Saturday, May 18, 2013

মাত্র তিন মিলিমিটার বৃষ্টিতে রাজধানী সয়লাব!

এম এ বাবর:
মাত্র তিন মিলিমিটার (মিমি) বৃষ্টিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেশিরভাগ রাস্তায় পানি জমে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তা তলিয়ে যায় হাঁটু পানির নিচে। এতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বেড়ে যায় জনদুর্ভোগ। 


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের কারণে উপকূলের জেলাগুলোর মতো রাজধানীতেও থেমে থেমে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে তিন মিমি। আর দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৫ মিমি। ঘূর্ণিঝড়ের এই রেশের কারণে আজ শুক্রবারও রাজধানীতে এই ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শাহ আলম জানান।
এদিকে সকাল থেকে টানা বৃষ্টিপাতে প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজধানী। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে যায় বৃষ্টিপাতের পরিমান। আর বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণ না হওয়ায় ড্রেন ও স্যুয়ারেজ লাইন থেকে বেড়িয়ে আসা মলমুত্র যুক্ত দুর্গন্ধ পানি রাস্তায় জমা হয়ে থাকে।  দুপুর পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টিতে অলি গলিসহ ঢাকার প্রধান-প্রধান রাস্তাগুলোর বেশিরভাগই চলে যায় পানির নিচে। এতে দুর্ভোগে পড়েন স্কুল ও অফিসগামী মানুষেরা। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের স্কুলে নেয়া-আনায় অভিভাবকরা পড়েন মহাবিপাকে। অনেক শিক্ষাথীর স্কুলে যাবার পথে বইসহ ভিজে যায় পরিধেয় পোশাক। 
সরেজমিন দেখা যায়, বেলা আড়াইটার সময় ব্যাংক পাড়া মতিঝিলের বনশিল্প ভবন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আশপাশের রাস্তায় জমে আছে হাঁটু পানি। জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকেই ধানমন্ডির জিগাতলা থেকে হাজারিবাগ রাস্তায় রিক্সা, সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে, মিরপুরের সনি সিনেমা হল থেকে চিড়িয়াখানা রাস্তায়ও মাজার রোড এবং গাবতলীর বিভিন্ন স্থানেও পানি জমে থাকতে দেখা যায়। একই অবস্থা দেখা যায়, গুলশান, বারিধারা, মৌচাক, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মহাখালী, মগবাজার, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, ফকিরাপুল, কমলাপুর, কাকরাইল, মালিবাগ, শান্তিনগর, মৌচাক, সিদ্ধেশ্বরী, বেইলি রোড, মগবাজার, খিলগাঁও, মাদারটেক, বাসাবো, বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী, মেরাদিয়া, গোড়ান, খিলগাঁও, কাঁঠালবাগান, যাত্রাবাড়ী, কলাবাগান, পল্লবী, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরসহ বেশকিছু এলাকায়। জলাবদ্ধতার কারণে এসব রাস্তায় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও ট্যাক্সি ক্যাবের সাইলেন্সারে পানি ঢুকে যাওয়ায় বেশকিছু যানবাহনকে বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে বিকেল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। সকাল থেকে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর রাস্তায় যানবাহন ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কম। ফলে সিএনজি, ট্যাক্সি ক্যাব ও রিক্সা পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় লোকজনকে। পেলেও আরোহীদের ভাড়া গুনতে হয় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
আমিরুল ইসলাম নামের এক বাসযাত্রী বলেন, ‘বাসে গুলিস্থান থেকে মেরুল বাড্ডা যেতে সময় লাগে এক ঘণ্টা। কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) লেগেছে আড়াই ঘণ্টা।’ গাড়ি না পেয়ে মানির হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি মাতিঝিল থেকে রামপুরা যান হেঁটে হেঁটে। তিনি বলেন, ‘অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি পাইনি। মৌচাক ও মালিবাগে পানি জমে থাকায় রিক্সা কিংবা সিএনজি ওই দিকে যেতে চায়নি। তাই হাঁটা শুরু করলাম।’
রাজধানীজুড়ে এই জলাবদ্ধতার জন্য ঢাকা ওয়াসার দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন সাধারণ মানুষ। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ১৫ মিলিমিটার থেকে সর্বোচ্চ ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে সেই পানি এক ঘণ্টায় অপসারণ করা সম্ভব। কিন্তু রাজধানীর ৬৫টি খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিষ্কাশন লাইনে বালু, কংক্রিট ইত্যাদি জমে যাওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে যেতে পারছে না। এ জন্য তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন। নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ চলছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, কাজ শেষ হলে এ ধরনের সমস্যা থাকবে না।

http://manobkantha.com/2013/05/17/121337.html

No comments: