গণভোট না থাকায় জনমতযাচাইয়ের সুযোগ নেই
সামরিক শাসকরা গণভোটের বিধানের অপব্যবহার করেছেন
সালেহউদ্দিন
দেশের
বিদ্যমান সংবিধানে গণভোটের কোন বিধান নেই। ফলে জাতীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ
কোন ইস্যুতে জনমতামত যাচাইয়ের কোন সুযোগ নেই। এমনকি সংবিধানের
প্রস্তাবনা, মূলনীতি, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনে গণভোটের যে বিধান ছিলো
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেটিকেও বাতিল করে দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত,
পাকিস্তানসহ গণতান্ত্রিক প্রায় সবদেশে গণভোটের বিধান থাকলেও বাংলাদেশের
সংবিধানে তা আর নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইতিপূর্বে সামরিক শাসকরা
তাদের শাসন জায়েজের জন্য প্রহসনের নির্বাচন করে বাংলাদেশে গণভোটের বিধানের
অপব্যবহার করেছে। কিন্তু যদি দেশে কখনও গুরুতর জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়
বা যদি এমন কোনো ক্রান্তিকাল হাজির হয় যখন এক বা একাধিক ইস্যুতে জনমতামত
যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়তে পারে—সে রকম ক্ষেত্রে তা করার কোনো সুযোগ
সংবিধানে রাখা হয়নি।
জাতীয় সংসদে ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন-২০১১ পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে গণভোটের বিধান বাতিল অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রসঙ্গ। কিভাবে সংবিধানের সংশোধন হবে তা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা আছে, 'এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও (ক) সংসদের আইন দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, (অ) অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ণ শিরোনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না;
(আ) সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না;
(খ) উপরিউক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।'
এই অনুচ্ছেদের পর (১ক) নামে একটি উপ-অনুচ্ছেদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এতে বলা হয়, 'দফায় যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও এই সংবিধানের প্রস্তাবনার অথবা ৮ (মূলনীতি), ৪৮ (রাষ্ট্রপতির নিয়োগ সংক্রান্ত) ও ৫৬ (প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী নিয়োগ সংক্রান্ত) অনুচ্ছেদ অথবা এই অনুচ্ছেদের কোন বিধানাবলীর সংশোধনের ব্যবস্থা রহিয়াছে এইরূপ কোন বিল উপরিউক্ত উপায়ে গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের ৭ দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন কি করিবেন না এই প্রশ্নটি গণভোটে প্রেরণের ব্যবস্থা করিবেন।'
পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিধানটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা সংবিধান থেকে মুছে ফেলা হয়।
প্রসঙ্গত পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গণভোটের বিধানটি বাতিলের নির্দেশ দেয়। যদিও আপিল বিভাগ একদিকে পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেছে অন্যদিকে ওই সংশোধনীর কিছু বিধান রেখেও দিয়েছে। গণভোটের বিধান বাতিল সম্পর্কে আপিল বিভাগের অভিমত ছিলো- এই বিধানের মাধ্যমে সামরিক শাসকরা তাদের শাসনকে জায়েজ করেছে এবং 'হ্যাঁ-না' মার্কা প্রহসনের ভোটের মাধ্যমে তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করেছে।
জাতীয় সংসদে ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন-২০১১ পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে গণভোটের বিধান বাতিল অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রসঙ্গ। কিভাবে সংবিধানের সংশোধন হবে তা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা আছে, 'এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও (ক) সংসদের আইন দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, (অ) অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ণ শিরোনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না;
(আ) সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না;
(খ) উপরিউক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।'
এই অনুচ্ছেদের পর (১ক) নামে একটি উপ-অনুচ্ছেদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এতে বলা হয়, 'দফায় যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও এই সংবিধানের প্রস্তাবনার অথবা ৮ (মূলনীতি), ৪৮ (রাষ্ট্রপতির নিয়োগ সংক্রান্ত) ও ৫৬ (প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী নিয়োগ সংক্রান্ত) অনুচ্ছেদ অথবা এই অনুচ্ছেদের কোন বিধানাবলীর সংশোধনের ব্যবস্থা রহিয়াছে এইরূপ কোন বিল উপরিউক্ত উপায়ে গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের ৭ দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন কি করিবেন না এই প্রশ্নটি গণভোটে প্রেরণের ব্যবস্থা করিবেন।'
পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিধানটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা সংবিধান থেকে মুছে ফেলা হয়।
প্রসঙ্গত পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গণভোটের বিধানটি বাতিলের নির্দেশ দেয়। যদিও আপিল বিভাগ একদিকে পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেছে অন্যদিকে ওই সংশোধনীর কিছু বিধান রেখেও দিয়েছে। গণভোটের বিধান বাতিল সম্পর্কে আপিল বিভাগের অভিমত ছিলো- এই বিধানের মাধ্যমে সামরিক শাসকরা তাদের শাসনকে জায়েজ করেছে এবং 'হ্যাঁ-না' মার্কা প্রহসনের ভোটের মাধ্যমে তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করেছে।
http://ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDFfMTZfMTNfMV8xXzFfMTE3NTY=
No comments:
Post a Comment