Friday, October 26, 2012

জমজমাট বেচাকেনা



এম এ বাবর: রাজধানীতে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর কেনাবেচা। হাটগুলোতে এবার পশু আমদানি বেশি থাকায় ক্রেতারা গরু কিনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিক্রেতারা রয়েছেন চালান হারানোর আশঙ্কায়।
রাজধানীর কয়েকটি হাটে গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের তুলনায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল বেশি। এবার মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি থাকায় বড় গরু বিক্রেতারা রয়েছেন বিপাকে। ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর দাম কিছুটা কম। তাই আগে থেকে সাধ্যের মধ্যে পছন্দের গরুটি কিনছেন তারা। এদিকে হাটগুলোতে পশুর আমদানি বেশি হওয়ায় অনেক পশুই অবিক্রীত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা। 
আফতাব নগর পশুহাটের ক্রেতা তানভিরুল ইসলাম বলেন, ‘হাটগুলোতে গরুর আমদানি অনেক বেশি। তাই তুলনামূলক গরুর দাম অনেক কম। চাঁদরাতে এ দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ৩৯ হাজার টাকায় একটি দেশি গরু কিনলাম। গত বছর এ গরুটির দাম ছিল কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা।’ বারিধারা পশুর হাটের ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গরুর দাম অনেক কম। ভেবেছিলাম ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ভাগে কোরবানি দেব। কিন্তু বুধবার হাটে গিয়ে দেখলাম গরু সস্তায় বিক্রি হচ্ছে। তাই ভাগে না গিয়ে ৩৫ হাজার টাকায় নিজেই একটি গরু কিনলাম।’ আফতাব নগরের গরু ব্যাপারী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এবার চালান থাকব না। হাটে যে হারে ইন্ডিয়ান আর নেপালি গরু উঠছে তাতে খদ্দের দেশি গরুর দাম বলছে না। নেপালি গরু দেখতে দেশি গরুর মতোই। তাই কম টাকায় বেশির ভাগ খদ্দের নেপালি গরু কিনছেন। হাটে যে গরু রয়েছে সেগুলানই কেনার খদ্দের নাই। আর এই গরু যদি থাইকা যায় তাহলে পুঁজি যাইব। তাই খদ্দের যে দাম বলছে সেই দামেই বিক্রি করছি।’ মেরাদিয়া হাটের গরু ব্যাপারী জামাল বলেন, ‘আইজকে কাস্টমার যে দাম কচ্ছে এর চেয়ে সোম-মঙ্গলবার গরুর দাম বেশি ছিল। মঙ্গলবার যে গরু এক লাখ টাকা ছিল আজ (বৃহস্পতিবার) তার দাম বলছে মাত্র ৬০ হাজার টাকা। ২৭টা গরুর মধ্যে মাত্র ৬টা বেচ্চি। বাকি গুলান নিয়া টেনশনে আছি।’ ছাগল ব্যাপারী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গতবার যে লাভ করছিলাম, এবার তা শেষ! আমি যে ছাগল ৭ হাজার টাকায় কিনছি কাস্টমার তার দাম বলছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। চাঁন রাইতে ভালো টাকায় বেচার আশায় রইছি।’ মেরাদিয়া হাটের ইজারাদার পরিচালনা কমিটির সদস্য শাহ আলম মুকুল বলেন, ‘গত বছর চাঁদরাত ও ঈদের আগের দিন রাজধানীতে ব্যাপক পশু সংকট ছিল। ফলে শেষ মুহূর্তে কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে অনেক বেশি দামে। আর বেশি দাম পাওয়ার আশায় এবার বেশির ভাগ গরু ব্যবসায়ী রাজধানীমুখী হয়েছেন। ফলে এবার রাজধানীর হাটগুলোতে গরুর আমদানি বেশি। আর আমদানি বেশি হওয়ায় দাম একটু কম রয়েছে।’
এদিকে রাজধানীর পশু হাটগুলোতে টয়লেট ও পানি সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। যার ফলে হাটে পশু নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা নানা সমস্যায় পড়েছেন। ব্যাপারীরা অভিযোগ করেছেন, হাটের ইজারাদাররা তাদের জন্য টয়লেট ও পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করেনি। দীর্ঘক্ষণ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। টয়লেটের অবস্থা আরো খারাপ। কোনোরকম অস্বাস্থ্যকর উপায়ে টয়েলেটগুলো করা হয়েছে। তাও অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সিরিয়াল পেতে হয়। এসব কারণে ব্যাপারীদের অনেকের ডায়রিয়া ও আমাশয় হচ্ছে। কোরবানির পশুর সঙ্গে সঙ্গে গো-খাদ্যের বিক্রিও বেড়ে গেছে। খড়কুটো বিক্রেতা জামাল বলেন, ‘গত বছর তিন ট্রাক মালে ১৭ হাজার টাকা লোকসান হয়েছিল। এবার চাঁন রাইত পর্যন্ত বেচাকেনা হলে গত বছরের ক্ষতি উঠে কিছুটা লাভ হবে।’ ভুসি বিক্রেতা আলম জানান, কেজি প্রতি ১৫-২০ টাকা লাভ হচ্ছে। বেচাও ভালো হইলে হাজার দশেক টাকা লাভ থাকবে।
এদিকে কোরবানির পশুর চামড়া আর গোশত কাটাকাটি করতে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো জিনিস তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কামাররা। নগরীর বেশ কয়েকটি বাজার ও কামারের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার দা, বঁটি, ছুরি, চাকু, চাপাতিসহ বিভিন্ন ধারালো যন্ত্রপাতি। এসব তৈরিতে কামাররা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে লোহার টুংটাং আওয়াজে মুখরিত কামার পল্লী। বাড্ডার কামার কৃষ্ণা বলেন, ‘বেচাকেনা কয়েকদিন আগে থেকেই ভালো হচ্ছে। এবার কাস্টমারের চাপ বেশি। লোহার দাম বেশি হওয়াতে সবকিছু একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ খাটিয়া ও পাটি বিক্রেতা মকবুল গাজী বলেন, ‘এবার ব্যবসা অনেক ভালো। গতবার চালান থেকে ৪১ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। ৬০ থেকে ৩শ’ টাকার মধ্যে খাটিয়া ও ৯০ থেকে ১শ’ টাকার মধ্যে পাটি বিক্রি করছি।’
http://manobkantha.net/details_news.php?id=90572&&%20page_id=%205

No comments: