Monday, October 29, 2012

গরু বন্ধক নিচ্ছে সোনালী ব্যাংক

প্রাইমখবর ঢাকা : সোনালী ব্যাংক এবার হলমার্কের ঋণের বিপরীতে গরু বন্ধক নিতে শুরু করেছে। এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তরা হলমার্ক গ্রুপের সাভারে অবস্থিত খামার পরিদর্শন করেছেন। তারা গরুর অবস্থা এবং কতগুলো গরু রয়েছে সে ব্যাপারে অনুসন্ধান করছেন।
সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের শেরাটন (বর্তমানে রূপসী বাংলা হোটেল) শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপ বিভিন্ন নামে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার তথ্য উদ্ধার কর হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সব কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ঋণের পরিমাণ আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে এখনও তদন্ত চলছে।
সোনালী ব্যাংকের শেরাটন হোটেল শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপ অনেকটা ‘বন্যার পানি’র মতো ঋণ নিয়েছেন। ওইসব ঋণের বিপরীতে সোনালী ব্যাংককের কাছে কোনও জামানত নেই। এমন কি নেই কোনও নথিপত্রও। এখন ওইসব নথিপত্র উদ্ধার করছে সোনালী ব্যাংক। ইতোমধ্যে যে নথিপত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে সেগুলোর বিপরীতে হলমার্ক গ্রুপ বা এর এমডি তানভীর মাহমুদ ও তার স্ত্রী জেসমিন ইসলামের নামে রাখা জমি বন্ধক নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের দুটি কারখানাও বন্ধক রাখা হয়েছে। কিন্তু ঋণের বিপরীতে এসব জামানতের পরিমাণ খুবই কম। ফলে ব্যাংক আরও জামানতের সন্ধান করছে।
এই পর্যায়ে সোনালী ব্যাংকের নজর পড়ে হলমার্কের খামারে থাকা গরুর উপর। খামারের জমি ও অন্যান্য সম্পদ আগেই ব্যাংক জামানত হিসাবে বন্ধক রেখেছে। সব মিলে সোনালী ব্যাংকের নেয়া ঋণের বিপরীতে এখন পর্যন্ত জামানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০০ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। অথচ তাদের ফান্ডেড বা নগদ ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা এবং নন ফান্ডেড বা এলসি ও বিলের বিপরীতে নেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। ফলে ঋণের বড় অংশই এখন পর্যন্ত জামানতের বাইরে রয়েছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে হলমার্কের খামারে থাকা গরুর প্রতি নজর দেয় সোনালী ব্যাংক। হলমার্ক থেকে সোনালী ব্যাংককে বলা হয়েছিল তাদের খামারে ৭০ হাজার গরু রয়েছে। পরে ব্যাংক খোঁজ নিয়ে জানতে পারে গরু আছে ৭ হাজারের মতো। পরে ব্যাংক কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে মনে করছেন, গরুর সংখ্যা ৭০০ বেশি হবে না। এর মধ্যে হলমার্কের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঈদের বেতন বোনাস দেওয়ার জন্য কিছু গরু বিক্রি করা হয়েছে। পরে সোনালী ব্যাংকের হস্তক্ষেপে গরু বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে হলমার্ক ফ্যাশন লিমিডেটের কিছু রফতানির বিল বাকি ছিল। এগুলো সোনালী ব্যাংক সংগ্রহ করে ঋণের টাকা সমন্বয় করেছে। রফতানির টাকাও না পাওয়ায় হলমার্কের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিতে পারেনি।
হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও জিএম তুষার আহমেদকে গ্রেফতার করার পর এখন কোম্পানির চালানোর মতো উপযুক্ত কোনও ব্যক্তি নেই। ফলে হলমার্কের পুরো ব্যবসা এখন বন্ধের উপক্রম। এই ব্যাংকের ঋণ আদায় করা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এসব কারণে ব্যাংক গরু বন্ধক রাখার দিকে এগুচ্ছে।   
ব্যাংক সূত্র জানায়, গরু বন্ধক রাখলে এগুলোর দেখভাল করা আরেক সমস্যা। যে কারণে ব্যাংক খামারে থাকা সব গরু বিক্রি করে দিতে চাচ্ছে। কিন্তু পারছে না এগুলো এখন পর্যন্ত ব্যাংকের বন্ধকী সম্পত্তি হয়নি বলে। তাছাড়া হলমার্কের ঋণ এখনও খেলাপি হয়নি।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ঋণ খেলাপি হলে তাদের নোটিশ দেওয়া হবে ঋণ পরিশোধের জন্য। এ রকম পর পর তিনটি নোটিশ দিতে হবে। তারপর ব্যাংক তার কাছে ঋণের বিপরীতে বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রি করতে পারে।
ঋণের জামানত হিসেবে গরু বন্ধক নিলে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গরু বিক্রি করতে হবে। আর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে। ওই সময় পর্যন্ত গরুর পাহারাদার নিয়োগ নিয়ে বিপাকে পড়েছে ব্যাংক।

No comments: