Tuesday, November 6, 2012

নোবেল বিজয়ীদের ইতিকথা

 বিশ্বের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অনন্য সাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য দেয়া হয় নোবেল পুরস্কার। তবে কখনো কি কারো মনে প্রশ্ন জাগেনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কে? আবার কে সবচেয়ে কম বয়সী? কতজন নারী ও কতজন দম্পতি পেয়েছেন গর্বের নোবেল? নোবেল ফাউন্ডেশনের তালিকা ঘেঁটে এ ধরনের কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে। তবে এ তালিকায় চলতি বছরের পুরস্কার অন্তর্ভুক্ত নয়।
সবচেয়ে বেশি বয়সে নোবেল পেয়েছেন রাশিয়ায় জন্মগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিক খৃনিদ হারউইকজ। তিনি ২০০৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পান। এ সময় তার বয়স ছিল ৯০ বছর। নোবেল পাওয়ার পর তিনি মাত্র কয়েকমাস বেঁচে ছিলেন। ২০০৮ সালের জুনে তিনি মারা যান। সবচেয়ে বেশি বয়সী জীবিত নোবেল বিজয়ী হলেন রিটা লেভি-মন্টালকিনি। তিনি ১৯৮৬ সালে চিকিৎসা শাস্ত্রে বিশেষ অবদানের জন্য নোবেল পান। ২০১২ সালের ২২ এপ্রিল ছিল তার ১শ’ ৩তম জন্মদিন। ২০০৭ সালে সাহিত্যে সবচেয়ে বেশি বয়সে নোবেল জেতার দুর্লভ গৌরব অর্জন করেন বৃটিশ লেখক ডোরিস লেসিং। এ সময় তার বয়স ছিল ৮৭ বছর। নোবেলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে এ পুরস্কার পেয়ে এখন পর্যন্ত যিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি হলেন বৃটেনের লরেন্স ব্রাগ। তিনি ১৯১৫ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে পদার্থ বিজ্ঞানে এ পুরস্কার পান। এরপরে রয়েছেন জার্মানীর ওয়ার্নার কার্ল হেইনসেনবার্গ। তিনি ১৯৩২ সালে ৩১ বছর বয়সে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পান। এরপর তৃতীয় কনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে ১৯০৭ সালে ৪২ বছর বয়সে সাহিত্যে নোবেল পান বৃটেনের লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিং। ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার চালু হওয়ার এ পর্যন্ত মোট ৪৪ জন নারী ও ৭শ’ ৮৬ জন পুরুষ এ পুরস্কার পেয়েছেন। নারীদের মধ্যে মেরী কুরি দু’বার এ পুরস্কার পেয়েছেন। নোবেল পুরস্কার জয়ী প্রথম নারী এলিনর অসট্রোম। ২০০৯ সালে তিনি অর্থনীতিতে এ পুরস্কার পান। এ পর্যন্ত পদার্থ বিজ্ঞানে কেবল দুই জন নারী নোবেল পেয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে পুরুষের সংখ্যা ১শ’ ৮৮ জন।
বাবা ও ছেলের নোবেল পাওয়ার ঘটনা আছে ছয়টি। তবে বাবা-মেয়ে ও মা-মেয়ের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ঘটনা রয়েছে একটি করে। দম্পতির নোবেল পাওয়ার ঘটনা রয়েছে তিনটি। ছয়জন বিজয়ী নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখান করেন। এর মধ্যে জ্যাঁ পল সাঁত্রে ১৯৬৪ সালে সাহিত্যে ও ভিয়েতনামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি ডাক থো ১৯৭৩ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে এ পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানান। তারা সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছায় এ পুরস্কার পত্যাখান করেন। এডলফ হিটলার জার্মান নোবেল বিজয়ী- রিচার্ড কুন (রসায়ন ১৯৩৮), এডলফ বুটেনানদ (রসায়ন ১৯৩৯) ও গার্হার্ড ডোমাক (চিকিৎসা ১৯৩৯)- এই ৩ জনকে পুরস্কার নিতে নিষেধ করেছিলেন। এছাড়া সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ বোরিস পাত্মারনেককে ১৯৫৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখান করতে বাধ্য করে। তিনজন কারাগারে থাকা অবস্থায় নোবেল পান। এর মধ্যে রয়েছেন জার্মান সাংবাদিক কার্ল ভন ওসাইটজকি (১৯৩৫), মিয়ানমারের গণতান্ত্রিকপন্থী নেত্রী অং সান সু কি (১৯৯১) ও চীনের ভিন্নমতাবলম্বী লিউ জিয়াবো (২০১০)।

No comments: