খুচরা বিদ্যুতের দাম ১৫% বেড়েছে
|
||||
|
||||
বর্ধিত এই মূল্যহার ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন জানিয়েছেন।
এর অর্থ হচ্ছে, আগামী মাসে বিদ্যুতের বিল নতুন হারেই পরিশোধ করতে হবে।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্ল্যাব তিনটিকে ভেঙে ছয়টি করা হয়েছে। তবে প্রথম স্ল্যাবের পরবর্তী প্রতিটি স্ল্যাবের গ্রাহকরা পূর্ববর্তী স্ল্যাবের বিল সুবিধা পাবেন।
সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম প্রতি ইউনিটে যথাক্রমে গড়ে ২৮ পয়সা এবং ৩০ পয়সা করে বাড়ানো হয়। গত ১ মার্চ থেকে এই দাম কার্যকর হয়।
ইউসুফ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ছয় টাকা তিন পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমরা তা প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়ে চার টাকা দুই পয়সা থেকে চার টাকা ৭০ পয়সা করেছি।”
পাইকারিতে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধির পরও চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৩ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা র্ভর্তুকি লাগবে বলে জানান বিইআরসি চেয়ারম্যান।
বিইআরসির হিসাবে, ভর্তুকি ছাড়া প্রতি কিলোওয়াট পাইকারি বিদ্যুতের দাম পড়ে ৬ টাকা ৮৭ পয়সা।
ছয়টি স্ল্যাব বিন্যাস করে পল্লী বিদ্যুৎ ও অন্যান্য গ্রাহকদের জন্য ভিন্ন ধরনের দাম বাড়ানো হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের জন্য ছয়টি স্ল্যাবে বিদ্যুতের মূল্যহার হল- শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত (প্রতি ইউনিট তিন টাকা ৬৬ পয়সা), ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত (চার টাকা ৩৭ পয়সা), ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত (চার টাকা ৫১ পয়সা), ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত (সাত টাকা ১০ পয়সা), ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত (সাত টাকা ৪০ পয়সা) এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি পর্যন্ত (নয় টাকা ৩৮ পয়সা)।
অন্যান্য বিতরণকারী সংস্থার গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের মূল্যহার হলো- শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত (তিন টাকা ৩৩ পয়সা), ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত (চার টাকা ৭৩ পয়সা), ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত (চার টাকা ৮৩ পয়সা), ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত (চার টাকা ৯৩ পয়সা), ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত (সাত টাকা ৯৮ পয়সা) এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি পর্যন্ত (নয় টাকা ৩৮ পয়সা)।
কৃষিতে ব্যবহারের জন্য পল্লী বিদ্যুতে ১১ শতাংশ বেড়ে তিন টাকা ৭৬ পয়সা এবং অন্যান্য বিতরণকারী সংস্থার গ্রাহকদের জন্য ১১ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়ে দুই টাকা ৫১ পয়সা হয়েছে।
শিল্পে ব্যবহৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে ইউসুফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের কথা বাদই দিলাম। আমাদের পাশের পশ্চিমবঙ্গেও বিদ্যুতের দাম আমাদের চেয়ে বেশি।”
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছয়দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পর গত জুন মাসে আবার দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
ওই প্রস্তাবে পাইকারি দাম ৫০ শতাংশ এবং খুচরা দাম কোম্পানি ভেদে ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। এ প্রস্তাবের ওপর ১৬ জুলাই বিইআরসিতে গণশুনানি হয়।
এরপর গত ২৬ জুলাই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য সংবাদ সম্মেলন ডেকেও পরে তা বাতিল করেছিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/আরবি/এমআই/১৮৩৫ ঘ.
No comments:
Post a Comment