবেও এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধে।
কখনো কখনো অন্য রোগের প্রভাবেই ডায়াবেটিস দেখা দেয়।
টাইপ ১ এবং টাইপ ২-এই দুই ধরনের ডায়বেটিস হয়। এর লক্ষণগুলো অনেকটাই একরকম, তবে চিকিৎসা পদ্ধতি কিছুটা আলাদা। তবে সবার আগে জানতে হবে ঠিক কোন কোন সমস্যা দেখা দিলে ডায়বেটিস পরীক্ষা করাতে হবে। আসুন জেনে নিই ডায়াবেটিসের লক্ষণ:
ঘন ঘন প্রস্রাব এবং পিপাসা পেলে
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ডায়াবেটিসের একটি অন্যতম লক্ষণ। রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে সেটি বের করে দিতে চায়। এর ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। এ সময় পানির তেষ্টাও বেড়ে যায়। ঘন ঘন প্রস্রাবের ফলে শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে, তাই পিপাসাও বেড়ে যায়।
ক্ষুধা বেড়ে গেলে
শরীরে যখন ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়, তখন শরীর শর্করা ধরে রাখতে পারে না। শর্করা শক্তি জোগায় শরীরে। শর্করার অভাব হলে শরীরের শক্তি হ্রাস পায়। ফলে ক্যালরির চাহিদা বেড়ে গিয়ে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে।
ক্লান্তি ও অবসাদগ্রস্ত ভাব
ক্ষুধার চাহিদা বাড়ার ফলে শরীর দুর্বল, ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যেহেতু এ সময় শরীর শর্করার সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারে না, তাই এই সমস্যাগুলো হয়।
মাত্রাতিরিক্ত ওজন হ্রাস
ডায়াবেটিসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ওজন হ্রাস। এ সময় রক্তে শর্করার আধিক্য ওজন কমার একটি অন্যতম কারণ। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ২০ পাউন্ড ওজন কমে যায়।
অসাড়তা
রক্তে অতিরিক্ত শর্করার ফলে স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে তাই ব্যক্তি অসাড় অনুভব করতে পারে। শুধু তাই নয়, স্নায়ু দুর্বল হলে রক্তচাপ কমে যায়। ফলে মাথা ঘুরতে পারে, দুর্বল লাগতে পারে।
দৃষ্টি ঝাঁপসা হয়ে যাওয়া
রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে চোখে এর প্রভাব পড়তে পারে। যদি চোখের মনি স্ফিত হয় এবং আকারের পরিবর্তন হয় তবে হঠাৎ করে চোখে ঝাঁপসা দেখার সমস্যা হতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
ডায়াবেটিসের ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে এই ঘটনা ঘটে। ফলে সহজে কোনো রোগ নিরাময় হতে চায় না।
ঘন ঘন ইনফেকশন
রক্তে শর্করার অসামঞ্জস্যতার ফলে ঘন ঘন বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ (ইনফেকশন) হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব
আমাদের শরীর ৫০ থেকে ৭৮ ভাগ পানি থাকে। ঘন ঘন প্রস্রাব ও ঘাম হওয়ার ফলে শরীর শুষ্ক হয়ে পড়ে। যার প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। তাই এ সময় চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে এবং চুলকানি ভাব হতে পারে।
বিরক্তি
দেহে শক্তি কমে যাওয়া এবং ক্ষুধা বৃদ্ধির ফলে সব সময় খারাপ লাগা এবং বিরক্তিবোধ হতে পারে। যেহেতু শরীর শক্তি পায় না এবং কর্মক্ষম থাকে না তাই এটা আপনার মেজাজকে খিটখিটে করতে পারে।
মাথাব্যথা
ডায়বেটিসের আরেকটি প্রধান লক্ষণ হচ্ছে মাথাব্যথার সমস্যা শুরু হওয়া। অতিরিক্ত পানিশূন্যতা, ওজন কমে যাওয়া এবং ম্যালাইসের কারণে এই মাথাব্যথার সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু করে।
মুখ শুকিয়ে যাওয়া
অনেকেই এই সমস্যার ব্যাপারে একেবারেই অবগত নন। ডায়বেটিসের কারণে আমাদের মুখের ভেতরের স্যালিভার উৎপাদন কমে যায়। যার কারণে মুখে ভেতর অনেক বেশি শুকনো হয়ে থাকে। এই ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন।
উল্লিখিত সমস্যাগুলো দেখা গেলে দেরি না করে ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়ে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডায়াবেটিস ধরা পড়লে ভেঙ্গে পড়বেন না। বরং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হন। কারণ ডায়াবেটিস হওয়ার পর নিয়ন্ত্রিত জীবনই বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়।
টাইপ ১ এবং টাইপ ২-এই দুই ধরনের ডায়বেটিস হয়। এর লক্ষণগুলো অনেকটাই একরকম, তবে চিকিৎসা পদ্ধতি কিছুটা আলাদা। তবে সবার আগে জানতে হবে ঠিক কোন কোন সমস্যা দেখা দিলে ডায়বেটিস পরীক্ষা করাতে হবে। আসুন জেনে নিই ডায়াবেটিসের লক্ষণ:
ঘন ঘন প্রস্রাব এবং পিপাসা পেলে
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ডায়াবেটিসের একটি অন্যতম লক্ষণ। রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে সেটি বের করে দিতে চায়। এর ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। এ সময় পানির তেষ্টাও বেড়ে যায়। ঘন ঘন প্রস্রাবের ফলে শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে, তাই পিপাসাও বেড়ে যায়।
ক্ষুধা বেড়ে গেলে
শরীরে যখন ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়, তখন শরীর শর্করা ধরে রাখতে পারে না। শর্করা শক্তি জোগায় শরীরে। শর্করার অভাব হলে শরীরের শক্তি হ্রাস পায়। ফলে ক্যালরির চাহিদা বেড়ে গিয়ে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে।
ক্লান্তি ও অবসাদগ্রস্ত ভাব
ক্ষুধার চাহিদা বাড়ার ফলে শরীর দুর্বল, ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যেহেতু এ সময় শরীর শর্করার সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারে না, তাই এই সমস্যাগুলো হয়।
মাত্রাতিরিক্ত ওজন হ্রাস
ডায়াবেটিসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ওজন হ্রাস। এ সময় রক্তে শর্করার আধিক্য ওজন কমার একটি অন্যতম কারণ। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ২০ পাউন্ড ওজন কমে যায়।
অসাড়তা
রক্তে অতিরিক্ত শর্করার ফলে স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে তাই ব্যক্তি অসাড় অনুভব করতে পারে। শুধু তাই নয়, স্নায়ু দুর্বল হলে রক্তচাপ কমে যায়। ফলে মাথা ঘুরতে পারে, দুর্বল লাগতে পারে।
দৃষ্টি ঝাঁপসা হয়ে যাওয়া
রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে চোখে এর প্রভাব পড়তে পারে। যদি চোখের মনি স্ফিত হয় এবং আকারের পরিবর্তন হয় তবে হঠাৎ করে চোখে ঝাঁপসা দেখার সমস্যা হতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
ডায়াবেটিসের ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে এই ঘটনা ঘটে। ফলে সহজে কোনো রোগ নিরাময় হতে চায় না।
ঘন ঘন ইনফেকশন
রক্তে শর্করার অসামঞ্জস্যতার ফলে ঘন ঘন বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ (ইনফেকশন) হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব
আমাদের শরীর ৫০ থেকে ৭৮ ভাগ পানি থাকে। ঘন ঘন প্রস্রাব ও ঘাম হওয়ার ফলে শরীর শুষ্ক হয়ে পড়ে। যার প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। তাই এ সময় চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে এবং চুলকানি ভাব হতে পারে।
বিরক্তি
দেহে শক্তি কমে যাওয়া এবং ক্ষুধা বৃদ্ধির ফলে সব সময় খারাপ লাগা এবং বিরক্তিবোধ হতে পারে। যেহেতু শরীর শক্তি পায় না এবং কর্মক্ষম থাকে না তাই এটা আপনার মেজাজকে খিটখিটে করতে পারে।
মাথাব্যথা
ডায়বেটিসের আরেকটি প্রধান লক্ষণ হচ্ছে মাথাব্যথার সমস্যা শুরু হওয়া। অতিরিক্ত পানিশূন্যতা, ওজন কমে যাওয়া এবং ম্যালাইসের কারণে এই মাথাব্যথার সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু করে।
মুখ শুকিয়ে যাওয়া
অনেকেই এই সমস্যার ব্যাপারে একেবারেই অবগত নন। ডায়বেটিসের কারণে আমাদের মুখের ভেতরের স্যালিভার উৎপাদন কমে যায়। যার কারণে মুখে ভেতর অনেক বেশি শুকনো হয়ে থাকে। এই ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন।
উল্লিখিত সমস্যাগুলো দেখা গেলে দেরি না করে ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়ে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডায়াবেটিস ধরা পড়লে ভেঙ্গে পড়বেন না। বরং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হন। কারণ ডায়াবেটিস হওয়ার পর নিয়ন্ত্রিত জীবনই বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়।
No comments:
Post a Comment