এম এ বাবর
রাজধানীতে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে যাত্রীরা। এদের দৌরাত্ম্য ও অনিয়ম বন্ধে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের তৎপরতা না থাকায় যাত্রীরা চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
এদিকে চালকরা বলছেন, মালিকদের অতিরিক্ত জমার টাকার জোগান দিতেই তারা বেশি ভাড়া আদায়ে বাধ্য হন। অন্যদিকে মালিকদের দাবি, জ্বালানি ও যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত জমা না নিয়ে তাদের উপায় নেই।
গত বছরের জানুয়ারি মাসে সর্বশেষ সিএনজি অটোরিকশা ও ট্যাক্সি ক্যাবের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে সরকার। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া প্রথম দুই কিলোমিটারের জন্য ১৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা করা হয়েছে। বিরতিকালের জন্য প্রতি মিনিট ১ টাকার পরিবর্তে ১ টাকা ২৫ পয়সা করা হয়। এ ছাড়া সিএনজি অটোরিকশা মালিকের দৈনিক জমা ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। সরকার সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া বাড়ালেও যাত্রীদের ভোগান্তি কমেনি। চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে নির্ধারিত ভাড়ার কয়েকগুণ আদায় করেন। অভিযোগ রয়েছে, অটোরিকশা চালকরা চুক্তিভিত্তিক ভাড়া ছাড়া যাত্রীর গন্তব্যে যান না। আসলাম হোসেন গতকাল মহাখালী থেকে সেগুনবাগিচা পর্যন্ত অটোরিকশা ভাড়া দিলেন ১৫০ টাকা। তিনি বলেন, ‘মিটারের হিসাবে ভাড়া আসে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা। কিন্তু চালক ভাড়া চাইল ২২০ টাকা। দর কষাকষি করে ১৫০ টাকায় আসতে রাজি হলো, আর আমাকে বাধ্য হয়ে ওই ভাড়ায় আসতে হলো।’
ব্যবসায়ী চঞ্চল বলেন, ‘বুধবার ধানমণ্ডি স্টার কাবাব থেকে মিরপুর টেকনিক্যাল যাব। কিন্তু এ পথটুকু কোনো সিএনজি ২০০ টাকার (চুক্তিতে) কমে যাবে না। অনেক মুলামুলির পর ১৬০ টাকায় যেতে পারলাম।’
সিএনজি চালক জব্বার বলেন, ‘মালিককে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দিতে হয়। যানজটে দিনের অধিকাংশ সময় চলে যায়। এদিকে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়ে গেছে। মিটারের হিসাবে ভাড়া নিলে পোষায় না বলে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিতে হয়।’
ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হানিফ হোসেন বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মালিকরা জমার টাকা নেয় না। প্রতি গাড়িতে ডেইলি মালিককে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা জমা দিতে হয়। এ ছাড়া যে হারে গ্যাসের দাম বাড়ছে সেই হারে মিটারে ভাড়া বাড়েনি। ফলে যাত্রীদের সঙ্গে চুক্তিতে ভাড়া ঠিক করে না চললে আসলই ওঠে না।’
ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এ টি এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘বর্তমান বাজারে সিএনজি গ্যাস (জ্বালানি) ও খুচরা যন্ত্রাংশের মূল্য অনেক বেশি। এ কারণে অতিরিক্ত জমা আদায়ে মালিকরা এক রকম বাধ্য হচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া ও মালিকদের জমার টাকা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসা সম্ভব নয়।’
http://manobkantha.net/archive_details.php?id=88449&&%20page_id=%206&issue_date=%202012-10-13


No comments:
Post a Comment