Wednesday, January 16, 2013

বেগুনবাড়ী-হাতিরঝিল প্রকল্প: স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন

এম এ বাবর:
নয়নাভিরাম ও অভূতপূর্ব দৃশ্যপটে ঘেরা বেগুনবাড়ী-হাতিরঝিল প্রকল্প উন্মুক্ত হলেও এর সংযোগ সড়কের ভয়াবহ যানজট নগরবাসীর জন্য নতুন বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, এটি উন্মুক্ত হলে নগরীর একাংশের ক্রমবর্ধমান যানজট কমবে। একই সঙ্গে এটি হবে নাগরিকদের অবকাশ যাপন কেন্দ্র। বাস্তবে প্রকল্প এলাকা দেখতে বিদেশি কোনো স্থাপনা মনে হলেও কিছু কিছু অব্যবস্থাপনার কারণে এর নান্দনিকতা হারিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।
২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাতিরঝিল প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। উদ্বোধনের পরের দিন থেকেই প্রকল্পের রাস্তায় হালকা যানবাহন চলাচল শুরু হয়। প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন। সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে প্রকল্প এলাকা।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাতিরঝিল প্রকল্পে যানবাহন ঢুকতে ও বের হতে কারওয়ান বাজার থেকে এফডিসি মোড় হয়ে মগবাজার মোড় পর্যন্ত (টঙ্গী ডাইভারশন রোড), বাংলামোটর মোড়ের আগে, গুলশান শুটিং ক্লাবসংলগ্ন লিংক রোড ও রামপুরা ব্রিজসংলগ্ন রাস্তায় (রামপুরা-বাড্ডা সড়ক) সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
নতুন কোনো প্রকল্পের শুরুতে এমনটি হতে পারে উল্লেখ করে নগর গবেষক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণেও যানজট সৃষ্টি হতে পারে। তবে কি কারণে এমনটি হচ্ছে তা চিহ্নিত করে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে এটি দেখভালের জন্য কঠোর তদারকি থাকতে হবে। নইলে যানজট থেকে শুরু করে পরে এখানে আরো অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।’ আর এতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন বিঘিœত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে প্রকল্পের প্রবেশদ্বারে যানজটের দায়ভার নিতে চায় না এর বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনের (পশ্চিম) ১৬ ইঞ্জিনিয়ার্স কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, ‘মূল প্রকল্পের পরিকল্পনা ও ডিজাইন (নকশা) করেছে রাজউক ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা। কি করলে কোথায় যানজট হবে বা হবে না এটা তারাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডিজাইন অনুমোদন করেছেন। আমরা শুধু তাদের নকশা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেছি।’ বাকি কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘খাল খনন, ব্রিজ ও রাস্তা তৈরিসহ প্রকল্পের মূল কাজ হয়ে গেছে। এখন শুধু সৌন্দর্য বর্ধন ও বিনোদনমূলক কাজগুলো চলছে। গত বছর কাজগুলো দেয়া হয়েছে বলে এগুলো চলমান রয়েছে।’ তবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। হাতিরঝিল সংযোগ সড়কে যানজটের কথা স্বীকার করে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী (রাজউক) এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস বলেন, ‘মূল সড়কের সঙ্গে প্রকল্পের সংযোগ সড়কে যে সামান্য যানজট হচ্ছে তা সাময়িক। এখানকার ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার এবং দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে গেলেই এ সমস্যা আর থাকবে না।’ যানজট নিরসনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘মগবাজার থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া পান্থপথ থেকে হাতিরঝিলের সঙ্গে একটি আন্ডারপাস করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দুটি কাজ বাস্তবায়ন হলে তখন আর হাতিরঝিল প্রকল্পের সংযোগের জন্য টঙ্গী ডাইভারশন রোডে যানজট হবে না।’
http://www.manobkantha.com/archive_details.php?id=102955&&%20page_id=%206&issue_date=%202013-01-14

No comments: