রোদে শুকিয়ে ও বিষাক্ত কেমিক্যাল স্প্রে করে কৃত্রিম উপায়ে
পাকানো হচ্ছে কাঁচা টমেটো। আর সেই টমেটো পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ সারা দেশে।
চিকিৎসকরা বলছেন, টমেটো পাকাতে ব্যবহৃত ইথোফেনজাতীয় কেমিক্যাল মানুষের
শরীরে ধীরে ধীরে কাজ করে। মাত্রাতিরিক্ত ইথোফেন মানবদেহে প্রবেশ করলে
ক্যান্সার ও কিডনি নষ্টসহ মৃত্যুর আশংকা রয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে
জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন
হাইব্রিড জাতের টমেটোর চাষ হয়েছে। আর এই বিপুল পরিমাণ জমি থেকে উৎপাদিত
টমেটোতে অতিরিক্ত লাভের আশায় কাঁচা টমেটো জমি থেকে তুলে মানবদেহের জন্য
ক্ষতিকর রাইপেনজাতীয় ‘ইথোফেন’ নামের এক ধরনের রাসায়নিক কেমিক্যাল মিশিয়ে
এবং রোদে শুকিয়ে কৃত্রিম রং ধরিয়ে তা বাজারজাত করেছেন কৃষকরা। যদিও ইথোফেন
গ্র“পের কেমিক্যালগুলো বিভিন্ন শাক-সবজির ক্ষেতে বিষ হিসেবে প্রয়োগের কথা।
কিন্তু এই ইথোফেনই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে কৃত্রিম উপায়ে টমেটো পাকাতে।

রাজশাহীগোদাগাড়ীতে এখন রাইজার-১৫, রাইপেন, ইমিপাস, টমটম, ইডেন, প্রলং ও হারভেস্টসহ বিভিন্ন
নামের দেশীয় ইথেফোনের পাশাপাশি ভারতীয় ইথোফেন বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকার
মধ্যে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অপরিপক্ব টমেটো জমি থেকে
উত্তোলনের পর রোদে শুকিয়ে ইথোফেন স্প্রে করা হলে দুই-তিন দিনের মধ্যে
টমেটোতে লাল রং ধারণ করে। এতে কাঁচা টমেটো অপেক্ষা বেশি দরে বিক্রি হয়
কেমিক্যালযুক্ত লাল রংয়ের টমেটো। সূত্র মতে, কেমিক্যালযুক্ত এসব টমেটো এখন
পাঠানো হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। বিষমিশ্রিত এসব টমেটো গোদাগাড়ীর
সবচেয়ে বড় দুটি বাজার- রেলগেট-রেলবাজার ও বাসলীতলা এলাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে কেমিক্যালমুক্ত কাঁচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি সাড়ে ৭শ-৮শ টাকা
পর্যন্ত। অপরদিকে কেমিক্যালযুক্ত কৃত্রিম পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি
১৫শ-১৮শ টাকা পর্যন্ত। এদিকে এখন পর্যন্ত গোদাগাড়ীতে কেমিক্যালযুক্ত
টমেটোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালিদ হোসেন বলেন, গোদাগাড়ীর হাজার হাজার টমেটো
চাষী কৃত্রিম উপায়ে টমেটোতে রং ধরিয়ে তা বাজারজাত করছে। কাজেই ক’জন কৃষকের
বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব? এদিকে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর
নাসিমা আক্তার বলেন, কয়েক বছর আগে গোদাগাড়ীর কেমিক্যালযুক্ত টমেটো ঢাকায়
একটি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল।
পরীক্ষিত নমুনার প্রাপ্ত ফলাফলে
কেমিক্যালযুক্ত টমেটোকে মানবদেহের জন্য সহনীয় উল্লেখ করা হয়। সে কারণে
কেমিক্যালযুক্ত টমেটোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয় না। গোদাগাড়ী
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মুহাম্মদ হোসেন আলী বলছেন
ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, যে কোনো কেমিক্যালই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। আর
ইথোফেন জাতীয় কেমিক্যাল ধীরে ধীরে কাজ করে বলে মানুষ এগুলো বিবেচনা করে না।
তবে মাত্রাতিরিক্ত ইথোফেন মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যান্সার ও কিডনি নষ্টসহ
মৃত্যুর আশংকা পর্যন্ত রয়েছে।রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ে
উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ সিরাজুল ইসলাম বলেন, শুধু পরিপক্ব টমেটোতেই খাদ্য
উপাদন পরিমাণ মতো পাওয়া যায়। তিনি বলেন, তাপে ও বাসি হলে টমেটোর ভিটামিন সি
নষ্ট হয়ে যায়। এমনিতেই এই কচি টমেটোতে এসব পুষ্টিমান পরিমাণ মতো তৈরি হয়
না। তারপর রোদে শুকানো এবং একাধারে পাঁচ-সাতদিন স্তূপ করে রাখার কারণে এতে
যে ভিটামিন থাকে তা নষ্ট হয়ে যায়।
No comments:
Post a Comment