- মো. রেজুয়ান খান
খোলা আকাশের নিচে অথবা অন্য কারো অনুগ্রহে অতি কষ্টে এতোদিন যাদের জীবন কেটেছে, তাদের আজ নিজের নামে ঘর হয়েছে। পরামানন্দে আত্মহারা লেবুজা ও আমেনা বেগম। দু’জনই বিধবা। তাদের এতদিনের অনুগ্রহ ও গলগ্রহের দিন শেষ হলো। চরযথার্থপুর গুচ্ছগ্রামে তাদের ঠিকানা হলো। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার সারাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার নিঃস্ব অসহায়, গৃহীন অবহেলিত এ সমস্থ বিধবা নারীদের মাথা গোঁজার মতো ঠিকানা করে দিচ্ছে। গুচ্ছগ্রামে স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের যৌথ নামে কবুলিয়ত দলিল করে দেয়ার মাধ্যমে পুনর্বাসিত করা হচ্ছে। যাতে নিঃস্ব নারীর মতায়নে এক ধাপ অগ্রগতি সাধিত হলো।
সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার ও সমাজের প্রকৃত হতদরিদ্র ভূমি ও গৃহহারাদের সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের নিশ্চয়তাসহ পুনর্বাসন করছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী অগ্রাধিকার প্রকল্প বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ৩১শে মার্চ ২০০৯ একনেক সভায় ‘গুচ্ছগ্রাম’ (ক্লাইমেট ভিকটিমস্ রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্ট) নামে প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে।
দারিদ্র্যবিমোচনে সরকার ২০১৩ সালের মধ্যে দারিদ্র্যসীমা ২৫ শতাংশ ও চরম দারিদ্র্যের হার ১৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। দারিদ্র্যবিমোচনে সরকারের গৃহীত প্রকল্পসমূহের মধ্যে ‘একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ণ, গুচ্ছগ্রাম ও ঘরে ফেরা’ কর্মসূচি উলেখযোগ্য।
দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের প্রলয়ংকরী সাইক্লোন বাংলাদেশের উপক‚লীয় চরাঞ্চল ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, স›দ্বীপসহ চট্টগ্রাম জেলার দশ লাখ মানুষ, অগনিত গবাদি পশু পাখির প্রাণহানীসহ ঐ অঞ্চলের জনপদকে লক্ষ করে দিয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার রামগতি থানা (বর্তমানে লক্ষীপুর জেলা) পরিদর্শনকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার নদীভাঙ্গা দুঃস্থ ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় মানুষের আহাজারিতে ব্যথিত হন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ২০০ পরিবারের জন্য ‘পোড়াগাছা’ নামে গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠা করে তাদের পুনর্বাসন করার জন্য সংশিষ্ট জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। বৃহত্তর নোয়াখালীতে সেসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ৪টি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের মাধ্যমে ১৪৭০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। সেই থেকে গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস শুরু। এ পর্যন্ত সারাদেশে ১৫০৭টি গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ৭২ হাজার গৃহহীন, ভূমিহীন, নদীভাঙ্গন অসহায় পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। বিশ্ব জলবায়ুর ব্যাভিচারের শিকার বাংলাদেশ। এদেশের বৈরী জলবায়ু দুর্গত সর্বংহারা পরিবারের বাসস্থান ও দারিদ্র্যবিমোচন নিশ্চিত করতে ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে সরকারি খাস জমিতে গৃহ ও তৎসংলগ্ন পরিবেশ প্রদানের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা এবং মানব সম্পদ উন্নয়নে পুনর্বাসিত পরিবারসমূহের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা স্বাস্থয সচেতনতা ও দাতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণসহ আর্থ-সামাজিকভাবে হতদরিদ্র গণমানুষের উন্নয়ন করাই গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।সরকারি খাস জমিতে নির্মিত এসব গুচ্ছগ্রামে সুবিধাভোগী প্রতি পরিবারকে ন্যূনতম ৪ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ বসতভিটা জমি প্রদান করা হয়। প্রতি পরিবারকে ৩০০ বর্গফুট ফ্লোর স্পেস বিশিষ্ট আরসিসি পিলার, স্টিলের ফ্রেমে টিনের চাল ও বেড়া এবং স্টিলের দরজা-জানালা সম্বলিত দুই কক্ষ বিশিষ্ট ঘর প্রদান করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ রিং বিশিষ্ট একটি করে স্যানিটারি লেট্রিন প্রদান করা হয়। নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতি পাঁচ থেকে ১০ পরিবারের ব্যবহারের জন্য স্থানোপযোগী ১টি করে গভীর নলকূপ স্থাপন করে দেয়া হচ্ছে।
গুচ্ছগ্রামবাসীদের প্রশিক্ষণ ও আয়বর্ধন কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য প্রতিটি গ্রামে ৭৫০ বর্গফুট ফ্লোরস্পেস, স্টিলের ফ্রেমে টিনের চাল, ইটের গাঁথুনি, স্টিলের দরজা-জানালা সম্বলিত একটি করে মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। প্রতি পরিবারের দুজন সদস্যকে আট দিনের আয়বর্ধন কর্মকান্ডমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণ ও জেন্ডার সমতা রক্ষার জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামে বসতভিটার জমির কবুলিয়ত প্রদান ও নামজারী করার কাজ চলছে। এছাড়া বিধবা নারীদের ক্ষেত্রে একক মালিকানা স্বত্ব প্রদান করা হয়। পুনর্বাসিত পরিবারসমূহকে আয়বর্ধন কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য বিআরডিবি’র মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। জমির প্রাপ্যতা সাপেক্ষে পুনর্বাসিত পরিবারসমূহের জন্য পুকুর খনন করে দেওয়া হয় এবং তাদের অনুক‚লে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারস্বত্ব প্রদান করা হয়।
পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ার লক্ষে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতে গুচ্ছগ্রামের প্রতিটি পরিবারকে ফলদ, বনজ ও কাঠ গাছের চারা প্রদান করা হচ্ছে।
সরকার গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পটির মাধ্যমে জুন ২০১৩ এর মধ্যে সারাদেশের ৩টি পার্বত্য জেলা ব্যতিত ৬১টি জেলার ১৮৮টি উপজেলায় ২৬২টি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের মাধ্যমে ১০৬৫০টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষমাত্রা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জামালপুরের চরযথার্থপুর গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পাওয়া লেবুজা ও আমেনাদের পরিবারের মতো সারাদেশের ৪৯টি জেলার ১৬৩টি গুচ্ছগ্রামে ৭ হাজার ১৭২টি গৃহহীন পরিবারকে এ সরকার ঠাঁই করে দিয়েছে। গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পাওয়া এসম¯— দুঃখী মানুষের দুঃখ ঘোঁচাতে সরকার তাদের মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধ, আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানসহ ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সরকারের এ উদ্যোগ দেশের দারিদ্যবিমোচনে যুগান্ত কারী ভূমিকা রাখছে।
মোঃ রেজুয়ান খান, পিআরও, ভূমি মন্ত্রণালয়।
গুচ্ছগ্রামবাসীদের প্রশিক্ষণ ও আয়বর্ধন কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য প্রতিটি গ্রামে ৭৫০ বর্গফুট ফ্লোরস্পেস, স্টিলের ফ্রেমে টিনের চাল, ইটের গাঁথুনি, স্টিলের দরজা-জানালা সম্বলিত একটি করে মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। প্রতি পরিবারের দুজন সদস্যকে আট দিনের আয়বর্ধন কর্মকান্ডমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণ ও জেন্ডার সমতা রক্ষার জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামে বসতভিটার জমির কবুলিয়ত প্রদান ও নামজারী করার কাজ চলছে। এছাড়া বিধবা নারীদের ক্ষেত্রে একক মালিকানা স্বত্ব প্রদান করা হয়। পুনর্বাসিত পরিবারসমূহকে আয়বর্ধন কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য বিআরডিবি’র মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। জমির প্রাপ্যতা সাপেক্ষে পুনর্বাসিত পরিবারসমূহের জন্য পুকুর খনন করে দেওয়া হয় এবং তাদের অনুক‚লে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারস্বত্ব প্রদান করা হয়।
পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ার লক্ষে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতে গুচ্ছগ্রামের প্রতিটি পরিবারকে ফলদ, বনজ ও কাঠ গাছের চারা প্রদান করা হচ্ছে।
সরকার গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পটির মাধ্যমে জুন ২০১৩ এর মধ্যে সারাদেশের ৩টি পার্বত্য জেলা ব্যতিত ৬১টি জেলার ১৮৮টি উপজেলায় ২৬২টি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের মাধ্যমে ১০৬৫০টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষমাত্রা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জামালপুরের চরযথার্থপুর গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পাওয়া লেবুজা ও আমেনাদের পরিবারের মতো সারাদেশের ৪৯টি জেলার ১৬৩টি গুচ্ছগ্রামে ৭ হাজার ১৭২টি গৃহহীন পরিবারকে এ সরকার ঠাঁই করে দিয়েছে। গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পাওয়া এসম¯— দুঃখী মানুষের দুঃখ ঘোঁচাতে সরকার তাদের মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধ, আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানসহ ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সরকারের এ উদ্যোগ দেশের দারিদ্যবিমোচনে যুগান্ত কারী ভূমিকা রাখছে।
মোঃ রেজুয়ান খান, পিআরও, ভূমি মন্ত্রণালয়।
No comments:
Post a Comment