Saturday, November 23, 2013

গুঁড়া হলুদ বিক্রি নিষিদ্ধের পর প্রাণের মসলা ক্রয়ে ধন্দে ক্রেতারা

এম এ বাবর 
বিষাক্ত গুঁড়া হলুদ বিপণন করে বিপাকে পড়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। সম্প্রতি বাজার
থেকে সংগ্রহ করা প্রাণের গুঁড়া হলুদ পরীক্ষা করে দেশে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্টান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) ৪০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) থেকে ৫৮ পিপিএম মাত্রায় সিসা পায়, যা মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পরে গত সপ্তাহে প্রাণের প্যাকেটজাত গুঁড়া হলুদের লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসটিআই। এ লাইসেন্সে আর প্যাকেটজাত গুঁড়া হলুদ বিপণন করতে পারবে না প্রাণ।
Photo: http://manobkantha.com/2013/11/21/147817.html
 
এদিকে প্রাণের প্যাকেটজাত গুঁড়া হলুদে সিসা পাওয়ার পর থেকে দেশের বাজারগুলোতে প্রাণের পণ্য কিনতে ধন্দে পড়েছেন ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের  সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বাজার থেকে প্রাণ হলুদ সরিয়ে নিলেও, বিশেষ করে রান্নার কাজে ব্যবহার্য প্রাণের প্যাকেটজাত গুঁড়া মরিচ, গুঁড়া জিরা, গুঁড়া মসলা কিনতে চাইছেন না বেশিরভাগ ক্রেতা। বিক্রেতারা বলছেন, প্রাণের এসব পণ্য আসলেই ভালো মানসম্পন্ন কি-না ক্রেতাদের আমরা আস্থার সঙ্গে তাও বলতে পারছি না। ফলে বিক্রি কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ দোকানেই প্রাণের প্যাকেটজাত গুঁড়া পণ্য স্টক হয়ে আছে।   

দক্ষিণ বারিধারা রাজউক কাঁচাবাজারের কবির জেনারেল স্টোরের মালিক কবির হোসেন বলেন, ‘ক্রেতাদের চাহিদার ওপরে ভিত্তি করেই আমরা মাল রাখি। কিন্তু প্রাণের গুঁড়া হলুদে বিষাক্ত সিসা পাওয়ার কারণে ক্রেতারা প্রাণের প্যাকেটজাত গুঁড়া কোনো ধরনের মসলাই কিনতে চাইছেন না। এমনকি ভেজাল সন্দেহে প্রাণের সরিষার তেলও বিক্রি হচ্ছে না। আর কোম্পানির ডিলাররাও হলুদ ছাড়া অন্য মাল ফেরত নিচ্ছে না। ফলে আমাদের প্রত্যেকের দোকানেই প্রচুর মাল আটকে আছে, যা ব্যবসার মূলধনের ওপরে চাপ সৃষ্টি করেছে।’ 
 
গৃহিণী শান্তা আকরাম বলেন, ‘প্রাণ একটি নামকরা বড় কোম্পানি বলে জানি। ভারতের বাজারেও প্রাণের অনেক পণ্য বিক্রি হতে দেখেছি। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠান প্রচার-প্রচারণা করে মানুষের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে, অতি মুনাফা অর্জনের জন্য ভেজাল ও বিষাক্ত পণ্য বিক্রি-বিপণন করে তাদের পণ্য আমি বর্জন করেছি। জেনেশুনে বিষ খেতে চাই না।’
 
এ ব্যাপার বিএসটিআইর উপপরিচালক (প্রশাসন) তাহের জামিল বলেন, দেশের লোকাল মার্কেটের জন্য মানসম্পন্ন পণ্য বাজারজাত করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লাইসেন্স দেয় বিএসটিআই। বিদেশের রফতানির জন্য আলাদা অনুমোদন নিতে হয় না। তবে বিএসটিআইর অনুমোদনপ্রাপ্ত পণ্য বিদেশে রফতানির বিষয়টি দেখবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। প্রাণের গুঁড়া হলুদের ক্ষেত্রে যখন বিদেশ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেল আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে বিএসটিআইর জেলা অফিসগুলো থেকে প্রাণসহ অন্যান্য কোম্পানির গুঁড়া হলুদ সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করেছি। এতে শুধু প্রাণের হলুদেই বিভিন্ন মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে। এরপর প্রাণকে চিঠি দেয়া হয়। চিঠি পেয়ে প্রাণ কর্তৃপক্ষ তাদের প্যাকেটজাত গুঁড়া হলুদে মাত্রাতিরিক্ত সিসার অস্তিত্বের বিষয়টি মেনে নেয়। পরে প্রাণ বিএসটিআইকে জানায় বাজার থেকে প্যাকেটজাত সব গুঁড়া হলুদ তুলে নেয়া হবে। 
 
তিনি বলেন, আমরা ৫ হাজার প্যাকেট পণ্যের প্যাকেটজাত গুঁড়া হলুদ জব্দ করে ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে যাচ্ছি। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতে এগুলো ধ্বংস করা হবে। এ ছাড়া বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ প্রাণের গুঁড়া হলুদের লাইসেন্স স্থগিত (বাতিল) করার ফলে এখন থেকে আর প্যাকেটজাত গুঁড়া হলুদ বাজারজাত করতে পারবে না প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। মানসম্পন্ন গুঁড়া হলুদ উৎপাদন করতে সক্ষম হলে, বিএসটিআইর সব ধরনের পরীক্ষায় তা মানসম্পন্ন প্রমাণ হলে পরেই যাচাই-বাছাই শেষে নতুন করে হলুদ বাজারজাত করে লাইসেন্সে পেতে পারে। আগের লাইসেন্সে প্রাণ গুঁড়া হলুদ বাজারজাত করতে পারবে না।  

প্রাণ গ্রুপের মিডিয়া প্রধান সুজন মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের ল্যাবে হলুদের কোনো সমস্যা পাচ্ছি না। তবে বিএসটিআইর নির্দেশে বাজার থেকে আমরা সব গুঁড়া হলুদই তুলে নিয়েছি। বিএসটিআইর নিয়ম অনুযায়ী আগামীতে মানসম্পন্ন হলুদ উৎপাদন করতে পারলেই পুনরায় প্রাণ গুঁড়া হলুদ বাজারজাত করা হবে।’ 

No comments: