Monday, November 19, 2012

টকদই এর রেসিপি: খুব অল্প খরচে, অল্প সময়ে বাসায় এই ট্কদই বানাতে পারেন

নিজের হাতে বানানো টকদই- আসুন আজই হয়ে যাক

আমি বরাবরই ভোজন রসিক সেটা এ ব্লগের অনেকেই জানেন। সেসব নিয়েও আছে অনেক অনেক গল্প। যাক সে কথা। আজকে ঘরে বানানো টকদই এর রেসিপি দিবো। যা এই রোজার দিনে ইফতারের পরে ভালো পুষ্টির যোগান দিবে। খুব অল্প খরচে, অল্প সময়ে বাসায় এই ট্কদই বানাতে পারেন।

উপকরণ :
দুধ ২ লিটার (আমরা দুই লিটারকে ষ্ট্যান্ডার্ড ধরে নিলাম), পানি ২ কাপ,
দইয়ের বীজ (আগের দই) ১.৫ টেবিল চামচ, মাটির বড় হাঁড়ি ১টি।

প্রণালী:
১। ২ লিটার দুধে ২ কাপ পানি মিশিয়ে প্রায় সাত/আট মিনিট চুলায় গরম করতে হবে।
২। যখন একটু বলক উঠবে তখন চুলার জ্বাল কমিয়ে দিতে হবে।
৩। এরপর এই অল্প জ্বালে প্রায় ২০ মিনিট রাখতে হবে। (পাতিলের নিচে দুধ যাতে না ধরে যায় এজন্য মাঝে মাঝে চামচ দিয়ে নাড়তে হবে)
৪। মিশ্রণটি যখন একটু ঘন হয়ে আসবে তখন মাটির ঐ হাঁড়িতে ঢালতে হবে।
৫। এরপর দইএর বীজ আধাকাপ পানিতে গুলিয়ে মাটির হাঁড়িতে রাখা দুধের মধ্যে ঢেলে দিতে হবে।
৬। এরপর হাঁড়িটি ঢেকে রাখতে হবে। ঠান্ডা হলে ফ্রিজিং করা যেতে পারে।

 

দই এর বীজ কিভাবে বানাবেন?
১ম পদ্ধতি: আগের যেকোন দই থেকে অল্প কিছু দই পরের দই এর বীজ হিসেবে ব্যাবহার করা যায়।
২য় পদ্ধতি: এককাপ দুধের মাঝে ৩/৪ চামচ ভিনেগার দিলে সেটা জমে দই এর বীজ হবে।
৩য় পদ্ধতি: এককাপ দুধের মাঝে দশ বারো ফোঁটা লেবুর রস দিলেও সেটা দই এর বীজ হিসেবে।

দই এর পরিচয় এবং সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
দই হল এক ধরনের দুগ্ধজাত খাদ্য যা দুধের ব্যাক্টেরিয় গাঁজন হতে প্রস্তুত করা হয়। ল্যাক্টোজের গাঁজনের মাধ্যমে ল্যাক্টিক এসিড তৈরি করা হয়, যা দুধের প্রোটিনের ওপর কাজ করে দইয়ের স্বাদ ও এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গন্ধ প্রদান করে। মানুষ ৪৫০০ বছর ধরে দই প্রস্তুত করছে এবং তা খেয়ে আসছে। সারা পৃথিবীতেই এটি পরিচিত। পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে এর সুনাম আছে। দই প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, রাইবোফ্ল্যাভিন, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন বি১২ এ অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

টক দই এর ১০টি উপকারীতা:
১। টক দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ঠান্ডা লাগা , সর্দি ও জ্বর না হওয়ার জন্য এটি ভালো কাজ করে।
২। টক দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে বাড়িয়ে হজম শক্তি বাড়ায় বা ঠিক রাখে।
৩। টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া হজমে সহায়ক তাই এটি পাকস্থলীর জ্বালাপোড়া কমাতে বা হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
টক দই হাড় ও দাঁতের গঠনে ও মজবুত করতে সাহায্য করে ।
৪। কম ফ্যাট যুক্ত টক দই রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএল কমায়।
৫। টক দইয়ের আমিষ দুধের চেয়ে সহজে হজম হয়, এটি দুধের চেয়ে অনেক কম সময়ে হজম হয়। তাই যাদের দুধের হজমে সমস্যা তারা দুধের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন।
৬। টক দই রক্ত শোধন করে। উচ্চ রক্ত চাপের রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
৭। ডায়বেটিস, হার্টের অসুখ এর রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে এসব অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। নিয়মিত টক দই খেলে তা অন্য খাবার থেকে পুষ্টি নিয়ে শরীরকে সরবরাহ করে ।
৮। টক দইয়ে আমিষ থাকে, যেহেতু আমিষ হজম হতে সময় লাগে, তাই পেট ভরা বোধ হয় ও শক্তি পাওয়া যায় | অতিরিক্ত খাবারও খেতে ইচ্ছা করে না।
৯। দই এর পুষ্টি উপাদানগুলো হজমের সময় তাড়াতাড়ি শরীরে শোষিত হয়ে দ্রুত শরীরকে শক্তি দেয়।
১০। টক দই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে | তাই গ্রীষ্মকালে টক দই খেলে ভালো।

তো আজকেই হয়ে যাক, ইফতারের পরে নিজের হাতে বানানো টক দই। আর খেয়ে বলেন কেমন লাগলো?
 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29646072
প্রকাশ করা হয়েছে: মিষ্টান্ন ও খাবার  বিভাগে 

---------
টকদই এর রেসিপি:  খুব অল্প খরচে, অল্প সময়ে বাসায় এই ট্কদই বানাতে পারেন।
উপকরণ :
দুধ ২ লিটার (আমরা দুই লিটারকে ষ্ট্যান্ডার্ড ধরে নিলাম), পানি ২ কাপ,
দইয়ের বীজ (আগের দই) ১.৫ টেবিল চামচ, মাটির বড় হাঁড়ি ১টি।

প্রণালী:
১। ২ লিটার দুধে ২ কাপ পানি মিশিয়ে প্রায় সাত/আট মিনিট চুলায় গরম করতে হবে।
২। যখন একটু বলক উঠবে তখন চুলার জ্বাল কমিয়ে দিতে হবে।
৩। এরপর এই অল্প জ্বালে প্রায় ২০ মিনিট রাখতে হবে। (পাতিলের নিচে দুধ যাতে না ধরে যায় এজন্য মাঝে মাঝে চামচ দিয়ে নাড়তে হবে)
৪। মিশ্রণটি যখন একটু ঘন হয়ে আসবে তখন মাটির ঐ হাঁড়িতে ঢালতে হবে।
৫। এরপর দইএর বীজ আধাকাপ পানিতে গুলিয়ে মাটির হাঁড়িতে রাখা দুধের মধ্যে ঢেলে দিতে হবে।
৬। এরপর হাঁড়িটি ঢেকে রাখতে হবে। ঠান্ডা হলে ফ্রিজিং করা যেতে পারে।

দই এর বীজ কিভাবে বানাবেন?
১ম পদ্ধতি: আগের যেকোন দই থেকে অল্প কিছু দই পরের দই এর বীজ হিসেবে ব্যাবহার করা যায়।
২য় পদ্ধতি: এককাপ দুধের মাঝে ৩/৪ চামচ ভিনেগার দিলে সেটা জমে দই এর বীজ হবে।
৩য় পদ্ধতি: এককাপ দুধের মাঝে দশ বারো ফোঁটা লেবুর রস দিলেও সেটা দই এর বীজ হিসেবে।

দই এর পরিচয় এবং সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
দই হল এক ধরনের দুগ্ধজাত খাদ্য যা দুধের ব্যাক্টেরিয় গাঁজন হতে প্রস্তুত করা হয়। ল্যাক্টোজের গাঁজনের মাধ্যমে ল্যাক্টিক এসিড তৈরি করা হয়, যা দুধের প্রোটিনের ওপর কাজ করে দইয়ের স্বাদ ও এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গন্ধ প্রদান করে। মানুষ ৪৫০০ বছর ধরে দই প্রস্তুত করছে এবং তা খেয়ে আসছে। সারা পৃথিবীতেই এটি পরিচিত। পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে এর সুনাম আছে। দই প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, রাইবোফ্ল্যাভিন, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন বি১২ এ অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

টক দই এর ১০টি উপকারীতা:
১। টক দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ঠান্ডা লাগা , সর্দি ও জ্বর না হওয়ার জন্য এটি ভালো কাজ করে।
২। টক দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে বাড়িয়ে হজম শক্তি বাড়ায় বা ঠিক রাখে।
৩। টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া হজমে সহায়ক তাই এটি পাকস্থলীর জ্বালাপোড়া কমাতে বা হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
টক দই হাড় ও দাঁতের গঠনে ও মজবুত করতে সাহায্য করে ।
৪। কম ফ্যাট যুক্ত টক দই রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএল কমায়।
৫। টক দইয়ের আমিষ দুধের চেয়ে সহজে হজম হয়, এটি দুধের চেয়ে অনেক কম সময়ে হজম হয়। তাই যাদের দুধের হজমে সমস্যা তারা দুধের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন।
৬। টক দই রক্ত শোধন করে। উচ্চ রক্ত চাপের রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
৭। ডায়বেটিস, হার্টের অসুখ এর রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে এসব অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। নিয়মিত টক দই খেলে তা অন্য খাবার থেকে পুষ্টি নিয়ে শরীরকে সরবরাহ করে ।
৮। টক দইয়ে আমিষ থাকে, যেহেতু আমিষ হজম হতে সময় লাগে, তাই পেট ভরা বোধ হয় ও শক্তি পাওয়া যায় | অতিরিক্ত খাবারও খেতে ইচ্ছা করে না।
৯। দই এর পুষ্টি উপাদানগুলো হজমের সময় তাড়াতাড়ি শরীরে শোষিত হয়ে দ্রুত শরীরকে শক্তি দেয়।
১০। টক দই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে | তাই গ্রীষ্মকালে টক দই খেলে ভালো।

---------------=============---------------------

টক দইয়ের উপকারিতা 

এতে আছে প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, যা হাড় ও দাঁতের গঠনে সহায়ক। মহিলাদের টক দই বেশী প্রয়োজন,কেননা তারাই ক্যালসিয়ামের অভাবে বেশী ভোগেন। 

টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত উপকারী,এটা শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

  • টক দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া ঠান্ডা,সর্দি,জ্বরকে দুরে রাখে।                
  • টক দইয়ে আছে ল্যাকটিক অ্যাসিড,যা কোষ্টকাঠিন্য দুর করে ও ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে। এটি কোলন ক্যানাসার রোগীদের খাদ্য হিসাবে উপকারী।
  • যারা দুধ খেতে পারেন না বা দুধ যাদের হজম হয় না, তারা অনায়াসেই টক দই খেতে পারেন। কারন টক দইয়ের আমিষ দুধের চেয়ে সহজে ও কম সময়ে হজম হয়।
  • টক দই ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এর আমিষের জন্য পেট ভরা বোধ হয় ও শরীরে শক্তি পাওয়া যায়। ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহন করতে ইচ্ছে করে না। আর অতিরিক্ত খাবার না খেলে সহজেই ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়।
  • টক দই শরীরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখে। প্রতিদিন মাত্র এক কাপ করে টক দই খেলেউচ্চ রক্তচাপ প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমে যায় এবং স্বাভাবিক হয়ে আসে। এছাড়া এটি রক্তের খারাপ কোলেষ্টেরলের মাত্রাও কমিয়ে দেয়।
  • হার্টের অসুখ ও ডায়াবেটিসের রোগীরা টক দই খেলে অসুখ নিয়ন্ত্রনে থাকে।
  • টক দই শরীরে টক্সিন জমতে দেয় না। ফলে অন্ত্রনালী পরিস্কার থাকে। যা শরীরকে সুস্হ রখে ও বার্ধক্য রোধে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত টক দই খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।


ঘরে কিভাবে টক দই তৈরী করা যায়
এক লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করতে হবে। এবার ছয়/সাত চামচ টকদই এর ভিতর দিয়ে ভাল করে ঘেঁটে দিতে হবে। তারপর মাটির পাত্রে দুধটা ঢেলে সাত আট ঘন্টা রেখে দিলেই টক দই তৈরী হয়ে যাবে। ফ্রিজে কখনও দই পাতবেন না, কারন ফ্রিজে ব্যাকটেরিয়া কাজ করে না।


টক দই কিভাবে খাওয়া যায়
টক দই খাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে বোরহানি করে খাওয়া। টক দইয়ের ভিতর বিট লবন, গোল মরিচ গুঁড়া, পুদিনা বাটা ইত্যাদি দিয়ে তৈরী করা বোরহানি খেতে যেমন অসাধারন তেমনি স্বাস্হ্যকরও বটে। এছাড়া স্বাদ অন্যরকম করতে তেতুলের রস ও জিরা গুঁড়াও মেশানো যায় বোরহানির সাথে। টক দইয়ের ভিতর সবকিছু দিয়ে হ্যান্ড বিটার দিয়ে ভাল করে ফেটে বা ব্লেন্ডারে দিয়ে বোরহানি তৈরী করা যায়।
টক দই আরও খাওয়া যায় সালাদের সাথে। টমাটো, শসা, গাজর ইত্যাদি কেটে টক দই মিশিয়ে তার সাথে বিট লবন, গোল মরিচের গুঁড়া যোগ করে খেতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন ফল কেটে টক দই সহযোগেও খাওয়া যায়। দুটো পদ্ধতিই সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর।
যেভাবেই টক দই খাওয়া হোক না কেন মূল কথা হচ্ছে এটি ভীষন উপকারি। নিয়মিতভাবে টক দই খেলে আমাদের শরীর থাকবে অনেক রোগমুক্ত, সতেজ ও স্বাভাবিক। যা প্রতিটি মানুষেরই কাম্য।

No comments: