Saturday, November 23, 2013

ওয়াসার পদ্মা নদীর পানি শোধনাগার:শুরুতেই দুর্নীতির অভিযোগ

এম এ বাবর
সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ঢাকা ওয়াসার পদ্মা নদীর (জশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজের শুরুতেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ভঙ্গ করে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগসাজশে ১০ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে কোনো টেন্ডার ছাড়াই একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে।

ঢাকা ওয়াসা জানায়, পদ্মা নদীর মাওয়া ঘাট পয়েন্ট থেকে পানি এনে তা পরিশোধন করে রাজধানীবাসীর কাছে সরবরাহের জন্য গৃহীত প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। গত ৮ অক্টোবর একনেকে এটি অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পের মধ্যে দুই হাজার তিনশ’ কোটি টাকার সংস্থান হবে বিদেশি অর্থায়নে। বাকি এক হাজার দুইশ’ কোটি টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস আইন ২০০৬ ও ২০০৮-এর ৩৩(২) ধারায় বলা আছে, ‘কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত ব্যতিরেকে কাজ প্রদান এবং কোনো প্রকার টেন্ডার প্রক্রিয়ার বৈধতা কোনো সংস্থার বা মন্ত্রণালয়ের নেই। শতকরা ১০০ ভাগ বিদেশি অর্থায়নও যদি হয় তাহলেও রাষ্ট্র ও জনস্বার্থে তা টেন্ডার প্রক্রিয়া মোতাবেক হতে হবে। বিনা টেন্ডারে কাজ দেয়ার বৈধতা বহন করে না। ২১ দিন সময় দিতে হবে টেন্ডার সাবমিট করার জন্য।’ কিন্তু ওই রুলস লঙ্ঘন করে মন্ত্রণালয় তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছে। আর একনেকে অনুমোদন করিয়েই তড়িঘড়ি ক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। 
Photo: http://manobkantha.com/2013/11/23/148081.html
 
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, টেন্ডার ছাড়াই পদ্মা (জশলদিয়া) পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দেয়া হয়েছে সরকারের পছন্দের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না সিএএমসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে। ১৪ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য ক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রমও অনুমোদিত হয়েছে। এদিকে মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি স্থানীয় পরামর্শক নিয়োগ না করেই কার্যক্রম শুরু করেছে। আর এ কাজে সুবিধাভোগীদের মধ্য রয়েছেন একজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এদিকে, বিনা টেন্ডারে কাজ দেয়া এবং স্থানীয় পরামর্শক নিয়োগ না দিয়ে কিভাবে কোন আইনে ক্রয় সংক্রান্ত মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে, এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা। তবে ওয়াসার একজন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের আগে অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে অনিয়ম ঘটেছে দাবি করে ডিও লেটার দিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী ফাইল তলব করেন। পরে আবার তা ফেরত পাঠান তিনি। তার হস্তক্ষেপে একনেকে ওই প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার প্ল্যানিংয়ের ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার আবদুল কাদের বলেন, ‘মন্ত্রী ডিও লেটার দিয়েছেন, অনিয়ম হয়েছে এ ধরনের সংবাদ তার (মন্ত্রীর) কাছে যাওয়ায়, তিনি তা খতিয়ে দেখার জন্য ডিও লেটার দিয়ে ফাইল তলব করেছেন।’ তবে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে তা নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি এ কর্মকর্তা। প্রকল্প পরিচালক রশীদ সিদ্দিকী বলেন, অনেক দিন ধরে এ কাজটি ঝুলে আছে। তাই কাজটি যাতে হয় সে জন্য পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার শর্তেই চায়না কোম্পানির সঙ্গে এ ঋণচুক্তিটি হয়েছে। তবে টেন্ডার আহ্বানের ব্যাপারে আমরা বলেছিলাম। কিন্তু সরকার যেমনটা চেয়েছে তেমনভাবেই হয়েছে।
http://manobkantha.com/2013/11/23/148081.html

No comments: