Wednesday, October 10, 2012

ইনজেকশন দিয়ে মাছে ফরমালিন ঢোকানো হচ্ছে

লেখক: আবুল খায়ের  | 
ইনজেকশন দিয়ে ঢোকানো হচ্ছে ভিতরে ভেজাল বিরোধী মোবাইল কোর্ট বাজারে গিয়ে পরীক্ষা করে মাছে ফরমালিন পাচ্ছে না। অথচ মাছে ঠিকই ফরমালিন দেয়া হচ্ছে কিন্তু মোবাইল কোর্ট সেই রহস্য উদ্ধার করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা কৌশল পরিবর্তন করে কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলো দিয়ে সচ্ছন্দে ফরমালিন দেয়া মাছ বিক্রি করে চলেছে। 
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা  পরিষদের (সায়েন্স ল্যাবরেটরি) বিজ্ঞানিরা অবশ্য চতুর মাছ ব্যবসায়ীদের এই চালাকি ধরে ফেলেছেন। তারা বলছেন, এখন আর আগের মত মাছের বাইরে ফরমালিন দেয়া হচ্ছে না। মাছ পরীক্ষা করে মোবাইল কোর্ট ফরমালিনের অস্তিত্ব পাচ্ছে না তার কারণ, ভেজাল বিরোধী মোবাইল কোর্টের কর্মকর্তারা মাছের শুধু ওপরের দিকটা পরীক্ষা করেন। মাছের ওপর
এখন আর সাধারণত ফরমালিন দেয়া হয় না। 
মাছে ফরমালিন মেলেনি কিন্তু বাতাসে মিলেছে
rab দর দফতরের তিন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গত সোমবার ভোরে সোয়ারিঘাট, যাত্রাবাড়ী ও কাওরান বাজার মাছের আড়তে অভিযান চালানো হয়। মত্স্য অধিদফতরের কর্মকর্তারাও ঐ অভিযানে অংশ নেন। তিনটি আড়তে মাছ পরীক্ষা করে কোন ফরমালিনের অস্তিত্ব পাননি কর্মকর্তারা। তবে ঐ সময় তাদের কাছে থাকা ফরমালিন শনাক্তকারী যন্ত্র ফরমালিনের অস্তিত্ব থাকার ব্যাপারে সংকেত দিতে থাকে। কর্মকর্তারা এর কারণ খুঁজতে থাকেন। পরে বাতাস পরীক্ষা করে আড়ত এলাকার বাতাসে মাত্রাতিরিক্ত ফরমালিন থাকার প্রমাণ পান । এখন আর সাধারণত ফরমালিন দেয়া হয় না।
এখন আর সাধারণত ফরমালিন দেয়া হয় না। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলাম ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত তাজিম এ প্রসঙ্গে বলেন, ফরমালিন স্পিরিট বা অ্যালকোহলের মত অতিমাত্রায় উদ্বায়ী পদার্থ। খোলা বাতাসে রাখলে ফরমালিন দ্রত বাষ্প হয়ে যায়। কোন এলাকায় খোলা বাতাসে ফরমালিন রাখলে সেই এলাকার বাতাসেও বেশি পরিমাণ ফরমালিন থাকে। ঐ দুই বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের মতে, আড়ত এলাকায় কোন স্থানে ফরমালিনের ড্রাম ছিল। তারা বলেন, মাছে না থাকলেও ঐ এলাকায় ফরমালিন ছিল—এটা নিশ্চিত।
ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকগণ বলেন, দেহে দিনের পর দিন ফরমালিন প্রবেশ করলে ক্যান্সার হওয়ার আশংকা বহুগুণ বেড়ে যায়। শিশুদের ক্যান্সারের পাশাপাশি অন্যান্য জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এছাড়া ফরমালিনের কারণে কিডনি ও লিভার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও অনেক বেশি থাকে।
ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে কাওরান বাজার, ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে সোয়ারিঘাট ও ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোঃ ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ীর মাছের আড়তে মাছ পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু কোন আড়তেই মাছে ফরমালিন মেলেনি। তবে এসব আড়তের বাতাসে মাত্রতিরিক্ত ফরমালিন ছিল বলে কর্মকর্তারা জানান। সোয়ারিঘাটে বাতাসে সর্বোচ্চ ৩২ পিপিএম, কাওরান বাজারে ৮ পিপিএম ও যাত্রাবাড়ীতে ৮ পিপিএম ফরমালিন থাকার প্রমাণ মিলেছে।
মত্স্য অধিদফতরের মাছ ফরমালিন মুক্তকরণ প্রকল্প পরিচালক ড. শামসুল কবীর বলেন, তিনিও কাওরান বাজার মাছের আড়তে মোবাইল কোর্টে ছিলেন। সকালে বাতাসে ফরমালিনের মাত্রা বেশি ছিল। কিন্তু দুপুরে গিয়ে সেখানে পুনরায় পরীক্ষা করে বাতাসে ফরমালিনের মাত্রা খুবই কম পাওয়া যায়। সোয়ারিঘাটে বেশি পাওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, দূষিত পদার্থ কিংবা আড়তের বর্জ্য পচে গিয়ে বাতাসে ফরমালিন মিশতে পারে। মাছের চেয়ে বর্তমানে ফলে ফলমালিনের মাত্রা বেশি বলে তিনি জানান।
সায়েন্স ল্যাবরেটরির (বিসিএসআইআর) চেয়ারম্যান ড. এ আই মোস্তফা বলেন, মোবাইল কোর্টের কারণে মাছ ব্যবসায়ীরা মাছে ফরমালিন মেশানোর টেকনিক পরিবর্তন করেছে। আগে ফরমালিন মিশ্রিত পানিতে মাছ চুবিয়ে বাজারজাত করা হত। এখন কানকো দিয়ে ইনজেকশনের মাধ্যমে ফরমালিন মাছের ভেতরে দেয়া হচ্ছে। সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফরমালিন ও কীটনাশক থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্য সায়েন্স ল্যাবরেটরি স্বাস্থ্যসম্মত প্রতিরোধক রাসায়নিক উদ্ভাবন করেছে। তা শিগগিরই বাজারজাত করা হবে।
 বুধবার, ১০ অক্টোবর ২০১২, ২৫ আশ্বিন ১৪১৯ 

No comments: