Thursday, May 2, 2013

ডিম ফেরিওয়ালা থেকে কোটিপতি: পর্ব-২


Photo: ডিম ফেরিওয়ালা থেকে কোটিপতি :
এম এ বাবর, রূপগঞ্জ থেকে ফিরে
অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের উচ্চ বিলাসীকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের দিনমজুর আমানউল্লার ছেলে রফিক ওরফে আন্ডা রফিক। কয়েক বছর আগেও কায়েতপাড়া থেকে ডিম সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকার বনানী বাজারের ডিমের দোকানে বিক্রি করতেন। এ সময় তিনি গুলশান-বনানীর বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি দেখে এমন সম্পদের মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতেও সক্ষম হয়েছেন। তবে বৈধ উপায়ে নয়, অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকা, বিলাসবহুল গাড়ি ও বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন আন্ডা রফিক (৪৫)।  আর এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের পাহাড় গড়তে গিয়ে রূপগঞ্জের অনেক নিরীহ সাধারণ কৃষক পরিবারকে পথে বসিয়েছেন তিনি! অনুসন্ধানে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের মেজ সন্তান হওয়ায় খুব কম বয়সেই বাবার সঙ্গেই উপার্জনের সন্ধানে নেমে পড়েন রফিক। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয় রফিককে। ভাই-বোনদের কেউই স্কুলের গণ্ডি পাড়ায়নি। এলাকাটি অতিমাত্রায় গ্রাম ও খাল-বিল থাকায় গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরেই প্রচুর পরিমাণ হাস-মুরগি পালন হতো। এক পর্যায়ে বনানী বাজারের এক ডিম পাইকারের পরামর্শ ও সহযোগিতায়  গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিম সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিক্রি শুরু করেন তিনি। এভাবে তিনি গ্রামের কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধাসহ সব বয়সী মানুষের কাছে আন্ডাওয়ালা রফিক নামে পরিচিত হয়ে যান। এদিকে রূপগঞ্জ ঢাকা খুব সন্নিকটে হওয়ায় একটি হাউজিং কোম্পানিকে জমি কিনে দিতে সহযোগিতা শুরু করেন। এরপর ডিমের ব্যবসা ছেড়ে বনানী বাজারেই একটি ফলের দোকান দেন। আস্তে আস্তে জমির দালালি থেকে হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর ভূমিদস্যু। রূপগঞ্জ এলাকায় গড়ে তোলেন সন্ত্রাসী বাহিনী যা বর্তমানে রফিক বাহিনী নামে পরিচিত। আন্ডাওয়ালা রফিক হয়ে যান কোটিপতি রফিক সাহেব! ভয়, হুঙ্কার আর অস্ত্রের মুখে এলাকার নিরীহ ও সাধারণ মানুষের জমি দখল করে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ব্যাপক। আর তার সন্ত্রাস ও প্রহসনের স্বীকার হয়ে জান-মাল ও ইজ্জত হারানোর ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না। তার গঠিত সন্ত্রাসী বাহিনীর (রফিক বাহিনী) কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৮ গ্রামের মানুষ।
সূত্র জানায়, রাতারাতি ধনি বনে যাওয়া আন্ডা রফিক রাজধানীতে কয়েকটি বাড়ি, গাড়ি ও বিদেশে মার্কেটসহ অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। নারায়ণগঞ্জের ভুলতার বরপা এলাকায় শুভ সিএনজি পাম্প, গাউছিয়ায় একটি ফুড ও বেভারেজ কারখানাসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিলাসবহুল একটি মার্কেটও রয়েছে। ঢাকার উত্তর বাড্ডার আলীর মোড় এলাকায় ১টি ৬তলা বাড়ি, উত্তর বাড্ডা হোসেন মার্কেট এলাকায় একটি বহুতলবিশিষ্ট ভবনে দুটি ফ্ল্যাট ৩টি ৬তলা বাড়ি, মধ্য বাড্ডা স্বাধীনতা সরণিতে দুটি বিলাসবহুল বাড়ি ৬তলা বাড়ি, উত্তর বাড্ডা উপশম হাসপাতালের পশ্চিম পাশে ১টি ৬তলা বাড়ি, বসুন্ধরায় কয়েকটি ফ্ল্যাট ও গুলশান শিকদার হাসপাতালের সামনে একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। এ বাড়িতে ৭ জন দারোয়ানসহ সার্বক্ষণিক ৪ জন গানম্যান থাকে আন্ডা রফিকের।
এম এ বাবর, রূপগঞ্জ থেকে ফিরে:
অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের উচ্চ বিলাসীকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের দিনমজুর আমানউল্লার ছেলে রফিক ওরফে আন্ডা রফিক। কয়েক বছর আগেও কায়েতপাড়া থেকে ডিম সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকার বনানী বাজারের ডিমের দোকানে বিক্রি করতেন। এ সময় তিনি গুলশান-বনানীর বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি দেখে এমন সম্পদের মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতেও সক্ষম হয়েছেন। 
তবে বৈধ উপায়ে নয়, অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকা, বিলাসবহুল গাড়ি ও বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন আন্ডা রফিক (৪৫)। আর এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের পাহাড় গড়তে গিয়ে রূপগঞ্জের অনেক নিরীহ সাধারণ কৃষক পরিবারকে পথে বসিয়েছেন তিনি! অনুসন্ধানে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের মেজ সন্তান হওয়ায় খুব কম বয়সেই বাবার সঙ্গেই উপার্জনের সন্ধানে নেমে পড়েন রফিক। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয় রফিককে। ভাই-বোনদের কেউই স্কুলের গণ্ডি পাড়ায়নি। এলাকাটি অতিমাত্রায় গ্রাম ও খাল-বিল থাকায় গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরেই প্রচুর পরিমাণ হাস-মুরগি পালন হতো। এক পর্যায়ে বনানী বাজারের এক ডিম পাইকারের পরামর্শ ও সহযোগিতায় গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিম সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিক্রি শুরু করেন তিনি। এভাবে তিনি গ্রামের কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধাসহ সব বয়সী মানুষের কাছে আন্ডাওয়ালা রফিক নামে পরিচিত হয়ে যান। এদিকে রূপগঞ্জ ঢাকা খুব সন্নিকটে হওয়ায় একটি হাউজিং কোম্পানিকে জমি কিনে দিতে সহযোগিতা শুরু করেন। এরপর ডিমের ব্যবসা ছেড়ে বনানী বাজারেই একটি ফলের দোকান দেন। আস্তে আস্তে জমির দালালি থেকে হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর ভূমিদস্যু। রূপগঞ্জ এলাকায় গড়ে তোলেন সন্ত্রাসী বাহিনী যা বর্তমানে রফিক বাহিনী নামে পরিচিত। আন্ডাওয়ালা রফিক হয়ে যান কোটিপতি রফিক সাহেব! ভয়, হুঙ্কার আর অস্ত্রের মুখে এলাকার নিরীহ ও সাধারণ মানুষের জমি দখল করে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ব্যাপক। আর তার সন্ত্রাস ও প্রহসনের স্বীকার হয়ে জান-মাল ও ইজ্জত হারানোর ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না। তার গঠিত সন্ত্রাসী বাহিনীর (রফিক বাহিনী) কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৮ গ্রামের মানুষ।
সূত্র জানায়, রাতারাতি ধনি বনে যাওয়া আন্ডা রফিক রাজধানীতে কয়েকটি বাড়ি, গাড়ি ও বিদেশে মার্কেটসহ অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। নারায়ণগঞ্জের ভুলতার বরপা এলাকায় শুভ সিএনজি পাম্প, গাউছিয়ায় একটি ফুড ও বেভারেজ কারখানাসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিলাসবহুল একটি মার্কেটও রয়েছে। ঢাকার উত্তর বাড্ডার আলীর মোড় এলাকায় ১টি ৬তলা বাড়ি, উত্তর বাড্ডা হোসেন মার্কেট এলাকায় একটি বহুতলবিশিষ্ট ভবনে দুটি ফ্ল্যাট ৩টি ৬তলা বাড়ি, মধ্য বাড্ডা স্বাধীনতা সরণিতে দুটি বিলাসবহুল বাড়ি ৬তলা বাড়ি, উত্তর বাড্ডা উপশম হাসপাতালের পশ্চিম পাশে ১টি ৬তলা বাড়ি, বসুন্ধরায় কয়েকটি ফ্ল্যাট ও গুলশান শিকদার হাসপাতালের সামনে একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। এ বাড়িতে ৭ জন দারোয়ানসহ সার্বক্ষণিক ৪ জন গানম্যান থাকে আন্ডা রফিকের।

No comments: