এম এ বাবর:
পবিত্র রমজান মাসেও সর্বত্র ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্যের অনাচারে অতিষ্ঠ মানুষ। ভেজাল প্রতিরোধে সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো খাদ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয় নিশ্চিত করতে না পারায় দিন দিন ভেজালের প্রবণতা বাড়ছে। এদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রণ বন্ধ করার ব্যাপারে সরকার উদাসীন। নামমাত্র প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি দিয়ে চলছে ভেজালবিরোধী অভিযান। ফলে ভেজালের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না দেশবাসী। অন্যদিক ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে জনবল ও প্রযুক্তি সংকটের কারণে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরালো করা যাচ্ছে না।
বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে দুধ, মাছ ও কাঁচা মরিচসহ মৌসুমি ফল তাজা রাখতে দেয়া হচ্ছে ফরমালিন। আর ফল পাকাতে ব্যবহার হচ্ছে কার্বাইড। পোড়া মোবাইল রিফাইন করে ভাজা হচ্ছে জিলাপি। পিঁয়াজু, বেগুনিসহ অন্যান্য ভোজ্য ইফতার সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে সয়াবিনের নামে হোয়াইট অয়েল (খনিজ তেল), বিনো (এক ধনের কৃত্রিম তেল) ও নিুমানের পাম তেল। মনোহাইড্রেড নামে এক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে বিক্রি হচ্ছে কয়েক দিনের অবিক্রীত কাবাব। আর মাছ সংরক্ষণের বরফ দিয়েই তৈরি হচ্ছে রোজাদারের তৃষ্ণা মেটানোর মজাদার ফালুদা। এভাবে রেস্তোরাঁর তৈরি ইফতারসামগ্রীতে ভেজাল আর অনাচারের উদাহরণ আছে আরো অনেক। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নাকের ডগায় বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, হোটেলে ও ফলের দোকানে দেদার বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ও নিুমানের খাদ্য সামগ্রী। ভেজাল খাদ্য বিক্রির অভিযোগে বিএসটিআইর ভ্রাম্যমাণ আদালত সোমবার মতিঝিল দিল্লি মুসলিম হোটেল, হযরত চন্দ্রপুরী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ও ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে।
আর নিুমানের বিস্কিট, কেক ও দই তৈরির অপরাধে আরামবাগের কোয়ালিটি ফুডস নামের প্রতিষ্ঠানকে আদালত এক লাখ টাকা জরিমানা করে। এছাড়া মতিঝিল, গুলিস্তান ও সদরঘাটসহ কয়েকটি এলাকায় ফলের দোকানে অভিযান চালিয়ে ফরমালিন ও কার্বাইড যুক্তফল বিক্রির দায়ে ওই ফল নষ্ট করা হয় এবং বিক্রেতাদের জরিমানা করে। ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে এগুলো আসছে না। অথচ ডিএসসিসির নিজস্ব বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত ও পরীক্ষাগারসহ রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা টিম। এছাড়া ভেজাল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রতিবছর বাজেটে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বছর শেষে এ বরাদ্দের টাকা ব্যয় দেখানো হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।
খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে ডিসিসি বরাবরই ব্যর্থ আর বিএসটিআই চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে উল্লেখ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, ভেজাল প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য সর্বপ্রথম প্রচলিত আইনের পরিবর্তন করে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। আর ফরমালিন ও কার্বাইড আমদানি ও বিপণনে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
বিএসটিআইর পরিচালক খাদেমুল ইসলাম বলেন, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আঞ্চলিক পর্যায়ে ৬টি মেট্রোলজি ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে পরিমাপের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য একটি মোবাইল ল্যাবরেটরি স্থাপনও প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া ভেজাল প্রতিরোধে বিএসটিআইর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দেশব্যাপী অব্যাহত রয়েছে। তবে ভেজাল প্রতিরোধে বিএসটিআইর জনবল ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি খাদ্যে ভেজালের অপরাধের শাস্তি ও জরিমানার বিধান আরো কঠোর করতে হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, খাদ্যে ভেজাল শনাক্তে প্রযুক্তিগত সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে জনবল সংকট। আর ফরমালিন শনাক্তের যন্ত্র থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া কার্বাইড শনাক্তের কোনো যন্ত্র নেই ডিএসসিসিতে। তাই প্রযুক্তি ও জনবল সংকটের কারণে ভেজালের বিরুদ্ধে জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। তবুও এ সীমিত প্রযুক্তি ও জনবল দিয়ে রমজানে এ পর্যন্ত ৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। পুরো রমজান মাস প্রতিদিন এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ কামাল হোসেন বলেন, ফরমালিন শনাক্তের যন্ত্র থাকলেও কার্বাইড শনাক্তের কোনো যন্ত্র নেই সংস্থার। এছাড়া ডিএনসিসির নিজস্ব পরীক্ষাগার না থাকার পাশাপাশি রয়েছে জনবল সংকট। সীমিত জনবল দিয়েও রমজানে এ পর্যন্ত ৮টি ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও জনবল বৃদ্ধি ছাড়া ভেজালবিরোধী অভিযান জোরালো করা সম্ভব নয়।
http://manobkantha.com/2013/07/24/131518.html
পবিত্র রমজান মাসেও সর্বত্র ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্যের অনাচারে অতিষ্ঠ মানুষ। ভেজাল প্রতিরোধে সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো খাদ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয় নিশ্চিত করতে না পারায় দিন দিন ভেজালের প্রবণতা বাড়ছে। এদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রণ বন্ধ করার ব্যাপারে সরকার উদাসীন। নামমাত্র প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি দিয়ে চলছে ভেজালবিরোধী অভিযান। ফলে ভেজালের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না দেশবাসী। অন্যদিক ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে জনবল ও প্রযুক্তি সংকটের কারণে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরালো করা যাচ্ছে না।
বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে দুধ, মাছ ও কাঁচা মরিচসহ মৌসুমি ফল তাজা রাখতে দেয়া হচ্ছে ফরমালিন। আর ফল পাকাতে ব্যবহার হচ্ছে কার্বাইড। পোড়া মোবাইল রিফাইন করে ভাজা হচ্ছে জিলাপি। পিঁয়াজু, বেগুনিসহ অন্যান্য ভোজ্য ইফতার সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে সয়াবিনের নামে হোয়াইট অয়েল (খনিজ তেল), বিনো (এক ধনের কৃত্রিম তেল) ও নিুমানের পাম তেল। মনোহাইড্রেড নামে এক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে বিক্রি হচ্ছে কয়েক দিনের অবিক্রীত কাবাব। আর মাছ সংরক্ষণের বরফ দিয়েই তৈরি হচ্ছে রোজাদারের তৃষ্ণা মেটানোর মজাদার ফালুদা। এভাবে রেস্তোরাঁর তৈরি ইফতারসামগ্রীতে ভেজাল আর অনাচারের উদাহরণ আছে আরো অনেক। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নাকের ডগায় বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, হোটেলে ও ফলের দোকানে দেদার বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ও নিুমানের খাদ্য সামগ্রী। ভেজাল খাদ্য বিক্রির অভিযোগে বিএসটিআইর ভ্রাম্যমাণ আদালত সোমবার মতিঝিল দিল্লি মুসলিম হোটেল, হযরত চন্দ্রপুরী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ও ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে।
আর নিুমানের বিস্কিট, কেক ও দই তৈরির অপরাধে আরামবাগের কোয়ালিটি ফুডস নামের প্রতিষ্ঠানকে আদালত এক লাখ টাকা জরিমানা করে। এছাড়া মতিঝিল, গুলিস্তান ও সদরঘাটসহ কয়েকটি এলাকায় ফলের দোকানে অভিযান চালিয়ে ফরমালিন ও কার্বাইড যুক্তফল বিক্রির দায়ে ওই ফল নষ্ট করা হয় এবং বিক্রেতাদের জরিমানা করে। ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে এগুলো আসছে না। অথচ ডিএসসিসির নিজস্ব বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত ও পরীক্ষাগারসহ রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা টিম। এছাড়া ভেজাল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রতিবছর বাজেটে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বছর শেষে এ বরাদ্দের টাকা ব্যয় দেখানো হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।
খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে ডিসিসি বরাবরই ব্যর্থ আর বিএসটিআই চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে উল্লেখ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, ভেজাল প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য সর্বপ্রথম প্রচলিত আইনের পরিবর্তন করে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। আর ফরমালিন ও কার্বাইড আমদানি ও বিপণনে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
বিএসটিআইর পরিচালক খাদেমুল ইসলাম বলেন, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আঞ্চলিক পর্যায়ে ৬টি মেট্রোলজি ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে পরিমাপের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য একটি মোবাইল ল্যাবরেটরি স্থাপনও প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া ভেজাল প্রতিরোধে বিএসটিআইর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দেশব্যাপী অব্যাহত রয়েছে। তবে ভেজাল প্রতিরোধে বিএসটিআইর জনবল ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি খাদ্যে ভেজালের অপরাধের শাস্তি ও জরিমানার বিধান আরো কঠোর করতে হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, খাদ্যে ভেজাল শনাক্তে প্রযুক্তিগত সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে জনবল সংকট। আর ফরমালিন শনাক্তের যন্ত্র থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া কার্বাইড শনাক্তের কোনো যন্ত্র নেই ডিএসসিসিতে। তাই প্রযুক্তি ও জনবল সংকটের কারণে ভেজালের বিরুদ্ধে জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। তবুও এ সীমিত প্রযুক্তি ও জনবল দিয়ে রমজানে এ পর্যন্ত ৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। পুরো রমজান মাস প্রতিদিন এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ কামাল হোসেন বলেন, ফরমালিন শনাক্তের যন্ত্র থাকলেও কার্বাইড শনাক্তের কোনো যন্ত্র নেই সংস্থার। এছাড়া ডিএনসিসির নিজস্ব পরীক্ষাগার না থাকার পাশাপাশি রয়েছে জনবল সংকট। সীমিত জনবল দিয়েও রমজানে এ পর্যন্ত ৮টি ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও জনবল বৃদ্ধি ছাড়া ভেজালবিরোধী অভিযান জোরালো করা সম্ভব নয়।
http://manobkantha.com/2013/07/24/131518.html

No comments:
Post a Comment