Saturday, January 5, 2013

অবশেষে হাতিরঝিল থেকে সরছে বিজিএমইএ ভবন

অবশেষে হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ী প্রকল্প এলাকা থেকে নিজেদের ভবন সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। শর্তসাপেক্ষে ভবনটি সরাতে সম্মত হয়েছে সংগঠনটি। এরই মধ্যে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএর ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে রাজউক সূত্রে জানা গেছে।
বিজিএমইএ ভবনের সামনের কিছু অংশ দেবে যাওয়া ও বেগুনবাড়ী খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় রাজউকের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন বিজিএমইএ নেতারা। এসব বৈঠকে ভবনটি সরিয়ে নেয়ার শর্ত হিসেবে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিকল্প জায়গা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার শর্ত দেয়া হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে। নতুন ভবন নির্মাণের পর সংগঠনটির আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরানোর পর বিদ্যমান ভবনটি ভেঙে ফেলা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএর কোনো আপত্তি থাকবে না।
হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক ও রাজউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এএসএম রায়হানুল ফেরদৌস এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, প্রকল্প এলাকা থেকে ভবন অপসারণের জন্য বিজিএমইএর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। এরই মধ্যে উত্তরায় সংগঠনটির ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিগগিরই সমাধানে আসা যাবে। বৃহত্তর স্বার্থে বিজিএমইএ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জানিয়েছে— রাজউক থেকে পছন্দমতো জায়গা দেয়া হলে তারা ভবনটি সরিয়ে নিতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে উত্তরায় সংগঠনের জন্য একটি আলাদা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজউক। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে সম্মতির কথা জানালেও এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি বিজিএমইএ। সংগঠনের সহসভাপতি ফারুক হাসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারধীন থাকায় এ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা যাবে না। উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ঢাকার বিভিন্ন খালের পানিপ্রবাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় বেগুনবাড়ী খালপাড়ে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনটি ভেঙে ফেলার বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ভবনটি ভেঙে ফেলার দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি দেয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। ভবনটি নির্মাণাধীন অবস্থায় ২০০৪-০৫ সালে বেগুনবাড়ী খাল এলাকায় রাজউকের ১৩ একর জমিসহ রেলওয়ে এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) পুরো জায়গা নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল সমীক্ষা করে।
এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, খাল এলাকায় কীভাবে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন করা যায় তার দিকনির্দেশনা দেয়া। সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজিএমইএ ভবনটি বেগুনবাড়ী খালের গতিপথে বাধা হিসেবে কাজ করছে। ভবনটি ওই এলাকার পরিবেশের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
হাতিরঝিল প্রকল্পের উপদেষ্টা ইকবাল হাবিব বলেন, ড্রেনেজব্যবস্থা ও কন্টিনিউ ওয়াটার বডি— এ দুটি ক্ষেত্রে ভবনটি দৃষ্টিকটু এবং অবশ্যই বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। তাই প্রকল্প এলাকা থেকে ভবন সরানোর কোনো বিকল্প নেই।
তবে বিজিএমইএর কাছ থেকে অধিগ্রহণ করা পুরো ভবন ভাঙার কাজ ব্যয়বহুল হওয়ায় এর কিছু অংশ ভেঙে খালের পানির প্রবাহ ও জলাধার নির্মাণ উপযোগী করে সংস্কার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোনারগাঁও হোটেলের পাশে বেগুনবাড়ী খালে ভবন নির্মাণের জন্য ১৯৯৮ সালে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কাছ থেকে জমি কেনে বিজিএমইএ। নির্মাণ করে সুউচ্চ বাণিজ্যিক এ ভবন। ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর ভবনটির উদ্বোধন করা হয়। ভবনটি খালের মাঝামাঝি অবস্থান হওয়ায় পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
পরে জমি কেনায় অনিয়ম, জলাধার আইন লঙ্ঘন এবং রাজউকের অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মাণের জন্য ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ভবনটি ভাঙার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ৫ এপ্রিল ছয় সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেন আপিল বিভাগ। হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে ভবনটি সরিয়ে ফেলতে বরাবরই বিভিন্ন পক্ষের চাপ ছিল। গত নভেম্বরে রাজউক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রকল্প কার্যালয়ে এক বৈঠকে শর্তসাপেক্ষে ভবনটি সরিয়ে নিতে রাজি হয় বিজিএমইএ।

No comments: