Saturday, November 17, 2012

দেশে মোবাইল ফোন সদৃশ পিস্তল আতঙ্ক

:: নজরুল ইসলাম :: 
দেশে একদিকে চলছে জামায়াত-শিবিরের হামলার আতঙ্ক, অন্যদিকে চলছে মোবাইল ফোন সদৃশ পিস্তল আতঙ্ক। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদ ভবন, বিমানবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অফিস এবং স্থাপনায় মোবাইল ফোন বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকেন আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

mobile_gunপ্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য জানান, এই মোবাইল ফোন পিস্তলের কারণে সব সময় তাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, এই ধরণের অস্ত্র বাংলাদেশের কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে থাকতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যে কোন অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি মোবাইল ফোন পিস্তল বিষয়ে অধিক নজর দিতে হয়। গত বছর ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সকল মোবাইল ফোন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রাখা হয়েছিল।
দেখতে মোবাইল ফোনের মত মনে হলেও এর ভিতরে লুকিয়ে আছে পয়েন্ট টুটু বোরের একটা পিস্তল। সম্প্রতি এই পিস্তলের আবির্ভাব ঘটেছে সন্ত্রাস জগতে।
এর আগে এ ধরনের পিস্তল প্রথম নজরে আসে ইতালীর পুলিশের। ইতালীতে একটি মাদক ব্যবসায়ী পরিবারে অভিযান চালানোর সময় এই অস্ত্র তাদের হাতে আসে। এটি মূলত ইতালীর নেপলসের এক ব্যক্তি প্রথম ডিজাইন বা তৈরি করেন।
বিবিসি জানায়, এ ধরনের পিস্তল উদ্ধারের সময় ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।
mobile_gun অস্ত্রটিকে সুকৌশলে একটি মোবাইল ফোন সেটের ভিতরে বসানো হয়। মোবাইল ফোনটিকে মাঝ বরাবর স্লাইডিং করা খোলা যায় এবং একসাথে ৪টি বুলেট ভরা যায়। পিস্তলটিতে ট্রিগার হিসেবে কাজ করে এর চারটি বাটন। মোবাইল ফোনের অ্যান্টেনা কাজ করে এর ব্যারেল হিসেবে। এটিকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য এর গায়ে লাগানো হয়েছে একটা নকল ডিসপ্লে।
মোবাইল ফোনের ভেতর আগ্নেয়াস্ত্র লুকানো থাকে বলে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দর এবং নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতে মোবাইল ফোন স্ক্যানারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে ঢোকানো হচ্ছে। সাধারণত এই মোবাইল ফোন সেট ওজনে কিছুটা ভারী হয়। ওজনের বিষয়টিই মূলত এই পিস্তল শনাক্ত করার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য সহায়ক হয়ে থাকে।

কেএমএস/

No comments: