ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ৪৮০ কোটি টাকার পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পে (কেইস প্রোজেক্ট) ধারাবাহিক অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে। ২০১৪ সালের জুন মাসের মধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি।
কেইস প্রোজেক্টের আওতায় একসঙ্গে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়ে থাকে। এতে নাগরিক সুবিধা সংশ্লিষ্ট রাস্তাঘাট, ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ ও স্বাস্থ্য সেবাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করা হয়। আর এসব উন্নয়ন কাজ হয় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার অর্থায়নে। অভিযোগ রয়েছে, কেইস প্রোজেক্টের আওতায় পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগ পরিচালিত হচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তত্ত্বাবধানে। ফলে এসব প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র কিছু কাজ করে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেয়া হচ্ছে।
কয়েকটি কেইস প্রোজেক্ট বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন অতীতে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সেহাব উল্লাহ। বিশ্বব্যাংকের এক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর এলাকার সড়ক ও ফুটপাত নির্মাণ কাজের প্রকল্পের শুরুতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সেহাব উল্লাহ ওই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। বরং তাকে আরো কয়েকটি কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়া দুদকের দায়ের করা দুটি মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামি তিনি। ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, অযোগ্যতা অদক্ষতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরো দুটি বিভাগীয় মামলা রয়েছে। দিলকুশা বহুতল বিশিষ্ট কার পার্কিং কাম বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে বিধিবহির্ভূতভাবে কার্যক্রম গ্রহণ, অনুমোদন ছাড়াই চুক্তি সম্পাদন এবং ডিসিসির পাঁচ শতাংশ আর্থিক ক্ষতির দায়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও রয়েছে। সর্বশেষ বনানীতে একটি চলন্ত সিঁড়ির ওভারব্রিজ স্থাপনের প্রকল্প পরিচালক করা হয়েছে তাকে। এ নিয়ে ওই প্রকল্পেও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির আশঙ্কা রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, খিলগাঁও এলাকায় ২৫ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ (প্যাকেজ নং ডব্লিউ-থ্রি) প্রকল্পের ৪৫ কোটি টাকা, মোহাম্মদপুর এলাকায় (প্যাকেজ নং ডব্লিউ-টু) ২৬ কোটি টাকা ও নগরীতে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় রিকশা লেন (প্যাকেজ নং ডব্লিউ-ফাইভ) নির্মাণ নিয়েও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তা ও ফুটপাত উন্নয়ন কাজ শুরু না করেই কাজ চলছে বলে প্রতিবেদন দেয়া হয়। আর কিছু অস্থায়ী পিলার দিয়ে রিকশা লেন করে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া একই পিলার বিভিন্ন স্থানে বসিয়ে বিল উঠানোর অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক পাড়া পাড়ে ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পগুলোয় দুর্নীতি অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, রাজধানীর ট্রাফিক সিগনাল উন্নয়নে ১৮ কোটি টাকার টেন্ডারে জালিয়াতি হয়েছে। এ কাজে বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোনো ঠিকাদার টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে প্রতিটি টেন্ডার সিডিউল প্রকল্প পরিচালক সেহাব উল্লাহর যোগসাজশে অধিক দরে কাজ ভাগাভাগি হয়েছে।
সব নিয়ম নীতি মেনেই কেইস প্রোজেক্টের কাজগুলো চলছে উল্লেখ করে প্রকৌশলী সেহাব উল্লাহ বলেন, ‘একটি মহল আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর দুদক যে মামলা দিয়েছে তা আইনিভাবে মোকাবিলা করব। তবে আমি কোনো অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।’
http://manobkantha.com/2013/07/19/130736.html
http://www.emanobkantha.com/2013/07/19/
No comments:
Post a Comment