গভীর নলকূপ বসানো ও প্রতিস্থাপনে ঢাকা ওয়াসা বছরে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয় করলেও রাজধানীর পানি সংকট নিরসনে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তাই এবার পানি সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ওয়াসা (পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ)। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি পরিশোধন করে সরবরাহ করা হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এক গবেষণায় বলা হয়, গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভ থেকে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন কারায় প্রতি বছর রাজধানীতে পানির স্তর তিন মিটার করে নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই ভূগর্ভের উৎস থেকে পানি উত্তোলন দ্রুত কমিয়ে না আনলে আগামী দুই যুগের মধ্যে রাজধানীতে বড় ধরনের পানি বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন ভূবিজ্ঞানীরা।
রাজধানীবাসীর চাহিদা অনুযায়ী নিরাপদ পানি সরবরাহ করা ঢাকা
ওয়াসার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা
পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে
নেমে যাওয়া ও পরিবেশগত কারণে রাজধানীর পানির চাহিদা মেটাতে সারফেস ওয়াটার
(ভূ-উপরিস্থ) পরিশোধনের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া গভীর নলকূপের
মাধ্যমে পানি উত্তোলন একটি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়
বেশি। কিন্তু ভূ-উপরিস্থ পানি পরিশোধন প্রকল্প একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা
এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় খুবই কম।’একটি পানি শোধনাগারের কর্মক্ষমতা ৩০ থেকে ৫০ বছর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ফেজ-১ ও ২ সহ ৫টি পানি শোধনাগার থেকে মোট চাহিদার ৭৮ ভাগ বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন করা হচ্ছে। বাকি ২২ ভাগ ৬৩২টি গভীর নলকূপ থেকে উত্তোলন করা হয়। খুব শিগগিরই আরো দুটি পানি শোধনাগারের কাজ শুরু হবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকৌশলী তাকসিম এ খান জানান, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরুর ব্যাপারে কার্যক্রম চলছে। এ পর্যায়ে কাজ সম্পন্ন হলে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি শোধন করে নগরীতে সরবরাহ করা হবে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় চার হাজার কোটি টাকা। এছাড়া গ্রীষ্ম মৌসুমে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি অতিমাত্রায় দূষণের কারণে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-১ ও নির্মাণাধীন ফেজ-২-এর পরিশোধিত পানিতে গন্ধজনিত সমস্যা দূর করতে শোধনাগারের ফেজ-২-এর অধীনে দুটি ফেজের জন্যই প্রাক-শোধন ইউনিট (প্রি-ট্রিটমেন্ট ইউনিট) স্থাপন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ফেজ-১-এর জন্য নির্মিত প্রাক-শোধন ইউনিটটির চালু করা হয়েছে।
এদিকে পদ্মা নদী থেকে পানি এনে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যে চীনের আর্থিক সহায়তায় পদ্মা (জশলদিয়া) পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ঢাকা ওয়াসা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পদ্মা নদীর মুন্সীগঞ্জ-জশলদিয়া থেকে ৩৩ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে রাজধানীতে পানি সরবরাহ করা হবে। তিন হাজার ৩৩৬ দশমিক ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এ প্রকল্প ২০১৬ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে মেঘনা নদী থেকে পানি এনে খিলক্ষেত পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নগরীতে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের ব্যাপারে দাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা ও অন্যান্য কার্যক্রম চলছে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় পাঁচ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে সাভার উপজেলার তেঁতুলঝরা-ভাকুর্তা এলাকায় ওয়েলফিল্ড নির্মাণের লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াসা একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে রাজধানীতে দৈনিক ১৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এ প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মত হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৯৭.৩৯ কোটি টাকা।
http://www.manobkantha.com/details_news.php?id=104378&&%20page_id=%206
No comments:
Post a Comment