আতঙ্কে রূপগঞ্জের নাওড়াবাসী!
এম এ বাবর/হানিফ মোল্লা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় রফিকুল ইসলাম ওরফে আণ্ডা রফিক বাহিনীর তাণ্ডবে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত শনিবার রফিক তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এলাকার নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করেছে। এতে চারজন নিরীহ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় রফিকুল ইসলাম ওরফে আণ্ডা রফিক বাহিনীর তাণ্ডবে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত শনিবার রফিক তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এলাকার নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করেছে। এতে চারজন নিরীহ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে নাওড়া গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন, রফিক সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে
নিরীহ মানুষের প্রতি গুলি চালিয়েছে, আবার তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ
দিয়ে মামলা দায়ের করেছে। আর এ মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রামের অনেক নিরীহ
পুরুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল পৌনে
১০টায় ভূমিদস্যু আণ্ডা রফিক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এলাকায় মহড়া দিতে গিয়ে
গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়েন।
তার পূর্ব অপকর্মের জের ধরে কয়েকশ’ এলাকাবাসী
তাকে ঘিরে ফেলে। নিরীহ কৃষকের জমি দখল করার পাঁয়তারা করছে এমন আশঙ্কা করে
এলাকাবাসী রফিকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় রফিক বাহিনীর সদস্যরা
অস্ত্র তাক করে গ্রামবাসীকে ধাওয়া করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাওড়া এলাকার কয়েক
হাজার নারী-পুরুষ রফিক বাহিনীকে পাল্টা ধাওয়া দেয়। রফিক বাহিনী ও
গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলার এক পর্যায়ে রফিক বাহিনীর লোকজন
আশিয়ান শীতলছায়া প্রকল্পে ঢুকে পড়ে। তারা শীতলছায়ায় নিয়োজিত আনসার বাহিনীর
সদস্য, গার্ড, কর্মচারী ও গ্রামবাসীর ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এ সময়
রানা, আমির হোসেন আমির হামজা ও ফারুক নামে চারজন গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়।
অন্যদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে আশিয়ান শীতলছায়ার আনসার সদস্যরা সক্রিয় হয়ে
ওঠে। সঙ্গে যোগ দেয় শত শত এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী রফিক ও
তার সহযোগীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে দুপুর ২টার দিকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে
আণ্ডা রফিককে প্রশাসন উদ্ধার করে।
এদিকে ওই ঘটনার কেন্দ্র করে গতকাল রোববার আণ্ডা রফিকের চাচা কফিলউদ্দিন বাদী হয়ে নাওড়ার বদিউজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, শাখাওয়াতুল্লাহ, আলী আজগর, নুর ইসলাম, ছলু, সাইফুল ইসলাম, রুবেল মিয়া, লিটন, রাসেল, দেলোয়ার হোসেন, আজিজুল্লা, নুরুল ইসলাম, রাজুসহ ১৮জন নাম উল্লেখ করে দেড় শতাধিক নিরীহ লোকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সৃজন করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে শনিবার রফিক বাহিনীর তাণ্ডব ও পরবর্তীতে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রূপগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে নাওড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে বেশকিছু পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুর রহমান বলেন, ‘শনিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কফিলউদ্দিন নামে একজন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। বিষয়টি তদন্তে থাকায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।’
নাওড়ার দরিদ্র পরিবার আমান উল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম। সাত-আট বছর আগেও রূপগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে ডিম সংগ্রহ করে রাজধানীর বনানী বাজারে বিক্রি করতেন তিনি। এরপর একই বাজারে কিছুদিন একটি ফলের দোকান দেন। ওখান থেকে একটি হাউজিং কোম্পানির জমির দালালি শুরু করেন তিনি। আর এখানে থেকে তার অন্যায়-অনিয়মের সূত্রপাত শুরু। খুব কম সময়ের মধ্যেই তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। স্থানীয় নিরীহ মানুষের জমি জাল-জালিয়াতি ও জোড়পূর্বক দখল করার অভিযোগে ভূমিদস্যু রফিকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে। রূপগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, রফিকের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় ৪০(৯) ২০০৯, ৪১ (৯) ২০০৯, ৫৬ (৮) ২০০৮, ২৭ (৪) ২০০৯, ০৮ (৪) ২০১২, ১৬ (৫) ২০১০ মামলাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
http://manobkantha.com/2013/05/13/120716.html

No comments:
Post a Comment