প্রতিষ্ঠার এক বছর অতিবাহিত হলেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অগ্রগতি নেই। অথচ চলতি অর্থবছর (২০১২-১৩) ডিএনসিসির এক হাজার ৯৬৬ কোটি টাকার প্রথম বাজেটে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রয়েছে এক হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, এক শ্রেণীর কর্মকর্তা কর্মচারীর লুটপাট, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে কর্পোরেশনটির কাজকর্ম গতিহীন হয়ে পড়েছে।
ডিএনসিসির নাগরিক সুবিধার মান নিয়ে নগরবাসীর রয়েছে নানা অভিযোগ। আর কূটনৈতিক জোন হিসেবে পরিচিত রাজধানীর অভিজাত আবাসিক গুলশান-বারিধারা এলাকা পড়েছে এ কর্পোরেশনের আওতায়। কর্পোরেশনের আওতায় কিছু কিছু এলাকার স্যুয়ারেজ লাইন, ঢাকনা ড্রেন ও সার্ফেজ ড্রেন যথাযথ পরিষ্কার না করায় একটু বৃষ্টিতে ময়লাযুক্ত দুর্গন্ধ পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকে। আর ভাঙাচোরা রাস্তা, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তূপ ও মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মহাখালী, তেজগাঁও, উত্তরা, বনানীসহ কর্পোরেশনের অধিবাসীরা। বেশিরভাগ রাস্তার পিচ উঠে খানাখন্দে ভড়ে গেছে। কিন্তু এসব কাজের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর তেমন গুরুত্ব নেই। এমনকি প্রায় দিনই দুপুরের পরে তিনি অফিসে থাকেন না। এমন অভিযোগ রয়েছে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নিয়েও। ডিএনসিসির একাধিক কর্মচারী-কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে প্রতিষ্ঠানটির এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা চলছেন নিজ ইচ্ছে মতো। আর অধিকাংশ কর্মকর্তা ঠিকমতো অফিসও করেন না।
২০১১ সালের ডিসেম্বরে ডিএনসিসির প্রথম প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী। এক দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করায় খোরশেদ আলম চৌধুরী ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে ১৮০ দিন দায়িত্ব পালন করেন। এরপর প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ পান শাহজাহান আলী মোল্লা। তিনি ৬ মাস দায়িত্ব পালনের পর গত ৩ ডিসেম্বর কর্পোরেশনের তৃতীয় প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাহমুদ রেজা খান। এছাড়া কর্পোরেশনটির প্রথম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম। তিনি ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্বে থাকার পর গত ২ নভেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ পান। আর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী হিসাবে নিয়োগ পান সরকারের যুগ্ন সচিব বিএম এনামুল হক। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগের প্রধান কর্মকর্তারা দায়িত্বে রয়েছেন প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া সামারিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক বলেন, ‘আমি এখানে নিয়োগ পাওয়ার আগে কীভাবে চলেছে তা আমার জানার কথা নয়। তবে আমরা সকলে মিলেই নগরবাসীকে দ্রুত সেবা দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
http://manobkantha.com/details_news.php?id=101172&&%20page_id=%206
No comments:
Post a Comment