Saturday, May 11, 2013

রাখে আল্লাহ মারে কে


এম এ বাবর 
রাখে আল্লাহ মারে কে? এ চিরাচরিত প্রবাদ বাক্যটি আবারো বাস্তবে প্রমাণিত হলো। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাভার রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপে যে অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটল, তা চমকে দিয়েছে গোট বিশ্ববাসীকে। মৃত্যুপুরী থেকে ৪০৮ ঘণ্টা পর অক্ষত অবস্থায় গার্মেন্টস কর্মী রেশমা উদ্ধার হওয়া এক অভূতপূর্ব, অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক ঘটনায় ইতিহাস হয়ে থাকল বাংলাদেশ। 

এর আগে গত ২৪ এপ্রিল সাভার রানা প্লাজা ধসের পড়ার পাঁচ দিনের মাথায় শাহীনা নামের এক গার্মেন্টস কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা বিফল হয়েছিল। এরপর গত ১২ দিনে ধ্বংসস্তূপে আর কোনো জীবিত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে যখন কোনো প্রাণের স্পন্দনের আশা একবারে ছেড়ে দিয়েছিলেন ঠিক সে মুহূর্তেই মানুষের সব চিন্তা ও ধারণাকে পেছনে ফেলে
দিয়েছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জের মেয়ে রেশমা।

গতকাল (10.05.13) ছিল শুক্রবার। ধসে যাওয়া রানা প্লাজার উদ্ধার কাজের ১৭তম দিন অতিবাহিত হতে চলেছে। জুমার নামাজ শেষে অনেকেই দেখতে এসেছেন রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের সর্বশেষ পরিস্থিতি। উদ্বার কাজ চলছে, এ অবস্থায় উদ্ধারকর্মী সেনা সদস্য মোয়াজ্জেম ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে সহকর্মীদের শুনালেন নিচতলায় একজন নারী জীবিত আছেন। তার কথা শুনে সহকর্মীদের অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি। এরপর আরো দু’জন উদ্ধার কর্মী ভেতরে প্রবেশ করে নিশ্চিত হলেন সত্যিই এখনো প্রাণের স্পন্দন রয়েছে! মুহূর্তের মধ্যেই উপস্থিত সবার মুখে উচ্চৈঃস্বরে বেরিয়ে আসতে থাকল নারায়ে তকবির, আল্লাহু আকবার ধ্বনি। উপস্থিত সবাই দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে জীবিত নারীকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করতে থাকেন। চঞ্চল হয়ে ওঠে উদ্ধার কর্মীদের হাত। উদ্ধার কাজে ভারী যন্ত্র ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া হয়। হস্তচালিত যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ থেকে রেশমাকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনার চেষ্টা শুরু হয়। মেজর দেলোয়ার ও কর্নেল মইনের নেতৃত্বে চলে রেশমাকে উদ্ধার কাজ। এ সময় ওই উদ্ধার কাজে অংশ নেন ফায়ার ব্রিগেডসহ কয়েকজন সেনা সদস্য। প্রায় ৪৫ মিনিট উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। নিচতলার নামাজের কক্ষে তিনি অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার ৪টার ২৫ মিনিটে তাকে উদ্ধার করা হয়। অলৌকিকভাবে বেঁচে রেশমা জানান, তিনি রানা প্লাজার নিউ ওয়েভ বটম কারখানায় অপারেটর পদে কাজ করতেন। ভবন ধসের সময় তিনি দৌড়ে নিচে নামতে থাকেন। নিচে নামাজের কক্ষে প্রবেশ করার পরই চারদিকে অন্ধকার হয়ে যায়। তখন তিনি আল্লাহকে স্মরণ করেন। ১৭টি দিন মেশিনে দেয়াল কাটার শব্দ ও বাইরের মানুষের ডাক-চিৎকার শুনতে পান। কিন্তু তার চিৎকার কেউ শুনে না। পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য সঙ্গে থাকা শুকনো এক খণ্ড রুটি খেয়েছেন। এরপর নিচ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া শুকনো খাবার ও মাটি খেয়েছেন। মেঝেতে জমে থাকা পানি পান করে জীবন বাঁচিয়ে রেখেছেন রেশমা। এভাবে মৃত্যুপুরীতে জীবন বাঁচাতে ৪০৮ ঘণ্টা ধরে যুদ্ধ করেছেন। অবশেষে উদ্ধার কর্মীদের জোর প্রচেষ্টায় 
বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে তাকে উদ্ধার করা হয়।
http://manobkantha.com/2013/05/11/120402.html
http://www.emanobkantha.com/2013/05/11/

No comments: