Sunday, November 18, 2012

মশক নিধনে চলছে ডিসিসির জালিয়াতি


এম এ বাবর:
ঢাকা মহানগরীর মশা নিধনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে চলতি অর্থবছরে ৩৫ কোটি এক লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ইতিমধ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় মেশিনারি ও ওষুধ ক্রয় খাতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
মশক নিধনের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ১২ দিনব্যাপী বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এজন্য তারা গত ৮ নভেম্বর বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপনও দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের ওই কার্যক্রম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনেও রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। ডিএসসিসির পাঁচটি অঞ্চলে ১২ দিনব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রামে যেসব মেশিনারির সংখ্যা দেয়া হয়েছে এবং যে পরিমাণ ওষুধ ও জনবল কাজ করার কথা বলা হয়েছে সেখানেও রয়েছে জালিয়াতি।
অন্যদিকে মশার ওষুধ কেনার কার্যক্রম শেষ না করেই ডিএসসিসি ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে। প্রায় এক লাখ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড কেনার জন্য কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত সরবরাহ করেছে মাত্র ১৯ হাজার লিটার। এছাড়া চার হাজার লিটার লার্ভিসাইড কেনার জন্য টেন্ডার হলেও ওষুধ এখনো ভাণ্ডারে আসেনি।
সূত্র জানায়, ডিএসসিসির চলমান ক্রাশ প্রোগ্রামে প্রতিদিন ১৮০টি ফগার মেশিন ও ২৫৩টি হস্তচালিত মেশিনের মাধ্যমে কাজের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ডিএসসিসির পাঁচটি অঞ্চলে ফগার মেশিন সচল রয়েছে সর্বোচ্চ ১শ’ এবং হস্তচালিত মেশিন সচল রয়েছে ১২০-১৩০টি। এছাড়া অঞ্চল অফিসগুলোতে চলতি অর্থবছরে মশক নিধনের নতুন কোন মেশিন সরবরাহ করা হয়নি। ব্যবহৃত মেশিনগুলো ২০১১ সালের শেষের দিকে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে পুরান মেশিনের মাধ্যমে কাজ করতে গিয়েও অনেক মেশিন অচল হয়ে যাচ্ছে।
ডিএসসিসির অঞ্চল-১, ৩ ও ৪-এর সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা মুনির জানান, প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের কিছুটা মেশিন স্বল্পতা রয়েছে। কিছু মেশিন নষ্টও রয়েছে। তবে সচল মেশিনগুলো ডাবল ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। অঞ্চল-২ এর সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কবির জানান, ৪১টি ফগার মেশিনের মধ্যে ৩২টি মেশিন সচল রয়েছে। এছাড়া ৫৫টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের মধ্যে ৪৭টি সচল রয়েছে। সচল মেশিন ডাবল ব্যবহার করে চাহিদা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মশক নিধনে বিশেষ কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চলে ১৪৩টি ফগার মেশিনের মধ্যে ৮৬টি মেশিনই অচল। এছাড়া ২২১টি হস্তচালিত স্প্রে মেশিনের মধ্যে ৬২টি অচল, ২১টি হুইল ব্যুরো মেশিনের মধ্যে ৭টি অচল, ২টি ইউএলডি মেশিনের ২টিই অচল ও ৬টি পাওয়ার স্পেয়ার মেশিনের মধ্যে ৩টি অচল। প্রয়োজনীয় মেশিনারি, ওষুধ ও জনবল না থাকায় অতিসত্বর এ কাজ শুরু হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই।
সূত্র জানায়, সচল মেশিনারিগুলো চালানোর জন্যও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জনবল নেই। অথচ চলতি অর্থবছরের (২০১২-২০১৩) বাজেটে মশক নিধন কাজে ডিএনসিসির বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৬ কোটি ৫ লাখ টাকা।
মশক ওষুধ, কচুরিপানা পরিষ্কার, ফগার-হুইল-স্প্রে মেশিনসহ মশক নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ওই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর ডিএসসিসির এ খাতে বরাদ্দ ১৯ কোটি ৫ লাখ টাকা।    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নূর-উন-নবী বলেন, ‘নগরবাসী সচেতন না হলে হাজারো ক্রাশ প্রোগ্রাম চালিয়েও কোনো লাভ হবে না। মশার উৎপাত কমাতে আমাদের যার-যার আঙিনা, ফুলের টব ও নোংরা ডোবাসহ সব কিছু পরিষ্কার রাখতে হবে।’
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ-আল-হারুন বলেন, পাঁচটি অঞ্চলে মশা নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্মিলিত ভাবে এ ক্রাশ প্রোগ্রামে কাজ করছেন।
http://manobkantha.com/details_news.php?id=93558&&+page_id=+6

No comments: