এম এ বাবর
কূটনৈতিকপল্লী
হিসেবে পরিচিত বারিধারা এলাকার মার্কিন দূতাবাস সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী
অ্যাভিনিউয়ের ভাঙাচোরা রাস্তাটি মাস তিনেক আগে কার্পেটিং করা হয়। গত মাসে
সড়কটি কেটে পয়ঃনিষ্কাশন লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করে এখনো শেষ করতে পারেনি
ঢাকা ওয়াসা। একইভাবে শ্যামলী রিং রোডটি মেরামত করা হয় গত জানুয়ারিতে। ওই
সড়কটিও আবার কাটা শুরু করেছে ওয়াসা। এছাড়া গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার
প্রকল্পের কিছু অংশে এখনো পাইলিং চলছে। বেশিরভাগ অংশের পাইলিং বছরখানেক আগে
শেষ হলেও রাস্তাগুলো ঠিকভাবে মেরামত হয়নি। গত মার্চে শুরু হয়েছে
মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ। এ কারণে মগবাজার থেকে ইস্কাটন ও
তেজগাঁওগামী রাস্তায় শুরু হয়েছে খোঁড়াখুঁড়ি। একই প্রকল্পের অন্য প্যাকেজের
জন্য মগবাজার-মৌচাক এলাকার মাঝখানে খোঁড়া শুরু হচ্ছে। আগামী এক বছর ধরে
সাতরাস্তা মোড় থেকে শুরু করে এফডিসি মোড়, মগবাজার, মৌচাক, শান্তিনগর,
মালিবাগ, চৌধুরীপাড়া ও রমনা থানা মোড় পর্যন্ত বড় এলাকাজুড়ে চলবে এই
খোঁড়াখুঁড়ি।
গত ৩০ মার্চের মধ্যে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর থেকে কাজীপাড়া ও রোকেয়া সরণি পর্যন্ত ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পানির লাইন স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু রাস্তা খুঁড়ে রাখলেও এখনো ওই কাজ শেষ হয়নি। এছাড়া কলাবাগান থেকে উত্তর ধানমণ্ডি এলাকায় গ্যাস পাইপলাইনের কাজ গত ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও এখনো শেষ করতে পারেনি তিতাস কর্তৃপক্ষ।
ডিপিডিসির পক্ষ থেকে ১১ কেভি ভূগর্ভস্থ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২৫৬ এলিফ্যান্ট রোড থেকে সোনারগাঁও রোড পর্যন্ত রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি নিয়ে ৩০ মার্চের মধ্যে কাজ শেষের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা শেষ করেনি। একইভাবে বিজয়নগর, মৌচাক ক্রসিং, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ক্রসিং ও সোনারগাঁও ক্রসিংসহ মোট ১৩টি পয়েন্টের খননকাজ নির্ধারিত ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করতে পারেনি বিটিসিএল।
ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দ্রুত সময় কাজ শেষ করার জন্য নির্ধারিত সময় ধরে দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের। কিন্তু নানা কারণে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক কাজ শেষ করতে পারেন না। তখন আবেদন করলে কাজের সময় কিছুদিন বাড়িয়ে দেয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তার খারাপ অবস্থা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে যে ঠিকাদার সড়ক মেরামত করেন, তা আগের মানের হয় না। ফলে মেরামত করা অংশ কিছুদিনের মধ্যেই দেবে যায়। রাস্তার উপরিভাগ ভেঙে ইট-সুরকি বেরিয়ে পড়ে।’
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল খায়ের বলেন, ‘মূল রাস্তার পাশে ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য আলাদা ডকটাইল লাইন না থাকায় বিভিন্ন সেবা সংস্থা কিছুদিন পর পর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে। যত ভাল করেই রাস্তায় ঢালাই দেয়া হোক না কেন এভাবে খোঁড়াখুঁড়িতে রাস্তার অবস্থা বেহাল হবেই। তবে সংস্থার সাধ্যানুযায়ী রাস্তার মান রক্ষায় কাজ করা হচ্ছে।’
রাজধানীর
রাস্তার বেহাল অবস্থা! প্রায় দেড় কোটি মানুষ বসবাসকারী ঢাকা মহানগরীর
রাস্তাগুলোর ওপরে শনির আছর যেন কাটছেই না। রাস্তা উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে
প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নগরীর রাস্তাঘাটের বেহাল দশা ও
নানা সমস্যায় জনদুর্ভোগের শেষ নেই। এমনকি কূটনৈতিক পাড়া হিসেবে খ্যাত
গুলশান-বারিধারা এলাকার রাস্তাগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ।
উন্নয়নের লক্ষ্যে
খোঁড়াখুঁড়ির কাজ ২৮ দিনের মধ্যে শেষ করার নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট
প্রতিষ্ঠানগুলো তা মানছে না। কাজ শুরু করলে তা মাসের পর মাস ঢিমেতালে চলতেই
থাকে।
অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) আওতায় ২ হাজার ২৮৯
কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এছাড়া রাস্তার সঙ্গে ২ হাজার ৪৬০ কিলোমিটার
নর্দমা, ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাত ও ২শ’ কিলোমিটার মিডিয়ান রয়েছে। ডিসিসির
আওতাধীন এই রাস্তা, ফুটপাত ও সারফেস ড্রেন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার খাতে
বিগত পাঁচ অর্থবছরে বরাদ্দ হয়েছে এক হাজার ২৮৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
এরমধ্যে
চলতি অর্থবছরে (২০১২-১৩) বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে
(ডিএনসিসি) ৩১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে
(ডিএসসিসি) ১৪৬ কোটি টাকা। কিন্তু এ বিপুল পরিমাণ বরাদ্দকৃত টাকার কাজ
সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সংস্থা দুটির এক শ্রেণীর
কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে কাজ না করেই অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দের টাকা
আত্মসাৎ করা হয়েছে। এদিকে রাস্তা উন্নয়ন ও সংস্কারের অভাবে বর্ষা মৌসুমে
নগরীর বেশিরভাগ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আর নামমাত্র কিছু কাজ করা
হলেও তাতে চলে নানা অনিয়ম। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমের আগে এসব কাজ শুরু হওয়ায়
নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
সরেজমিন দেখা গেছে, গুলশান-১ থেকে তেজগাঁওগামী রাস্তার মেরামত ও উন্নয়ন কাজ গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে চলতি বছরের ৩০ মার্চে শেষ হওয়ার কথা ছিল। আর রাস্তাটি মেরামতের জন্য একপাশে কয়েক ফুট চওড়া করে কেটে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন। কিন্তু রাস্তাটির ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি ঢাকা ওয়াসা। ফলে কাটা রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। মাঝে মধ্যে ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও।
সরেজমিন দেখা গেছে, গুলশান-১ থেকে তেজগাঁওগামী রাস্তার মেরামত ও উন্নয়ন কাজ গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে চলতি বছরের ৩০ মার্চে শেষ হওয়ার কথা ছিল। আর রাস্তাটি মেরামতের জন্য একপাশে কয়েক ফুট চওড়া করে কেটে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন। কিন্তু রাস্তাটির ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি ঢাকা ওয়াসা। ফলে কাটা রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। মাঝে মধ্যে ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও।
কূটনৈতিকপল্লী
হিসেবে পরিচিত বারিধারা এলাকার মার্কিন দূতাবাস সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী
অ্যাভিনিউয়ের ভাঙাচোরা রাস্তাটি মাস তিনেক আগে কার্পেটিং করা হয়। গত মাসে
সড়কটি কেটে পয়ঃনিষ্কাশন লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করে এখনো শেষ করতে পারেনি
ঢাকা ওয়াসা। একইভাবে শ্যামলী রিং রোডটি মেরামত করা হয় গত জানুয়ারিতে। ওই
সড়কটিও আবার কাটা শুরু করেছে ওয়াসা। এছাড়া গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার
প্রকল্পের কিছু অংশে এখনো পাইলিং চলছে। বেশিরভাগ অংশের পাইলিং বছরখানেক আগে
শেষ হলেও রাস্তাগুলো ঠিকভাবে মেরামত হয়নি। গত মার্চে শুরু হয়েছে
মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ। এ কারণে মগবাজার থেকে ইস্কাটন ও
তেজগাঁওগামী রাস্তায় শুরু হয়েছে খোঁড়াখুঁড়ি। একই প্রকল্পের অন্য প্যাকেজের
জন্য মগবাজার-মৌচাক এলাকার মাঝখানে খোঁড়া শুরু হচ্ছে। আগামী এক বছর ধরে
সাতরাস্তা মোড় থেকে শুরু করে এফডিসি মোড়, মগবাজার, মৌচাক, শান্তিনগর,
মালিবাগ, চৌধুরীপাড়া ও রমনা থানা মোড় পর্যন্ত বড় এলাকাজুড়ে চলবে এই
খোঁড়াখুঁড়ি।গত ৩০ মার্চের মধ্যে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর থেকে কাজীপাড়া ও রোকেয়া সরণি পর্যন্ত ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পানির লাইন স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু রাস্তা খুঁড়ে রাখলেও এখনো ওই কাজ শেষ হয়নি। এছাড়া কলাবাগান থেকে উত্তর ধানমণ্ডি এলাকায় গ্যাস পাইপলাইনের কাজ গত ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও এখনো শেষ করতে পারেনি তিতাস কর্তৃপক্ষ।
ডিপিডিসির পক্ষ থেকে ১১ কেভি ভূগর্ভস্থ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২৫৬ এলিফ্যান্ট রোড থেকে সোনারগাঁও রোড পর্যন্ত রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি নিয়ে ৩০ মার্চের মধ্যে কাজ শেষের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা শেষ করেনি। একইভাবে বিজয়নগর, মৌচাক ক্রসিং, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ক্রসিং ও সোনারগাঁও ক্রসিংসহ মোট ১৩টি পয়েন্টের খননকাজ নির্ধারিত ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করতে পারেনি বিটিসিএল।
ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দ্রুত সময় কাজ শেষ করার জন্য নির্ধারিত সময় ধরে দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের। কিন্তু নানা কারণে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক কাজ শেষ করতে পারেন না। তখন আবেদন করলে কাজের সময় কিছুদিন বাড়িয়ে দেয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তার খারাপ অবস্থা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে যে ঠিকাদার সড়ক মেরামত করেন, তা আগের মানের হয় না। ফলে মেরামত করা অংশ কিছুদিনের মধ্যেই দেবে যায়। রাস্তার উপরিভাগ ভেঙে ইট-সুরকি বেরিয়ে পড়ে।’
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল খায়ের বলেন, ‘মূল রাস্তার পাশে ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য আলাদা ডকটাইল লাইন না থাকায় বিভিন্ন সেবা সংস্থা কিছুদিন পর পর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে। যত ভাল করেই রাস্তায় ঢালাই দেয়া হোক না কেন এভাবে খোঁড়াখুঁড়িতে রাস্তার অবস্থা বেহাল হবেই। তবে সংস্থার সাধ্যানুযায়ী রাস্তার মান রক্ষায় কাজ করা হচ্ছে।’
http://manobkantha.com/2013/05/23/122186.html
http://www.emanobkantha.com/2013/05/23/index.php

No comments:
Post a Comment