Monday, May 13, 2013

নগর পরিচ্ছন্নের নামে পরিবেশ দূষণ


এম এ বাবর 
মানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে না তোলা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পরিবহন চালক-হেলপারদের অসচেতনতার কারণে নগর পরিচ্ছন্নের নামে পরিবেশ দূষণ করছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি)। নিয়মানুযায়ী সংস্থাটি থেকে যেসব নাগরিক সুবিধা প্রদান করা হয় তার মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সংস্থাটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের চরম অবহেলার কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হচ্ছে নানা অনিয়ম। 

 নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালের ২৯ ডিসেম্বর ডিসিসিকে দু’ভাগ করতে স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন সংশোধন বিল-২০১১ সংসদে পাস হয়। পহেলা ডিসেম্বর’ ১১ থেকে বিভক্ত ডিসিসির ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) হিসেবে কাজ শুরু হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ওপরেই রাখা হয়েছে ডিসিসির বর্জ্য রাখার কন্টেইনার। এসব কন্টেইনার এমনভাবে রাখা হয়েছে যে, এর অধিকাংশ ময়লা দিনভর রাস্তার ওপর জমা থাকে।  ফলে এসব কন্টেইনারের পাশ থেকে দুর্গন্ধে হাঁটা-চলা যায় না। আবার কোনো কোনো কারণে এসব কন্টেইনারের পাশে ট্রাফিক জ্যামে যাত্রীবাহী পরিবহন আটকা পড়লে দুর্গন্ধে অনেকে বমি করে দেয়। আর এসব ময়লা-আবর্জনা বেশির ভাগ অপসারণ করা হয় সকাল থেকে দুপুর ভাগে। খোলা ট্রাকে এসব ময়লা পরিবহন করার সময় রাস্তায় ময়লা ও পচা দুর্গন্ধ পানি পড়ে ওইসব এলাকাও দুর্গন্ধময় হয়ে যায়।    
এদিকে  নগরীর বিভিন্ন কন্টেইনার থেকে সংগ্রহ করা এসব ময়লা-আবর্জনা মাঝেমধ্যে  বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ডিসিসির বক্স কালভার্ট ও সার্ফেজ ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কার করে সে ময়লাও দীর্ঘদিন রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। যার ফলে এসব জমানো ময়লার দুর্গন্ধে পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাস করা দায় হয়ে যায়। 
অন্যদিকে বর্জ্যবাহী ট্রাক থেকে পুরান ঢাকার বাদামতলী থেকে নবাবগঞ্জ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদীর তিন কিলোমিটার এলাকায় বর্জ্য ফেলার কারণে সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে সতর্ক করেছে পরিবেশ অধিদফতর। আর বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে গত ২৮ মার্চ ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে তলব করেন পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. আলমগীর। কিন্তু প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এনামুল হক অনুপস্থিত থাকায় তার স্থলে শুনানিতে অংশ নেন লালবাগ-নবাবগঞ্জ এলাকার (অঞ্চল-৩) বর্জ্য ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন। শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্যবাহী গাড়ি থেকে বর্জ্য বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলার কথা অস্বীকার করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, লালবাগ-নবাবগঞ্জ এলাকায় ডিসিসির যে কন্টেইনারগুলো ময়লা বা বর্জ্য রাখার জন্য স্থাপন করা হয়েছে, কিছু অসচেতন লোক সেখানে ময়লা না ফেলে নদীতে নিক্ষেপ করছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কুকুর ও ময়লা স্ক্যাভেঞ্জাররা (টোকাই) জমাকৃত ময়লা থেকে ধাতব পদার্থ খুঁজে বের করার জন্য তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে। বাতাস এবং বৃষ্টিতে এ ময়লা-আবর্জনা অনেক সময় নদীতে গিয়ে পড়তে পারে। এছাড়া এলাকার মানুষ, দোকানপাট অনেক বেড়ে যাওয়ায় এখানকার সৃষ্ট আবর্জনায় অতি তাড়াতাড়ি কন্টেইনার ভরে যায় বলে অনেকে তা নদীতে ফেলছেন বলে তিনি শুনানিতে স্বীকার করেন। শুনানি শেষে পরিবেশ অধিদফতর থেকে ডিএসসিসিকে মানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী, পরিবহন চালক-হেলপারদের সচেতনতা বাড়ানো নির্দেশ দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এনামুল হক এবং ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা বলেন, সংস্থার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রযুক্তিগত সংকটের পাশাপাশি জনবল সংকটও রয়েছে। ফলে বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক প্রচুর পরিচ্ছন্নকর্মী দিয়ে বর্জ্য অপসারণ করা হয়। আর এক্ষেত্রে এ ধরনের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।  
http://manobkantha.com/2013/05/13/120734.html

No comments: