এম এ বাবর:
ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত হওয়ার একযুগেও রাজধানীর জরাজীর্ণ ভবনগুলো অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেই। ডিসিসি ও রাজউকের মতের দ্বন্দ্বে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় নষ্ট না করে অতিসত্বর এসব ভবন অপসারণ করা প্রয়োজন।
এদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ এসব ভবনে বসবাস করছেন। ভবনগুলো অপসারণের ব্যাপারে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) কর্তৃপক্ষ বলছে, এ কাজ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। আর রাজউক বলছে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে ডিসিসি।
রিসোর্স ইন্ট্রিগেশন সেন্টার (রিক) ও রাজউকের তথ্যা অনুযায়ী ১৯৯৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রাজধানীতে ৪২টি ভবন ধস ও হেলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজারে ১৪/এ কৈলাশ লেনের বাড়িটি ভাঙার সময় ধসে পরে। ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় এ ভবনটিও ছিল। এতে কোন প্রাণহানি না হলেও অতীতে ৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত হওয়ার একযুগেও রাজধানীর জরাজীর্ণ ভবনগুলো অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেই। ডিসিসি ও রাজউকের মতের দ্বন্দ্বে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় নষ্ট না করে অতিসত্বর এসব ভবন অপসারণ করা প্রয়োজন।

এদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ এসব ভবনে বসবাস করছেন। ভবনগুলো অপসারণের ব্যাপারে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) কর্তৃপক্ষ বলছে, এ কাজ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। আর রাজউক বলছে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে ডিসিসি।
রিসোর্স ইন্ট্রিগেশন সেন্টার (রিক) ও রাজউকের তথ্যা অনুযায়ী ১৯৯৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রাজধানীতে ৪২টি ভবন ধস ও হেলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজারে ১৪/এ কৈলাশ লেনের বাড়িটি ভাঙার সময় ধসে পরে। ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় এ ভবনটিও ছিল। এতে কোন প্রাণহানি না হলেও অতীতে ৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে।
রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ
ভবনের ব্যাপারে ২০০১ সালে আন্ত:মন্ত্রণালয় প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা মহানগরে ৬৮৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করা হয়। এর
মধ্যে ৫৭৩টি ভবনই পুরান ঢাকায়। এছাড়া ভবনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি
ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত হয় ১১৩টি। এরপর ২০০৪ সালের ১০ জুলাই
আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় রাজধানীর জরাজীর্ণ দালানকোঠা অপসারণে দ্রুত
ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।একই বছর ২৬ জুলাই আরো একটি সভায় ‘জরাজীর্ণ
ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বিষয়ক টেকনিক্যাল সার্ভে কমিটি’ গঠন করা হয়। এতে স্থানীয়
সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আহ্বায়ক ও রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী,
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর পরিচালক, হাউস বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের
পরিচালক ও গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ ডিসিসি ও রাজউকের বেশকিছু
কর্মকর্তাকে সদস্য করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এ কমিটির কার্যক্রম আলোর মুখ
দেখেনি। সর্বশেষ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে ডিসিসি’র সাবেক উপ-পরিচালক
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে ২০১০ সালের ১৫ জুলাই একটি
সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ডিসিসি কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত ও রাজউকের প্রতিনিধি
আহ্বান করা হয়। সভায় রাজউকের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় ওই সভায় কোনো
সিদ্ধান্ত হয়নি।রিকের ঢাকা আরবান গভার্নেন্স কর্মসূচির প্রধান এসএমএ
মুয়িদ বলেন, ‘প্রযুক্তিগত ত্র“টির কারণে ঢাকার ২০০ বছরের পুরনো
দালানকোঠাগুলো বহু আগেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারি তালিকানুযায়ী ভবনগুলোতে
পাঁচ হাজারের অধিক মানুষ বসবাস করছে। এসব ভবনে বসবাসে মৃত্যুর ঝুঁকি
থাকলেও আবাসন সংকটের কারণে তারা ভবন ছাড়ছেন না।’ তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও যে কোন মুহূর্তে এসব ভবন ধসে পরতে পারে। তাই ভয়াবহ কোনো ক্ষতির হাত থেকে মানুষের জানমাল রক্ষা করতে সরকারি উদ্যোগে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ‘সাত মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হলে নগরীর এ ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো দাঁড়িয়ে থাকার কোন সম্ভাবনা নেই।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ
সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর জমি ও ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে নকশা
সংশ্লিষ্ট সবকিছুর দায়িত্ব রাজউকের। ১৯৫৩ সালের নগর উন্নয়ন আইনে এ বিষয়ে
রাজউককে ম্যান্ডেট দেয়া আছে। এছাড়া এ খাতে সিটি কর্পোরেশনের কোনো বরাদ্দও
নেই।’
তবে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল হুদা বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন অধ্যাদেশ ২০০৮ অনুযায়ী অনুমোদনহীন ও পুরনো ভবন অপসারণের দায়িত্ব ডিসিসি’র, রাজউকের নয়। নগর উন্নয়ন আইন ১৯৫৩ অনুযায়ী, রাজউকের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে নগর পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও উন্নয়ন তদারকি। তাই রাজউককে দিয়ে এসব ভবন অপসারণ করাতে হলে আগে আইন সংশোধন করতে হবে।’
সৌজন্যে: দৈনিক মানবকণ্ঠ
04.10.12
No comments:
Post a Comment