এম এ বাবর:
ভাঙা সড়ক ও ড্রেন মেরামতের নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) একটি জালিয়াতচক্র ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে ডিএসসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রধান প্রকৌশলী, অঞ্চল-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) পরস্পর যোগসাজশে দুটি জাতীয় পত্রিকার ভেতরের পাতা স্ক্যান করে নিজেদের কম্পোজ করা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি বসিয়ে হুবহু নকল পত্রিকায় ছেপে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
ভাঙা সড়ক ও ড্রেন মেরামতের নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) একটি জালিয়াতচক্র ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে ডিএসসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রধান প্রকৌশলী, অঞ্চল-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) পরস্পর যোগসাজশে দুটি জাতীয় পত্রিকার ভেতরের পাতা স্ক্যান করে নিজেদের কম্পোজ করা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি বসিয়ে হুবহু নকল পত্রিকায় ছেপে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
অনুসন্ধানে
জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে ডিএসসিসির ওয়ার্ড-৪ এর মাদারটেক ও
বাসাবো, ওয়ার্ড-৫, ৬ এর কদমতলা ও রাজারবাগ এবং ওয়ার্ড-৮, ৯ এর মতিঝিল,
কমলাপুর এলাকার ভাঙা সড়ক ও অকেজো ড্রেন মেরামতের জন্য তিনটি প্যাকেজে খোলা
টেন্ডার আহ্বানের সিদ্ধান্ত হয়। ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়নে উল্লিখিত কাজের
টেন্ডার প্যাকেজের নাম-৪৬.২০৭.০১৬.২৪.০২.০০১.২০১২/ ২৩ অক্টোবর ২০১২। আর
দুটি বহুল প্রচারিত জাতীয় সংবাদপত্রে ১৮ নভেম্বরের ’১২ মধ্যে বিজ্ঞাপন
প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। খবরের কাগজে প্রকাশের জন্য বাংলা ও ইংরেজিতে দরপত্র
আহ্বানের জন্য কম্পিউটার টাইপ ও ডিজাইন করে একটি দরপত্র বিজ্ঞাপনও তৈরি
করা হয়। এ কাজের তত্ত্বাবধান করেন ডিএসসিসির অঞ্চল-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী
কাজী বোরহান উদ্দিন। কিন্তু জালিয়াতচক্র সংবাদপত্রে কোনো বিজ্ঞাপন দেয়নি।
একজন এমপির অপতৎপরতায় ডিএসসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানুল
ইসলাম চৌধুরীসহ প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, অঞ্চল-২ এর নির্বাহী
প্রকৌশলী কাজী বোরহান ও সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় পরস্পর
যোগসাজশে নিজেদের ছাপানো পত্রিকার কপি জমা দিয়ে তাদের সহযোগী ঠিকাদার
প্রতিষ্ঠানের শামীম ব্রাদার্স এবং আশ্রাফ এন্টারপ্রাইজের নামে কাজ নিয়েছেন।
সংস্থার টেন্ডার ফাইলে পত্রিকায় প্রকাশিত যে বিজ্ঞাপন কপি জমা দেয়া হয়েছে তা হলো দি নিউ নেশন ২৪ অক্টোবর এবং দৈনিক ভোরের কাগজ ২৫ অক্টোবর। অভিযোগ রয়েছে এ দুটি পত্রিকার বিজ্ঞাপন ম্যানেজারের সঙ্গে যোগসাজশে পত্রিকা দুটির নামে বিজ্ঞাপন প্রকাশের বিল বাবদ চেক প্রদান করে ডিএসসিসি। আর বিজ্ঞাপন বিলের টাকা পত্রিকার বিজ্ঞাপন ম্যানেজার ও ডিএসসিসির পিআরও এর মধ্যে অর্ধেক-অর্ধেক ভাগের মাধ্যমে ওই টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়েছে এ মর্মে সনদ সংগ্রহ করে টেন্ডার ফাইলে জমা দেয়া হয়। বিজ্ঞাপন বিল বাবদ একই কাগজে ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৮৪ টাকার যে চেক প্রদান করা হয়েছে তার চেক নম্বর- ৬৩৮৯৩২৬ এবং অন্য পত্রিকাকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭৬ টাকা প্রদান করা হয়েছে তার চেক নম্বর ৬৩৯১১৭৪। দুটি চেকই সোনালী ব্যাংক নগর ভবন শাখার।
ভুয়া টেন্ডার প্রক্রিয়া
২৪ অক্টোবর ’১২ তারিখে প্রকাশিত পত্রিকাটি বাজার থেকে কিনে পত্রিকার ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ পাতা স্ক্যান করে কম্পিউটারের মাধ্যমে এর ভেতরে অন্য বিজ্ঞাপন ফেলে দিয়ে ডিএসসিসির নিজস্ব কম্পোজ করা বিজ্ঞাপন বসিয়ে ৫০ কপি ছাপানো হয়েছে। একইভাবে অন্য পত্রিকাটির ২৫ অক্টোবর ’১২ তারিখে পত্রিকার ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ পাতার ৫০ কপি ছাপানো হয়েছে। ওই দিনের পত্রিকার হুবহু কাগজ মিলিয়ে আরামবাগের একটি প্রেস থেকে উল্লিখিত পাতা ছাপানো হয়। এরপর বাজার থেকে ওই দিনের পত্রিকা সংগ্রহ করে ভেতরের উল্লিখিত পাতা ফেলে দিয়ে তাদের ছাপা কাগজ সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পত্রিকা সরবরাহ ও ফাইলে সংযুক্ত করা হয়। এদিকে টেন্ডার বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)’ এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তাদের ওয়েব সাইটে ওই বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয় টেন্ডার প্রক্রিয়ার শেষ দিন ২৭ নভেম্বর ’১২ তারিখে।
এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম এবং টেন্ডার আহ্বানকারী নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিন কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। কোনো কিছু জানার থাকলে জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তারা। নিয়ম মেনেই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে উল্লেখ করে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘ভাই আমি ছোট চাকরি করি। আমার হাত-পা বাঁধা। উপরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ ছাড়া, আমার একচুল আগানোর কায়দা নেই। এদিকে গেলেও চাকরি থাকে না ওদিকে গেলেও চাকরি থাকে না। কি করব?’ ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া কোনো অনিয়ম হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, টেন্ডার কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়া কমিটির সদস্য ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী এবং একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। তারাই সব কিছু যাচাই-বাছাই করে এ কাজটি দিয়েছেন।
ওই টেন্ডার কমিটির সভাপতি ডিএসসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানুল ইসলাম চৌধুরী বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত রয়েছেন। তার তদারকিতে এ ধরনের অনিয়ম কিভাবে হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যিনি টেন্ডার আহ্বান করেন, যিনি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার কথা ডিডি হোক বা এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হোক, তিনি সার্টিফিকেট দেবেন যে এটি পত্রিকায় দিয়েছি বা আমি দেখেছি এবং এটি যথাযথ প্রকাশ হয়েছে। আর একটা হচ্ছে অরিজিনাল পত্রিকার এক কপিসহ পিআরও একটি সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এখন কথা হচ্ছে যে, কেউ ইচ্ছে করে দুষ্টুমি করে একটা কপি ছাপাল। এটা ভ্যারিফাই করার দায়িত্ব চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও কনসার্ন এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার এবং পিআরওর। তারা এটা সার্টিফাই করবেন যে এটা যাচাই করে দেখেছি। পত্রিকায় এটি গেছে কিনা ওটা সুলতানুল ইসলাম যাচাই করবে না। আর কোথাও করে না। পত্রিকায় গেছে কিনা ওটা পিআরও দেখবে আর দরপত্র আহ্বান করেছে যে সে দেখবে। পিআরও যখন এটাকে সত্যায়িত করে আমাকে দিয়েছে আমি কি এটাকে না বলব? মিথ্যা বলব এটা? তাদের সনদের ভিত্তিতেই আমি অনুমোদন দিয়েছি। তাই এখানে কোনো কিছু হয়ে থাকলে তার জন্য পিআরও এবং নির্বাহী প্রকৌশলী দায়ী।’
সংস্থার টেন্ডার ফাইলে পত্রিকায় প্রকাশিত যে বিজ্ঞাপন কপি জমা দেয়া হয়েছে তা হলো দি নিউ নেশন ২৪ অক্টোবর এবং দৈনিক ভোরের কাগজ ২৫ অক্টোবর। অভিযোগ রয়েছে এ দুটি পত্রিকার বিজ্ঞাপন ম্যানেজারের সঙ্গে যোগসাজশে পত্রিকা দুটির নামে বিজ্ঞাপন প্রকাশের বিল বাবদ চেক প্রদান করে ডিএসসিসি। আর বিজ্ঞাপন বিলের টাকা পত্রিকার বিজ্ঞাপন ম্যানেজার ও ডিএসসিসির পিআরও এর মধ্যে অর্ধেক-অর্ধেক ভাগের মাধ্যমে ওই টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়েছে এ মর্মে সনদ সংগ্রহ করে টেন্ডার ফাইলে জমা দেয়া হয়। বিজ্ঞাপন বিল বাবদ একই কাগজে ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৮৪ টাকার যে চেক প্রদান করা হয়েছে তার চেক নম্বর- ৬৩৮৯৩২৬ এবং অন্য পত্রিকাকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭৬ টাকা প্রদান করা হয়েছে তার চেক নম্বর ৬৩৯১১৭৪। দুটি চেকই সোনালী ব্যাংক নগর ভবন শাখার।
ভুয়া টেন্ডার প্রক্রিয়া
২৪ অক্টোবর ’১২ তারিখে প্রকাশিত পত্রিকাটি বাজার থেকে কিনে পত্রিকার ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ পাতা স্ক্যান করে কম্পিউটারের মাধ্যমে এর ভেতরে অন্য বিজ্ঞাপন ফেলে দিয়ে ডিএসসিসির নিজস্ব কম্পোজ করা বিজ্ঞাপন বসিয়ে ৫০ কপি ছাপানো হয়েছে। একইভাবে অন্য পত্রিকাটির ২৫ অক্টোবর ’১২ তারিখে পত্রিকার ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ পাতার ৫০ কপি ছাপানো হয়েছে। ওই দিনের পত্রিকার হুবহু কাগজ মিলিয়ে আরামবাগের একটি প্রেস থেকে উল্লিখিত পাতা ছাপানো হয়। এরপর বাজার থেকে ওই দিনের পত্রিকা সংগ্রহ করে ভেতরের উল্লিখিত পাতা ফেলে দিয়ে তাদের ছাপা কাগজ সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পত্রিকা সরবরাহ ও ফাইলে সংযুক্ত করা হয়। এদিকে টেন্ডার বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)’ এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তাদের ওয়েব সাইটে ওই বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয় টেন্ডার প্রক্রিয়ার শেষ দিন ২৭ নভেম্বর ’১২ তারিখে।
এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম এবং টেন্ডার আহ্বানকারী নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিন কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। কোনো কিছু জানার থাকলে জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তারা। নিয়ম মেনেই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে উল্লেখ করে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘ভাই আমি ছোট চাকরি করি। আমার হাত-পা বাঁধা। উপরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ ছাড়া, আমার একচুল আগানোর কায়দা নেই। এদিকে গেলেও চাকরি থাকে না ওদিকে গেলেও চাকরি থাকে না। কি করব?’ ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া কোনো অনিয়ম হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, টেন্ডার কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়া কমিটির সদস্য ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী এবং একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। তারাই সব কিছু যাচাই-বাছাই করে এ কাজটি দিয়েছেন।
ওই টেন্ডার কমিটির সভাপতি ডিএসসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানুল ইসলাম চৌধুরী বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত রয়েছেন। তার তদারকিতে এ ধরনের অনিয়ম কিভাবে হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যিনি টেন্ডার আহ্বান করেন, যিনি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার কথা ডিডি হোক বা এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হোক, তিনি সার্টিফিকেট দেবেন যে এটি পত্রিকায় দিয়েছি বা আমি দেখেছি এবং এটি যথাযথ প্রকাশ হয়েছে। আর একটা হচ্ছে অরিজিনাল পত্রিকার এক কপিসহ পিআরও একটি সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এখন কথা হচ্ছে যে, কেউ ইচ্ছে করে দুষ্টুমি করে একটা কপি ছাপাল। এটা ভ্যারিফাই করার দায়িত্ব চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও কনসার্ন এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার এবং পিআরওর। তারা এটা সার্টিফাই করবেন যে এটা যাচাই করে দেখেছি। পত্রিকায় এটি গেছে কিনা ওটা সুলতানুল ইসলাম যাচাই করবে না। আর কোথাও করে না। পত্রিকায় গেছে কিনা ওটা পিআরও দেখবে আর দরপত্র আহ্বান করেছে যে সে দেখবে। পিআরও যখন এটাকে সত্যায়িত করে আমাকে দিয়েছে আমি কি এটাকে না বলব? মিথ্যা বলব এটা? তাদের সনদের ভিত্তিতেই আমি অনুমোদন দিয়েছি। তাই এখানে কোনো কিছু হয়ে থাকলে তার জন্য পিআরও এবং নির্বাহী প্রকৌশলী দায়ী।’
http://manobkantha.com/2013/04/13/116548.html

No comments:
Post a Comment